নোয়াখালীর চাটখিলে বোরো ধান সংগ্রহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সরকারি খাদ্যগুদামে ধান বিক্রি করতে না পেরে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় কৃষকরা। এতে উৎপাদন খরচ তুলতে না পেরে ঋণ পরিশোধ নিয়েও চিন্তিত তারা।
কৃষকদের অভিযোগ, কার্ড ও তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও সরকারি গুদামে ধান দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না। সিন্ডিকেটের মাধ্যমে অসাধু চক্রের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করছেন কর্মকর্তারা। বাধ্য হয়ে তারা ফড়িয়া ও স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে কম দামে ধান বিক্রি করছেন। দীর্ঘদিন ঘরের ভেতর ধান জমিয়ে রাখায় তা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কৃষি অফিসের ১,১৮৫ জন কৃষকের অনলাইন তালিকার সাথে খাদ্যগুদামের ৪৩২ জনের তালিকার ব্যাপক গরমিল রয়েছে। দুটি তালিকার মিল পাওয়া গেছে মাত্র ২৬৫ জনের, যার মধ্যে প্রায় ৬০ জন কৃষক জানিয়েছেন তারা বাস্তবে কোনো ধান বিক্রি করেননি। গুদামে সংগৃহীত ৯১৬ মেট্রিক টন ধানের প্রকৃত উৎস নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ক্ষুব্ধ কৃষকরা। উপজেলা খাদ্য কর্মকর্তা ছালেহ উদ্দিন এসব অসংগতির কোনো সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি।
এ অবস্থায় মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য বন্ধ, ধান সংগ্রহের যাবতীয় তথ্য প্রকাশ্যে যাচাই এবং সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা বাড়িয়ে অন্তত ৫ হাজার মেট্রিক টন করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। এ অনিয়মের সুষ্ঠু তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।
সময়ের আলো/এনএন