বিগত কয়েক বছরে স্বাস্থ্য ও ফিটনেস জগতে যে কয়েকটি উপাদান সবচেয়ে বেশি আলোড়ন সৃষ্টি করেছে, তার মধ্যে রয়েছে ‘আপেল সাইডার ভিনেগার’ বা এসিভি। ওজন কমানো, ত্বকের উজ্জ্বলতা বৃদ্ধি থেকে শুরু করে রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ- সবখানেই রয়েছে এর গুণাগুণ।
আপেল সাইডার ভিনেগার?
আপেল সাইডার ভিনেগার হলো আপেলের রসের ফার্মেন্টেড করার প্রক্রিয়া। প্রথমে আপেলের রসে ইস্ট যোগ করে ভেতরের চিনিকে অ্যালকোহলে রূপান্তর করা হয়। দ্বিতীয় ধাপে বিশেষ ব্যাকটেরিয়া যোগ করে সেই অ্যালকোহলকে ‘অ্যাসিটিক অ্যাসিড’-এ পরিণত করা হয়। এই অ্যাসিটিক অ্যাসিডই হলো ভিনিগারের মূল কার্যকরী উপাদান, যা এর তীব্র টক স্বাদ ও গন্ধের জন্য দায়ী। বাজারের ফিল্টার করা পরিষ্কার ভিনিগারের চেয়ে ‘উইথ মাদার’ লেখা ঘোলাটে ভিনেগারকে বেশি স্বাস্থ্যসম্মত মনে করা হয়। কারণ এতে উপকারী ব্যাকটেরিয়া, এনজাইম এবং প্রোটিনের একটি স্তর থাকে, যা স্বাস্থ্যের জন্য দারুণ উপকারী।
রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণ : এসিভির সবচেয়ে বড় বৈজ্ঞানিক সুফল দেখা গেছে টাইপ-২ ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে। রাতে ঘুমানোর আগে বা কার্বোহাইড্রেট যুক্ত খাবার খাওয়ার পর ভিনেগার খেলে তা ইনসুলিনের কার্যকারিতা বাড়ায় এবং রক্তে হুট করে শর্করার মাত্রা বাড়তে দেয় না।
ওজন নিয়ন্ত্রণ ও মেদ হ্রাস : মেদ ঝরাতে অনেকেই সকালে খালি পেটে এটি পান করেন। গবেষণা বলছে, অ্যাসিটিক অ্যাসিড বিপাক প্রক্রিয়া বাড়িয়ে চর্বি জমতে বাধা দেয় এবং পেট ভরা থাকার অনুভূতি তৈরি করে। ফলে অতিরিক্ত খাবার খাওয়ার প্রবণতা কমে।
হজমশক্তির উন্নতি : যাদের গ্যাস্ট্রিক বা কম অ্যাসিডের কারণে হজমে সমস্যা হয়, তারা খাবারের আগে জলের সঙ্গে ভিনেগার মিশিয়ে খেলে উপকার পেতে পারেন। এটি পেটের ভেতরের অ্যাসিডের ভারসাম্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে।
ক্ষতিকারক ব্যাকটেরিয়া ধ্বংস : প্রাচীনকাল থেকেই ক্ষত পরিষ্কার করতে এবং খাবার সংরক্ষণে ভিনেগার ব্যবহৃত হয়ে আসছে। এটি শরীরে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়ার বংশবৃদ্ধি রোধ করতে পারে। ব্যবহারের সঠিক নিয়ম ও পরিমাপ উপকারী বলেই বোতল থেকে সরাসরি ভিনেগার মুখে ঢেলে দেওয়া মারাত্মক ভুল।
এটি ব্যবহারের কিছু নিয়ম রয়েছে-
জলে মিশিয়ে নিন : ১ গ্লাস (২৫০ মিলি) কুসুম গরম বা স্বাভাবিক জলে ১ থেকে ২ চা চামচ (৫-১০ মিলি) আপেল সাইডার ভিনেগার মিশিয়ে পান করাই যথেষ্ট।
স্ট্র ব্যবহার করুন : ভিনিগারের অ্যাসিড দাঁতের এনামেলের ক্ষতি করতে পারে। তাই এটি পান করার সময় স্ট্র ব্যবহার করা ভালো এবং পানের পর জল দিয়ে মুখ ধুয়ে ফেলা উচিত।
খাবারের আগে : ওজন কমাতে বা শর্করা নিয়ন্ত্রণে খাবার খাওয়ার ১৫-২০ মিনিট আগে এটি পান করা সবচেয়ে কার্যকরী। এ ছাড়া সালাদ ড্রেসিং হিসেবেও এটি চমৎকার।
সময়ের আলো/এসএকে