বাংলাদেশের ডেইরি শিল্পের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান মিল্কভিটা। যাকে ১৯৭৭ সালে বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড নামে উল্লেখ করা হয়। অবশ্য প্রতিষ্ঠানটির ভিত্তি গড়ে উঠেছিল ব্রিটিশ আমলে- ১৯৪৬ সালে।
এরপর বিভিন্ন সময় বিভিন্ন নামে কার্যক্রম চললেও ১৯৭৭ সাল থেকেই মিল্কভিটা নামে পরিচিতি হয়ে আসছে। মিল্কভিটা দেশের মানুষের পুষ্টি ও আমিষের বড় একটি চাহিদা মেটাচ্ছে। আবার বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলো যাতে বাজার সিন্ডিকেট করে দুধের দাম বাড়াতে না পারে সে ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নিয়েছেন এস এম আমীর হামজা শাতিল। সত্যি কথা বলেছেন সময়ের আলোর সঙ্গে। তুলে ধরেছেন মিল্কভিটার বর্তমান অবস্থা, আগামীর পরিকল্পনাসহ বিভিন্ন দিক। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন সময়ের আলোর সিটি এডিটর এসএম আলমগীর।
সময়ের আলো : মিল্কভিটা ডেইরি সেক্টরে বাংলাদেশের একটা স্বনামধন্য প্রতিষ্ঠান। কয়েক মাস হলো আপনি প্রতিষ্ঠানটির চেয়ারম্যান হিসেবে যোগ দিয়েছেন। প্রথম বিষয় হচ্ছে- মিল্কভিটার বর্তমান অবস্থাটা কী?
আমীর হামজা শাতিল : শুরুতেই আমি মিল্কভিটার পরিচয়টা আপনাকে দেই। মিল্কভিটা প্রথমে ছিল সমবায় সমিতি। এটা সমবায়ীদের প্রতিষ্ঠান। প্রাথমিকভাবে পাবনা-সিরাজগঞ্জ এলাকার কিছু মানুষ, যারা এলাকায় গরু পালন করে তাদের নিয়ে একটা সমিতি তৈরি করা হলো। এটা প্রাথমিক সমিতি। অনেকগুলো প্রাথমিক সমিতি একসঙ্গে হয়ে একটা কেন্দ্রীয় সমিতি গঠন করা হয়। ৫০-৬০টা কেন্দ্রীয় সমিতি একসঙ্গে হয়ে করা হয় একটা জাতীয় সমিতি। মিল্কভিটা মূলত আমাদের ব্র্যান্ড নেইম। মূল নাম হচ্ছে- বাংলাদেশ দুগ্ধ উৎপাদনকারী সমবায় ইউনিয়ন লিমিটেড বা মিল্কভিটা।
এ প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান আমি। এই ইউনিয়নটা দেখভাল করার দায়িত্ব হচ্ছে সমবায় মন্ত্রণালয়ের। সমবায় মন্ত্রণালয়ের অধীনে যখন আমরা এলাম তখন সরকার বিভিন্নভাবে মিল্কভিটাকে প্রণোদনা দেয়। কারণ হচ্ছে- এই প্রতিষ্ঠানটা গ্রামীণ জনপদের যারা দুধ উৎপাদন করে তাদের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করছে। তাদের খামারের দুধ গ্রাম থেকে শহরে এনে বিক্রি করছে। এভাবে মিল্কভিটা শহর থেকে টাকা গ্রামের প্রান্তিক চাষির কাছে নিয়ে যাওয়ার ব্যবস্থা করেছে। মূলত এ জন্যই মিল্কভিটার জন্ম হয়েছিল।
এরপর বিভিন্ন সময় নানা কারণে প্রতিষ্ঠানটি ব্যর্থ হলে প্রতিষ্ঠানের উন্নতি নিশ্চিত করার জন্য সরকার বিনিয়োগ করেছে এখানে। বর্তমানে মিল্কভিটায় সরকারের শেয়ার ৭৬ শতাংশ, আর সমবায়ীরা ২৪ শতাংশ শেয়ারহোল্ডার। সুতরাং এটা কিন্তু পুরোপুরি বাংলাদেশ সরকারের প্রতিষ্ঠান নয়। শুধু তাই নয়, রাষ্ট্র যে টাকাটা মিল্কভিটাকে দিয়েছে সেটির ইকুইটি নেয়নি। সরকার এখনও আমাকে লোন দিয়ে রাখছে। সুতরাং সরকার অংশীদার থাকলেও মিল্কভিটা কিন্তু সমবায়ীদের প্রতিষ্ঠান। এই হলো এই প্রতিষ্ঠানের মূল পরিচিতি।
মিল্কভিটার কার্যক্রম কীভাবে চলছে এবং এর মূল লক্ষ্য কী?
আসলে মিল্কভিটার প্রথম টার্গেট ছিল- গ্রামীণ জনপদে যেসব মানুষ দুধ উৎপাদন করে সেই দুধের ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা। শহরের মানুষের যে পুষ্টির ঘাটতি আছে সেই পুষ্টির ঘাটতি নিশ্চিত করা এবং একটা মেলবন্ধন তৈরি করা। এরপরে আস্তে আস্তে প্রতিষ্ঠানের কলেবর বাড়ল এবং বেসরকারি খাতের অন্য কম্পিটিটররা এলো। অবশ্য বাজারে মিল্কভিটা ব্র্যান্ড হিসেবে নিজের শক্ত জায়গা করে নিয়েছে। মিল্কভিটা নামটাই আসলে মানুষের কাছে পরিচিতি পেয়ে যায়।
মিল্কভিটা মার্কেটে ব্যালেন্স ক্রিয়েট করে, যাতে বেসরকারি কোম্পানিগুলো কখনো যেন এই সেক্টরে মনোপলি ব্যবসা করতে না পারে। শিশু খাদ্যের ওপরে হঠাৎ করে যেন দাম বাড়িয়ে দিতে না পারে। সাপ্লাই চেইনে যেন কোনো ঘাপলা না করতে পারে। সরকারের ৮-১০টা প্রতিষ্ঠানের মতো আমরাও এই ব্যালেন্সটা করি। আমরা দাম ১০০ টাকা রাখলে মার্কেটে ১০০ টাকা থাকে। আমরা ১২০ টাকা করার সঙ্গে সঙ্গে অন্যরা ১২০ টাকা করবে। আমরা বাজারে না থাকলে অন্যরা ১৫০ টাকায় দুধ বিক্রি করত। কারণ তখন বাধা দেওয়ার কেউ নেই। আমরা আসলে টিসিবি যে কাজটা করে মার্কেট ব্যালেন্স করে, সেভাবে আমরাও বাজারে দুধের দামে ভারসাম্য রাখতে ভূমিকা রাখি। শুধু তাই নয়, দরিদ্র অথবা স্বল্প আয়ের মানুষের কাছে পুষ্টিকর দুধ সহজলভ্য করার চেষ্টা করি। এর ভেতরে আমরা কখনো লাভ করি, কখনো লস করি।
এভারেজে যে প্রতিষ্ঠান খুব খারাপ পজিশনে ছিল কখনো তাও না। মিল্কভিটাকে কিন্তু কখনো সরকারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে বেতন দিতে হয়নি। মিল্কভিটা ৭৫ কোটি টাকা এভারেজে বেতন দেয় প্রতি মাসে। ১ হাজার ৮২৮ জন জনবল রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। এই ৭৫ কোটি টাকা মিল্কভিটা লাভ করেই দেয়। তবে বিগত বছরগুলোতে অনেক সংকটে পড়তে হয়েছে।
এখানে সরকারি বিভিন্ন অনুদান ছিল, সরকারের বিভিন্ন প্রজেক্ট ছিল। প্রজেক্টের টাকায় মেশিন আমদানি করে ফ্যাক্টরিগুলোতে সেটআপ করা হলেও এগুলো চালু করা যায়নি। মেশিন কেনা হয়েছে কিন্তু কমিশনিং না করে ফেলে রাখা হয়েছে। এতে প্রতিষ্ঠানের অনেক টাকা নষ্ট হয়েছে।
আপনি দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব অনিয়ম-দুর্নীতি রোধে কী ধরনের পদক্ষেপ নিচ্ছেন এবং আপনার আগামীর পরিকল্পনা কী?
প্রথম কথা হলো- বর্তমান সরকার আমাকে এক বছরের জন্য নিয়োগ দিয়েছে। এই সময়টাতে আসলে নতুন প্রজেক্ট করে সেই প্রজেক্টের আউটকাম আনা সম্ভব নয়। তো আমরা আসলে এই এক বছরের ভেতরে কোনো নতুন প্রজেক্ট করতে চাচ্ছি না। আমরা যেটা চাই- আমরা প্রতিষ্ঠানে গুড গভর্ন্যান্স ইনিশিয়েট করব। আমরা যেটা করছি সেটা হচ্ছে- আমার ইন্টারনাল সিস্টেমের ভেতরে যে লুপহোল ছিল তা বন্ধ করছি। আমি আসার পরে এক লিটার দুধও ক্রয় বাড়াইনি, বিক্রয়ও বাড়াইনি।আমার যা এফডিআর ছিল, আমার যা এসেট ছিল এখনও একদম হুবহুই আছে। আমি গত ১ এপ্রিল দায়িত্ব নেওয়ার আগে ৩০ মার্চে যা ব্যালেন্সশিট ছিল আজকেও ব্যালেন্সশিট একই রকম আছে।
তবে ৩ কোটি ১০ লাখ টাকা গত তিন মাসে আমাদের চলমান প্রফিট হয়েছে। এটা কীভাবে আমি করতে পেরেছি- শুধু মিল্কভিটার ইন্টারন্যাল লুপহোলগুলো বন্ধ করেছি। আমি বাড়তি খরচ কমিয়েছি। হয়তো গাড়ি পাঁচটা বেশি চলছিল, সেখান থেকে কমিয়েছি। শ্রমিক-কর্মচারীরা কাজ না করে বেতন নিচ্ছিল, সেটি বন্ধ করেছি। কেউ হয়তো ওভারটাইম বেশি নিয়ে যাচ্ছিল, সেটি বন্ধ করেছি। এভাবে সিস্টেম লসগুলো কাভার করে আমরা প্রতি মাসে এক কোটি টাকার বেশি প্রফিট আনতে পেরেছি। তা হলে আমি যদি সিস্টেম যেভাবে চলছে এভাবেও চালাই তবু আশা করছি আমরা আগামী বছর ৩০ কোটি টাকার বেশি প্রফিট করতে পারব শুধু সিস্টেম লস মিনিমাইজ করে।
মিল্কভিটা বর্তমানে কী পরিমাণে দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্য বাজারজাত করছে?
এই চিত্রটা আমি আপনাকে আসলে এক্সাক্ট ফিগার বলতে পারব না, কারণ এটা ব্যবসার এক ধরনের পলিসি এবং সিক্রেট বিষয়। বিষয়টি পত্রিকায় লিখলেই আমার যারা কম্পিটিটর আছে ওরা আমার ভ্যালু জেনে ফেলবে। তবে গড়পড়তা একটা কথা বলতে পারি- মোটামুটি এখন টোটাল দুগ্ধজাত পণ্যের প্রোডাক্টের ৪০ শতাংশ আমরা সেল করি । আর টোটাল মার্কেটের কাঁচা দুধ যেটা বিক্রি হয় তার ৪০ থেকে ৪৫ শতাংশ মিল্কভিটার দখলে। দেশে গুঁড়া দুধের যে ১০০ হাজার কোটি টাকার মার্কেট, এখানে আমাদের অবস্থান খুবই ছোট। আমরা এখানে হয়তো ২০০ থেকে ৩০০ কোটি টাকা সেল করি। এ ছাড়া দুগ্ধজাত অন্য যে পণ্য আছে যেমন- লাবাং, মাঠা, দই এগুলোতে আমরা ২৫ শতাংশ মার্কেট শেয়ার হোল্ড করি।
দুগ্ধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের বাজারে আগামীতে মিল্কভিটার অবস্থান কোথায় নিতে চান?
আসলে আমরা যেটা করছি সেটা হচ্ছে- আমাদের একটা ব্র্যান্ড ভ্যালু ক্রিয়েট করার চেষ্টা করছি। এখন আমরা ভ্যানে করে পণ্য বিক্রি করি। আমাদের স্থায়ী শোরুমের সংখ্যা খুব কম। তো আমরা ব্র্যান্ড পজিশনিংটা চেঞ্জ করার চেষ্টা করছি। আমরা এখন চেষ্টা করছি এটাকে যেন হাই স্ট্রিট ব্র্যান্ডে বানাতে পারি। আমাদের সেলস ভালো, আমাদের প্রোডাক্ট ভালো কিন্তু আসলে ভিজিবিলিটি নেই মার্কেটে। আমরা ওই জায়গাটায় আসতে চাই। তবে আমরা প্রচারে পিছিয়ে আছি। এর কারণে হচ্ছে- প্রচারের জন্য পর্যাপ্ত বাজেট দেওয়া হয় না আমাদের। এটা একটা বড় সমস্যা। আসলে প্রচার ছাড়া তো আপনি মানুষের কাছে আপনার মেসেজ পৌঁছাতে পারবেন না।
আপনি শুরুতে যেটা বলেছিলেন যে আপনারা ক্ষুদ্র খামারিদের নিয়ে কাজ করে, তাদের ন্যায্য মূল্যটা নিশ্চিত করছেন। বাংলাদেশের এই ডেইরি শিল্পের ক্ষুদ্র খামারিদের স্বার্থ রক্ষা করার ক্ষেত্রে মিল্কভিটা আসলে কতটুকু ভূমিকা রাখছে?
মিল্কভিটা যেটা করে সেটা হচ্ছে- মিল্কভিটা খামারিকে তার বিপদ থেকে বাঁচায়। যেমন ধরেন- আজকে বৃষ্টি হচ্ছে, কোনো কোম্পানি দুধ কিনবে না। কারণ তার আগামীকালকে বিক্রি নেই বা বিক্রি করতে পারবে না। তা হলে তারা দুধ বিক্রি করবে কোথায়। এই পরিস্থিতিতে মিল্কভিটা যেটা করে সেটা হচ্ছে- আজকের দিনেও মিল্কভিটা গতকালকের রেটেই দুধ কিনবে।
আজকে বাজারে কেউ নেই বিধায় ৪০ টাকার দুধ ৩৫ টাকায়ও কিনবে না। শুধু তাই নয়, খামারে দুধ দুবেলা হয়- সকালে এবং বিকালে। সকালের দুধটা সবাই কেনে। কিন্তু বিকালের দুধটা চাষির কাছ থেকে কেনার কেউ থাকে না। কারণ সবার এই লেভেলের ক্যাপাসিটি নেই যে সে দুধ কিনে ওখানে স্টোর করবে। মিল্কভিটার ৬৩ চিলিং পয়েন্ট আছে। মিল্কভিটা বিকালের এই দুধ কালেক্ট করে এই চিলিং পয়েন্টে সংরক্ষণ করে। আবার পরের দিন সকালের দুধ কিনে একসঙ্গে পাঠায়।
মিল্কভিটা খামারিকে এখানেই বাঁচাচ্ছে। মিল্কভিটা যদি বিকালের দুধটা না কিনে তা হলে বিকালের দুধটা হাফ প্রাইসে বেচতে হবে। মিল্কভিটা নিজের পয়সা খরচ করে চিলিং সেন্টার স্থাপন করে। দেখেন বাংলাদেশের সব জায়গায় অলমোস্ট আমাদের কাভার আছে। চিলিং সেন্টার আছে। দুধ কিনে স্টোর করি, তা না হলে বিকালের দুধ কোথাও বিক্রি করতে পারত না। কারণ গ্রামে তো বিকালে হাট নেই। হাট সকালে, বাজার সকালে। সুতরাং আমরা খামারিকে লোকসানের হাত থেকে রেহাই দিয়ে থাকি।
এর বাইরে খামারিদের জন্য কি মিল্কভিটা কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করে বা অন্য কোনো পদক্ষেপ নিয়ে থাকে?
হ্যাঁ, আমরা আরও কিছু উদ্যোগ নিয়ে থাকি খামারিদের জন্য। যেমন আমরা কৃষককে আলাদা উন্নত জাতের বীজ দেই ফ্রি। বীজ বলতে গরুর উন্নত জাতের ‘সিমেন’, যা আমরা খামারিদের দিয়ে থাকি। তা ছাড়া আমরা খামারিদের বাথান দেই, যেখানে তারা গরু চড়াতে পারবে। আর এটা দেওয়া হয় সম্পূর্ণ বিনা খরচে। তা ছাড়া ঘাস উৎপাদন করে দেই- সেটিও বিনামূল্যে। ঘাসের জমি দেই ফ্রি। আমাদের ভেটেরিনারি চিকিৎসক আছে প্রায় ৭০ জন। তারা বিভিন্ন জায়গায় ভাগ হয়ে চিকিৎসা প্রদান করে ফ্রিতে। আমরা বছরে দুবার গুরুত্বপূর্ণ রোগের ভ্যাকসিন দিয়ে থাকি সম্পূর্ণ বিনা খরচে। রেগুলার ওষুধ দেই ফ্রি এবং খাদ্য কমমূল্যে সরবরাহ করি।
এই কাজগুলো আমরা করি বিধায় কৃষক ঠিকমতো তার খামার পরিচালনা করতে পারে। এর জন্য আমরা কৃষককে ১০০০ একর জমি দিয়েছি, যাতে সেখানে তারা ঘাস উৎপাদন করে গরুকে খাওয়াতে পারে। তা ছাড়া মিল্কভিটার ১২০০ একর জমি বিভিন্ন কৃষককে দেওয়া আছে। এক একর, দুই একর, পাঁচ একর সমিতির আন্ডারে দেওয়া আছে। লিজ দেওয়া আছে সিরাজগঞ্জ, পাবনায়। পর্যায়ক্রমে বগুড়া এবং ফরিদপুর অঞ্চলে বিস্তৃত করার চেষ্টা করছি আমরা।
আপানি তো একটা ভিশন নিয়ে আসছেন। আপনি বললেন-এক বছরের জন্য সরকার দায়িত্ব দিয়েছে। মিল্কভিটাকে নিয়ে আপনার লক্ষ্য কী, কোথায় নিতে চান মিল্কভিটাকে?
আমার মূল লক্ষ্য হচ্ছে- মিল্কভিটার ব্র্যান্ড পজিশনিং ঠিক করা। মিল্কভিটা আসলে দেশের মেইন ব্র্যান্ড। কিন্তু সে ভিজিবল না মার্কেটে। তাকে মার্কেটে ভিজিবল করা। যতটুকু সম্ভব মিল্কভিটার মাধ্যমে ভোক্তার কাছে একদম খাঁটি দুধের জোগান দেওয়া। আমাদের দেশে পুষ্টির যে ঘাটতি আছে সেটি পূরণ করার চেষ্টা করা। যদিও পুরো চাহিদা পূরণ করা সম্ভব না কখনোই। কিন্তু আমি চেষ্টা করতে পারি যে এই ঘাটতিটা পূরণ করব। তা ছাড়া ন্যায্যমূল্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা কনজ্যুমার ও কৃষক পর্যায়ে। সর্বোপরি মিল্কভিটাকে রাষ্ট্রীয় স্মার্ট প্রতিষ্ঠানে পরিণত করা আমার প্রধান লক্ষ্য। মিল্কভিটাকে রাষ্ট্রীয় ব্র্যান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা করব।
ব্যস্ততার মাঝেও সময় দেওয়ার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
আপনাকেও ধন্যবাদ এবং আপনার মাধ্যমে সময়ের আলো পরিবারের সবাইকে আমরা পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাচ্ছি।
সময়ের আলো/এসএকে