গাইবান্ধায় থার্মোকল-প্লাস্টিক বিকল্পের এক নতুন সম্ভাবনা পেপার প্লেট

গাইবান্ধা প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাইবান্ধা শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে আদর্শপাড়ার সরু গলিটা যেখানে শেষ হয়েছে, ঠিক সেখানেই একটা ছোট্ট টিনের ঘর। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার

2026-07-29T15:59:49+00:00
2026-07-29T15:59:49+00:00
 
  বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬,
১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩
বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
গাইবান্ধায় থার্মোকল-প্লাস্টিক বিকল্পের এক নতুন সম্ভাবনা পেপার প্লেট
গাইবান্ধা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ৩:৫৯ পিএম 
গাইবান্ধার শহরের আদর্শপাড়ার একটি ক্ষুদ্র কারখানায় মেশিনে নারী শ্রমিকরা প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড পেপার প্লেট তৈরি করছেন। ছবি : সময়ের আলো
গাইবান্ধা শহরের কোলাহল ছাড়িয়ে আদর্শপাড়ার সরু গলিটা যেখানে শেষ হয়েছে, ঠিক সেখানেই একটা ছোট্ট টিনের ঘর। বাইরে থেকে দেখলে বোঝার উপায় নেই, ভেতরে চলছে নীরব এক বিপ্লবের প্রস্তুতি। মেশিনের চাপা শব্দ, স্তূপ হয়ে থাকা রঙিন কাগজ, আর কয়েকজন নারীর দক্ষ হাতে ক্রমাগত তৈরি হয়ে চলা প্লেট- এই দৃশ্যই বলে দেয়, গাইবান্ধা এখন নতুন কিছুর সাক্ষী হতে চলেছে।

দেশের নদী-নালা, খাল-বিল যখন প্লাস্টিক আর থার্মোকলের বর্জ্যে ভরে উঠছে প্রতিদিন, মাটি যখন হারাচ্ছে তার নিঃশ্বাস নেওয়ার ক্ষমতা, তখন উত্তরের এই জেলা থেকেই উঠে আসছে একটি সম্ভাব্য সমাধান। নাম তার- পেপার প্লেট।

গল্পের শুরুটা একজন মানুষের ভাবনা থেকে। উদ্যোক্তা রেজাউন্নবী রাজু বহুদিন ধরেই খুঁজছিলেন এমন একটি পণ্য, যা হবে সাশ্রয়ী, দেখতে সুন্দর, অথচ প্রকৃতির কোনো ক্ষতি করবে না। সেই খোঁজ থেকেই জন্ম নেয় তার এই ক্ষুদ্র কারখানা, যেখানে এখন তৈরি হচ্ছে প্রিন্টেড ও সিলভার লেমিনেটেড পেপার প্লেট- দেখতে যতটা রাজকীয়, ব্যবহারে ততটাই কার্যকর।

রেজাউন্নবী রাজুর ভাষায়, প্লাস্টিক আসলে প্রকৃতির জন্য এক নীরব শত্রু। একবার ব্যবহারের পর তা বছরের পর বছর মাটিতে থেকে যায়, ক্ষয় হয় না সহজে। তার তৈরি পেপার প্লেট শুধু পরিবেশবান্ধবই নয়- মানসম্মত জিএসএম বোর্ড পেপার আর ফুডগ্রেড ল্যামিনেশনের কারণে তা গরম ভাত কিংবা তেল-ঝোলযুক্ত তরকারি পরিবেশনেও ভিজে নেতিয়ে পড়ে না। দামও থাকছে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে। ফলে বিয়ে-জন্মদিনের অনুষ্ঠান থেকে শুরু করে পিকনিক কিংবা রেস্তোরাঁ- সবখানেই এর ব্যবহার সহজ হয়ে উঠছে।


তবে এই কারখানার আসল গল্পটা লুকিয়ে আছে এর কর্মীদের মধ্যে। যে নারীরা একসময় সংসারের চার দেয়ালের মধ্যেই দিন কাটাতেন, আজ তারাই মেশিন চালাচ্ছেন, প্যাকেজিংয়ের কাজ করছেন, নিজেদের আয়ে অবদান রাখছেন পরিবারে। প্লেট তৈরির প্রতিটি ধাপে যেন মিশে আছে তাদের নতুন করে বাঁচার গল্প।

রেজাউন্নবী রাজুর চোখে অবশ্য আরও বড় পরিকল্পনা। তিনি মনে করেন, সরকারি সহযোগিতা আর সহজ শর্তে ব্যাংক ঋণ পাওয়া গেলে এই ছোট উদ্যোগ একদিন রূপ নেবে বড় শিল্পে। গাইবান্ধার নামে তখন পেপার প্লেট পৌঁছে যাবে দেশের প্রতিটি প্রান্তে, তৈরি হবে শত শত মানুষের কর্মসংস্থান।

তার কথায়, আমরা প্রায়ই প্লাস্টিক নিষিদ্ধের কথা বলি, কিন্তু বিকল্প দেখাতে পারি না। গাইবান্ধার এই উদ্যোগ প্রমাণ করছে, বিকল্প আছে। শুধু দরকার একটু সাহস আর সহায়তার হাত।

আদর্শপাড়ার এই ছোট্ট ঘর থেকে যে প্লেটগুলো প্রতিদিন বেরিয়ে যাচ্ছে, তা আসলে শুধু খাবার ধরে রাখছে না- ধরে রাখছে একটি জেলার সবুজ ভবিষ্যতের স্বপ্নও।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   গাইবান্ধা  থার্মোকল  প্লাস্টিক  বিকল্প  পেপার প্লেট 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: