নড়াইলের লোহাগড়া পৌরসভায় পরকীয়া সন্দেহে পারিবারিক কলহের জেরে ঘুমন্ত স্বামীর পুরুষাঙ্গ কেটে ফেলার অভিযোগ উঠেছে তার স্ত্রীর বিরুদ্ধে। আহত যুবকের নাম রুবেল শেখ (২৮)। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার পুরুষাঙ্গের ক্ষতস্থানে ৮টি সেলাই দিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) সকালে লোহাগড়া পৌরসভার গোপীনাথপুর গ্রামে আহত যুবকের শ্বশুরবাড়ি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
রুবেল শেখ যশোর জেলার ধলগ্রামের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন ভাঙড়ি ব্যবসায়ী। রুবেল দীর্ঘদিন ধরে গোপীনাথপুরে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছিলেন। তার স্ত্রীর নাম আদরী বেগম (২০)।
পারিবারিক সূত্রে ও ভুক্তভোগী রুবেল শেখের অভিযোগ থেকে জানা যায়, বিয়ের পর থেকেই পরকীয়া নিয়ে স্ত্রীর সঙ্গে রুবেলের পারিবারিক কোন্দল ও কথা কাটাকাটি চলছিল। এরই জেরে মঙ্গলবার ভোরে রুবেল যখন গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন ছিলেন, তখন আচমকা স্ত্রী আদরী বেগম তার বুকের ওপর চড়ে বসেন। কিছু বুঝে ওঠার আগেই তিনি সঙ্গে থাকা ধারালো ব্লেড বা সমজাতীয় ধারালো অস্ত্র দিয়ে রুবেলের পুরুষাঙ্গ কেটে দেওয়ার চেষ্টা করেন।
যন্ত্রণা ও আতঙ্কে রুবেল চিৎকার-চেঁচামেচি শুরু করলে আশপাশের লোকজন ও বাড়ির অন্য সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। রক্তাক্ত অবস্থায় রুবেলকে উদ্ধার করে লোহাগড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসকেরা তাৎক্ষণিকভাবে অস্ত্রোপচার করে তার ক্ষতস্থানে ৮টি সেলাই করেন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসকদের পর্যবেক্ষণে রয়েছেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আহত রুবেল এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করে স্ত্রীর বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান।
খবর পেয়ে লোহাগড়া থানা পুলিশ দ্রুত অভিযান চালিয়ে অভিযুক্ত স্ত্রী আদরী বেগমকে আটক করেছে। বর্তমানে তিনি পুলিশ হেফাজতে রয়েছেন।
লোহাগড়া থানা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রহমান জানান, ঘটনার পেছনের সুনির্দিষ্ট কারণ অনুসন্ধানে তদন্ত চলছে। এ বিষয়ে ভুক্তভোগী ও তার পরিবারের পক্ষ থেকে আইনি প্রক্রিয়া বা মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সময়ের আলো/মহু