আধুনিক বাংলা সাহিত্যের বরেণ্য কথাসাহিত্যিক ইমদাদুল হক মিলনের গাইবান্ধা সফর উপলক্ষে ‘যে জীবন আমার ছিল’ শিরোনামে জেলা শহরে অনুষ্ঠিত হলো এক বর্ণাঢ্য কথা-সংগীত ও সম্মাননা অনুষ্ঠান। রোববার (২৬ জুলাই) রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমি মিলনায়তনে বসুন্ধরা শুভসংঘের গাইবান্ধা জেলা শাখার উদ্যোগে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানের শুরুতেই গাইবান্ধাবাসীর পক্ষ থেকে বরেণ্য এই কথাসাহিত্যিককে ফুল দিয়ে বরণ করে নেওয়া হয়। বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকেও তাঁকে জানানো হয় ফুলেল শুভেচ্ছা।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন বরেণ্য কথাশিল্পী ইমদাদুল হক মিলন। তিনি জানান, আমৃত্যু মানুষের পক্ষে এবং শুভ চিন্তা-চেতনার পক্ষে লিখে যাবেন তিনি।
অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্ব ছিল স্থানীয় গুণীজন সম্মাননা। স্ব স্ব ক্ষেত্রে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা পান নাট্যজন ফারুক শিয়র চিনু, কবি রজতকান্তি বর্মন, উন্নয়ন-মানবাধিকার ও সমাজকর্মী প্রবীর চক্রবর্তী, বাচিক শিল্পী শিরিন আকতার, নাট্যকর্মী জুলফিকার চঞ্চল ও মানিক বাহার, স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র নির্মাতা সুমাইয়া তাসনিম সাথী এবং শুভসংঘের সাবেক জেলা সভাপতি হুমায়ুন আহমেদ বিপ্লব।
ব্যক্তি পর্যায়ের পাশাপাশি সংগঠন হিসেবেও অনন্য অবদান রাখায় সম্মাননা পায় বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা গণউন্নয়ন কেন্দ্র (জিইউকে) এবং গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থা। জিইউকের পক্ষে সম্মাননা গ্রহণ করেন সংস্থাটির কর্মকর্তা জয়া প্রসাদ, আর নাট্যসংস্থার পক্ষে গ্রহণ করেন সাধারণ সম্পাদক হানিফ বেলাল।
সম্মাননাপ্রাপ্ত প্রত্যেককে অতিথিরা উত্তরীয় পরিয়ে দেন এবং তাঁদের হাতে তুলে দেন ক্রেস্ট, ফুল ও ইমদাদুল হক মিলনের লেখা বই। অনুষ্ঠানে সংগীত ও নৃত্য পরিবেশন করেন স্থানীয় বিশিষ্ট শিল্পীরা, যা উপস্থিত দর্শক-শ্রোতাদের মন জয় করে নেয়। সব মিলিয়ে সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সামাজিক অবদানের এক অনন্য মিলনমেলায় পরিণত হয় গাইবান্ধার এই সন্ধ্যা।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির আসন অলংকৃত করেন গাইবান্ধা পৌর প্রশাসক ডিডিএলজি মুশফিকুর রহিম। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সাহিত্যিক ও শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাজহারউল মান্নান, গণউন্নয়ন কেন্দ্রের প্রধান নির্বাহী এম. আব্দুস সালাম, গাইবান্ধা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক ইদ্রিসউজ্জামান মোনা এবং জেলা কালচারাল অফিসার আসাদুজ্জামান সরকার। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন লেখক-গবেষক অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম, আর সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন শুভসংঘের উপদেষ্টা, সাহিত্যিক ও সাংবাদিক অমিতাভ দাশ হিমুন।
সময়ের আলো/আতা