সেলিনা মোমেনের লীলাবালি ক্র্যাফট

নিবেদিতা দাস

ফিচার

সাধারণ ঘরোয়া সামগ্রী রং, নকশা আর সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় অসাধারণ করে তোলে ‘লীলাবালি ক্র্যাফট’। ‘লীলাবালি মানে সকালের আলো’- উদ্যোক্তা সেলিনা মোমেনের

2026-07-29T03:24:38+00:00
2026-07-29T03:24:38+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
ফিচার
সেলিনা মোমেনের লীলাবালি ক্র্যাফট
নিবেদিতা দাস
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:২৪ এএম 
লীলাবালি ক্র্যাফট। সংগৃহীত ছবি
সাধারণ ঘরোয়া সামগ্রী রং, নকশা আর সৃজনশীলতার ছোঁয়ায় অসাধারণ করে তোলে ‘লীলাবালি ক্র্যাফট’। ‘লীলাবালি মানে সকালের আলো’- উদ্যোক্তা সেলিনা মোমেনের কাছে নামটির অর্থই যেন নতুন শুরুর প্রতীক। জীবনের নানা অভিজ্ঞতা পেরিয়ে নিজের সৃজনশীলতা কাজে লাগিয়ে তিনি যে উদ্যোগ গড়ে তুলেছেন, সেটি আজ পরিচিতি পেয়েছে ‘লীলাবালি ক্র্যাফট’ নামে। এটি শুধু একটি ক্র্যাফট ব্র্যান্ড নয় বরং জীবনের একপর্যায়ে এসে নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের গল্প।

একসময় করপোরেট জগতে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন সেলিনা। তবে একসময় জীবনের বাস্তবতায় তার কর্মজীবনে পরিবর্তন আসে। নতুন করে নিজেকে ব্যস্ত রাখা এবং সৃজনশীল কাজের মাধ্যমে সময় অর্থবহ করে তুলতে তিনি শুরু করেন ক্র্যাফটের কাজ। প্রথম দিকে এটি ছিল একান্তই শখের বিষয়। ঘরোয়া পরিসরে বিভিন্ন জিনিস সাজানো, রং করা এবং নতুনভাবে উপস্থাপন করতেই ভালো লাগত তার।

ধীরে ধীরে সেই ভালো লাগাই পরিণত হয় সম্ভাবনায়। চার-পাঁচ বছর আগে হাতে থাকা কিছু পুরোনো কাটলারি ও ঘরোয়া সামগ্রী নতুনভাবে সাজানোর উদ্যোগ নেন তিনি। সাধারণ জিনিস কীভাবে একটু রং, নকশা ও শিল্পের ছোঁয়ায় আকর্ষণীয় করে তোলা যায়, সেই ভাবনা থেকেই শুরু হয় নানা ধরনের কাজ। নিজের সৃজনশীলতার সঙ্গে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করতে করতে একসময় তিনি বুঝতে পারেন, এই কাজ আরও বড় পরিসরে নেওয়া সম্ভব।

এই পথচলায় তিনি পাশে পেয়েছেন ‘পাওয়ার অব শি’-এর সাবিনা স্যাবিকে। তার অনুপ্রেরণা, বন্ধুদের উৎসাহ এবং পরিবারের সহযোগিতা সেলিনাকে উদ্যোক্তা হিসেবে এগিয়ে যাওয়ার সাহস জোগায়। এভাবেই ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে ‘লীলাবালি ক্র্যাফট’।

লীলাবালি ক্র্যাফটের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো সাধারণ ও পুরোনো সামগ্রী নান্দনিকভাবে নতুন রূপ দেওয়া। মূলত ডেকোপ্যাচের মাধ্যমে এসব ক্র্যাফট সাজানো হয়। বিভিন্ন ধরনের রং, ডেকোপ্যাচ পেপার, বিশেষ আঠা, বার্নিশ, মসৃণ কাগজ ও নানা ধরনের ব্রাশ ব্যবহার করা হয়। প্রতিটি পণ্যের পেছনে থাকে সময়, ধৈর্য ও নিখুঁত হাতের কাজ।

দেশের পাশাপাশি বিদেশেও লীলাবালি ক্র্যাফটের প্রতি আগ্রহ রয়েছে। বিশেষ করে উপহার হিসেবে এসব পণ্য বেশ পছন্দ করেন অনেকেই। বন্ধু, আত্মীয় কিংবা বিশেষ কোনো উপলক্ষ স্মরণীয় করে রাখতে হাতে তৈরি এমন উপহার হয়ে উঠতে পারে চমৎকার পছন্দ।


তবে এই কাজের পথচলা চ্যালেঞ্জহীন নয়। হাতে তৈরি পণ্যে সময় ও শ্রম বেশি লাগে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় কাঁচামালের একটি বড় অংশ বিদেশ থেকে সংগ্রহ করতে হয়, ফলে উৎপাদন খরচও তুলনামূলক বেশি। পণ্যের মূল্য নির্ধারণের পাশাপাশি ক্রেতাদের কাছে হ্যান্ডমেড কাজের পেছনের শ্রম, দক্ষতা ও শিল্পমূল্য বোঝানোও অনেক সময় কঠিন হয়ে পড়ে। সেলিনার কাজের শক্তি এখানেই- তিনি কেবল একটি পণ্য বিক্রি করতে চান না; তিনি মানুষকে একটি অনুভূতি, একটি নান্দনিক অভিজ্ঞতা, এবং একটি শিল্পসত্তার অংশ করে তুলতে চান।

সেলিনার ব্যক্তিগত পথচলার ভেতরেও রয়েছে অনুপ্রেরণার এক গুরুত্বপূর্ণ দিক। করপোরেট জীবন থেকে সরে এসে তিনি যে নতুন পরিচয় গড়ে তুলেছেন, তা প্রমাণ করে- জীবনের যেকোনো পর্যায় থেকেই নতুন শুরু সম্ভব। সৃজনশীলতা যদি যত্নে লালন করা যায়, তবে তা শুধু ব্যক্তিগত তৃপ্তির জায়গাতেই সীমাবদ্ধ থাকে না বরং একসময় সেটিই হয়ে উঠতে পারে পরিচিতি, সম্ভাবনা, এমনকি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার ভিত্তি। 

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 



  বিষয়:   সেলিনা মোমেন  লীলাবালি ক্র্যাফট 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: