নওগাঁর ধামইরহাটে পারিবারিক কলহের জেরে মনিরা বেগম (২৬) নামের এক গৃহবধূকে ছুরির আঘাতে স্বামী বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। সোমবার (২৭ জুলাই) বেলা সাড়ে ১১টার দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স চত্বর পরিবার ও পরিকল্পনা অফিসের সামনে এ ঘটনা ঘটে। অতিরিক্ত রক্তক্ষরণের কারণে ওই গৃহবধূর ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় বলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসকের পক্ষ থেকে সময়ের আলোকে জানানো হয়।
নিহত ওই গৃহবধূ উপজেলার উমার ইউনিয়নের অমরপুর এলাকার মাসুদ হোসেনের মেয়ে। তাদের দুটি ছেলে সন্তান রয়েছে।
ধামইরহাট থানা পুলিশ জানায়, এ ঘটনায় ঘাতক ফরহাদ হোসেনকে (২৮) আটক করেছে ধামইরহাট থানা পুলিশ। তিনি জয়পুরহাটের পাঁচবিবি উপজেলার আটুল এলাকার হেলাল উদ্দিনের ছেলে। দীর্ঘদিন ধরে ঢাকা মিরপুর এলাকায় রিকশা চালাতেন। এবং সকালে তিনি ঢাকা থেকে শ্বশুরবাড়িতে এসে এ দুর্ঘটনা ঘাটায়।
প্রত্যক্ষদর্শী নিহতের বোন মহসিনা বেগম বলেন, সকালের দিকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসে আমার চিকিৎসার জন্য বোনকে সঙ্গে করে নিয়ে এসেছিলাম। এ সময় বোনকে বাহিরের বারান্দায় দাঁড়িয়ে রেখে ভেতরে ডাক্তারের পরামর্শ নিচ্ছিলাম।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ বোনের চিৎকারে বাহিরে দৌড়ে এসে দেখি, দুলাভাই ফরহাদ ছুরি দিয়ে বোনের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করতে থাকে। এসময় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা এসে দুলাভাইকে আটক করে। বেশ কিছুদিন ধরে সংসারে তাদের মধ্যে বনিবনা হচ্ছিল না।
নিহতের মা জামিরন বলেন, জামাই ঢাকাতে অন্য একটি মেয়েকে বিয়ে করে। এরপর থেকে পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি হয়। মেয়েকে হত্যার উদ্দেশ্যে আজ সকালে সে ঢাকা থেকে যে বাড়িতে এসেছিল তা আমরা বুঝতেই পারিনি। এমন ঘটনায় অপরাধীর শাস্তির দাবি জানান।
ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিন্টু রহমান সময়ের আলোকে বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত আনসার সদস্যরা ওই ঘাতককে আটক করে পুলিশকে খবর দিলে, ঘটনাস্থল থেকে গৃহবধূর মরদেহসহ ওই যুবককে আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়।
দুপুরে নিহতের ময়নাতদন্ত এবং ওই যুবকের বিরুদ্ধে মামলার প্রস্তুতি চলছে বলে জানান।
সময়ের আলো/জোই