ঝালকাঠির গাবখান চ্যানেল, ধানসিঁড়ি, সুগন্ধা ও বিষখালী নদীর পঞ্চমোহনা এবং ভীমরুলীর ভাসমান পেয়ারা বাজারকে কেন্দ্র করে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম ও সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ে তোলার প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা এবং বাস্তবায়নের অগ্রগতি জানাতে সংশ্লিষ্ট দুটি মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ।
ঝালকাঠির পর্যটন ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যকে বিশ্বমানের পর্যায়ে তুলে ধরতে ‘ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী’ ও রিভারাইন ইকো-ট্যুরিজম হ্যাব প্রতিষ্ঠার এই উদ্যোগে নতুন গতি এসেছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাঠ প্রশাসন সংযোগ অধিশাখা থেকে জারি করা গত ২২ জুলাই এক পত্রে জানানো হয়, কমিশনারদের পাঠানো জুন ২০২৬-এর দ্বিতীয় পক্ষের পাক্ষিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে উত্থাপিত এ প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রী অনুমোদন করেছেন।
প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, গাবখান চ্যানেল, ধানসিঁড়ি নদী, পঞ্চমোহনা ও ভীমরুলীর বিখ্যাত ভাসমান পেয়ারা বাজারকে ঘিরে দক্ষিণাঞ্চলে আন্তর্জাতিক মানের নদীভিত্তিক ইকো-ট্যুরিজম গড়ে তোলার ব্যাপক সম্ভাবনা রয়েছে। তবে সমন্বিত পর্যটন অবকাঠামো, আধুনিক জেটি, নিরাপদ নৌপরিবহন, পর্যটক আবাসন ও কার্যকর ব্র্যান্ডিংয়ের অভাবে এতদিন এ সম্ভাবনার পূর্ণ বিকাশ ঘটেনি।
প্রস্তাবনা অনুযায়ী, পঞ্চমোহনায় ৮৮ দশমিক ৩৬ একর সরকারি জমিতে ‘ধানসিঁড়ি সাংস্কৃতিক পল্লী’ ও রিভারাইন ইকো-ট্যুরিজম হ্যাব প্রতিষ্ঠা করা যেতে পারে।
এর আওতায় যেসব পরিকল্পনা রয়েছে। রিভারফ্রন্ট ও ইকো-রিসোর্ট নির্মাণ, ভাসমান রেস্টুরেন্ট স্থাপন, জীবনানন্দ দাশ সাহিত্য ও গবেষণা কেন্দ্র ও লোকজ জাদুঘর প্রতিষ্ঠা, স্থায়ী সাংস্কৃতিক মঞ্চ তৈরি, গাবখান চ্যানেল ও ধানসিঁড়ি নদীকেন্দ্রিক পর্যটন সার্কিট গড়ে তোলা।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মতে, প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে পর্যটন শিল্পের ব্যাপক বিকাশ, নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি, স্থানীয় অর্থনীতির সম্প্রসারণ এবং অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে এটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এতে আরও জানানো হয়, ঝালকাঠির জেলা প্রশাসক ইতোমধ্যে এ বিষয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রস্তাব পাঠিয়েছেন। তবে সংশ্লিষ্ট ভূমি বর্তমানে মহামান্য হাইকোর্ট বিভাগে বিচারাধীন থাকায়, মামলা নিষ্পত্তি সাপেক্ষে প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিগত অনুমোদন ও বিশেষ বরাদ্দ প্রদানের কথা বলা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই অনুমোদনের পর মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়মিতভাবে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সময়ের আলো/জোই