বিয়ের প্ররোচনায় ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগে প্রেমিক নামীন আশরাফ মনিসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৮ জুলাই) ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৫ এ ভিকটিমের বড় বোন রাজিয়া সুলতানা বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেন। শুনানি শেষে সংশ্লিষ্ট আদালতের বিচারক মো. মনিরুজ্জামান বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ শেষে মামলার অভিযোগের বিষয়ে গোয়েন্দা পুলিশকে (ডিবি) তদন্ত করে ১০ সেপ্টেম্বরের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
মামলার অপর আসামিরা হলেন- মো. আশরাফউদ্দিন সোহেল ও মোসা. শাহনাজ বেগম। বাদী পক্ষের আইনজীবী আজাদ রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
মামলার আরজি থেকে জানা যায়, বাদীর বোন সাদিয়া ইয়াসফিয়া (২৪) মেকআপ আর্টিস্টের কাজ করতেন। অপরদিকে মূল অভিযুক্ত নামীম আশরাফ (৩৭) ফটোগ্রাফির কাজ করতেন। ২০২৪ সালের কোন এক শুটিং প্রোগ্রামে তাদের পরিচয় হয়। এভাবে বিভিন্ন শুটিং প্রোগ্রামে তারা একসঙ্গে কাজ করতে থাকেন। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ প্রেমের সম্পর্ক হয়।
মামলার আরজিতে বলা হয়, প্রেমের সম্পর্ক বলবৎ থাকা অবস্থায় তারা বিয়ের কথাবার্তা বলেন। উভয়ের পরিবার বিষয়টি জানতো। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৬ জুন সাদিয়ার বড় বোন, বড় ভাই ও পরিবারের সদস্যরা বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে আসামিদের গেন্ডারিয়ার ঢালকানগর গলির বাসায় যান। ওই বাসায় নামীম আশরাফের মা-বাবা বিয়ের প্রস্তাব নাকচ করে দেন। তাদের ছেলের সঙ্গে সাদিয়াকে বিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করলে হিতে বিপরীত হবে বলে হুমকি দেন।
মামলার আর্জিতে আরও বলা হয়, ওই ঘটনার পর গত ১০ জুন নামীম আশরাফ মোহাম্মদপুর উদ্যানে সাদিয়াদের বাসায় যান। সেদিন রাত আনুমানিক ৮টার দিকে তিনি বাদীর ছোট বোন সাদিয়াকে ডেকে নিয়ে যান। এরপর থেকে সাদিয়া আর বাসায় ফেরেননি।
পরবর্তীতে, গত ১৪ জুন রাজধানীর আদাবরের শেখেরটেক-১২ এলাকায় কাদের পাটোয়ারীর বাসার দ্বিতীয় তলার একটি ফ্ল্যাট থেকে সাদিয়ার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। মামলার আর্জিতে উল্লেখ করা হয়েছে, ওই ফ্ল্যাটটি আসামি নামীম আশরাফের ভাড়া নেওয়া বাসা এবং স্টুডিও হিসেবে ব্যবহৃত হতো।
বাদী মামলায় অভিযোগ করেছেন, তার ছোট বোন সাদিয়াকে তিন দিন আটকে রেখে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। লাশ উদ্ধারের সময় বাদী ঘটনাস্থলে গিয়ে এক নম্বর আসামির মা ও বাবাকে ঘটনাস্থলে দেখতে পেয়েছেন।
মামলার এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার পর আসামিরা হত্যাকাণ্ডকে আত্মহত্যা বলে ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেন এবং পুলিশও তাদের সহায়তা করে। পরদিন পুলিশ নিজেই একটি এজাহার প্রস্তুত করে এবং ভিকটিমের ভাইকে ভুল বুঝিয়ে আত্মহত্যার প্ররোচনার অভিযোগে মামলা করতে বাধ্য করে।
মামলা দায়েরের পর কোর্ট রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে মামলার বাদী রাজিয়া সুলতানা বলেন, আমার বোন সাদিয়াকে ধর্ষণ ও হত্যার সঙ্গে যারা জড়িত, আমি তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই। যাতে ভবিষ্যতে এ ধরনের জঘন্য অপরাধ ঘটাতে আর কেউ সাহস না পায়।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ