আদমদীঘিতে একই প্রকল্পে দুই বার বরাদ্দ, অনিয়ম নিয়ে তদন্ত

আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি

সারাদেশ

বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠার

2026-07-29T22:31:54+00:00
2026-07-29T22:31:54+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
আদমদীঘিতে একই প্রকল্পে দুই বার বরাদ্দ, অনিয়ম নিয়ে তদন্ত
আদমদীঘি (বগুড়া) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১০:৩১ পিএম 
আদমদীঘি উপজেলার প্রশাসনিক ভবন যমুনা। ছবি : সময়ের আলো
বগুড়ার আদমদীঘি উপজেলা প্রশাসনের বিরুদ্ধে একটি উন্নয়ন প্রকল্পে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে দুই দফায় কোটি টাকা বরাদ্দ নেওয়ার অভিযোগ উঠার পর তদন্তে নেমেছে বগুড়া জেলা প্রশাসকের নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত দল। বুধবার (২৯ জুলাই) দুপুরে তদন্তকারী দল আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী অফিসার, উপজেলা প্রকৌশলীসহ বিভিন্ন জনের সাথে সাক্ষাৎ করেছেন।

জেলা প্রশাসকের নিয়োগপ্রাপ্ত তদন্ত দলে ছিলেন,অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (উন্নয়ন ও মানবসম্পদ ব্যবস্থাপনা) জ্যেতি বিকাশ চন্দ্র, জনস্বাস্থ্য বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর মনোনীত প্রতিনিধি শাকিউল ইসলাম এবং জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা মোতাহার হোসেন।

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগের উপজেলা শাখা-২ থেকে জারি করা দুটি পৃথক প্রজ্ঞাপন পর্যালোচনায় দেখা যায়, একই অর্থবছরে আদমদীঘি উপজেলার প্রশাসনিক ভবন, আবাসিক ভবন ও রাস্তা মেরামতের জন্য প্রায় একই ধরনের প্রকল্পে দুই দফায় ৫০ লাখ টাকা করে মোট ১ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ১১ ডিসেম্বর স্থানীয় সরকার বিভাগের যুগ্মসচিব আবু রাফা মোহাম্মদ আরিফ স্বাক্ষরিত (স্মারক নং - ৪৬.০০.০০০০.০৪৫.২০.০০৩.২৫-৪২৩) প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির 'উপজেলা উন্নয়ন সহায়তা'র থোক বরাদ্দ থেকে আদমদীঘি উপজেলার ছয়টি প্রকল্পের জন্য ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পগুলো ছিল উপজেলা কৃষি অফিস পর্যন্ত আরসিসি রাস্তা নির্মাণ, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের রাস্তা মেরামত, উপজেলা পরিষদের নতুন ও পুরাতন প্রশাসনিক ভবনের সংস্কার এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের মেরামত ও সংস্কার।


পরবর্তীতে ২০২৬ সালের ১০ মে একই মন্ত্রণালয়ের উপসচিব সুলতানা আক্তার স্বাক্ষরিত (স্মারক নং - ৪৬.০০.০০০০.০০০.০৪৫.২০.০৩৬৯.২৬-৭৩৬) আরেকটি প্রজ্ঞাপনে সংশোধিত বার্ষিক উন্নয়নকর্মসূচির আওতায় পুনরায় উপজেলা প্রশাসনিক ভবন (পুরাতন), নতুন প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন রাস্তা, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার বাসভবনের প্রবেশ সড়ক, উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা এবং যমুনা ও রূপসা আবাসিক ভবনের মেরামতের জন্য আরও ৫০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ বরাদ্দের বিপরীতে প্রকল্পের দৃশ্যমান কাজ না থাকায় স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হলে বিষয়টি বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান উপজেলার সচেতন নাগরিকরা। 

দুটি প্রজ্ঞাপনের প্রকল্পের তালিকা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, দুইটি প্রকল্প একই অবকাঠামোকে ঘিরেই। ফলে মাত্র পাঁচ মাসের ব্যবধানে একই ধরনের কাজের জন্য পুনরায় বরাদ্দ দেওয়ার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

সরেজমিনে উপজেলা পরিষদ এলাকা পরিদর্শন করে দেখা যায়, উপজেলা পরিষদের বিভিন্ন দৃশ্যমান উন্নয়নমূলক কাজ, নতুন প্রশাসনিক ভবনের সাজসজ্জাসহ অধিকাংশ অবকাঠামোগত উন্নয়ন সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা রোমানা আফরোজার দায়িত্বকালে সম্পন্ন হয়েছে।

অপরদিকে উপজেলা কৃষি অফিসের সামনের রাস্তা মেরামত করণের প্রকল্প ২০২৫ সালে উল্লেখ্য থাকলেও দুইবার বরাদ্দ পাস হলেও রাস্তা মেরামতের কোন দৃশ্যমান কাজ দেখা যায়নি। এছাড়াও প্রকল্পে অন্তর্ভুক্ত রূপসা আবাসিক ভবনে উল্লেখযোগ্য কোনো সংস্কার কাজের চিহ্ন দেখা যায়নি। ভবনের দেয়ালে শেওলা জমেছে, ভবনটি দীর্ঘদিন অযত্নে পড়ে থাকার চিত্র স্পষ্ট।


একইভাবে যমুনা আবাসিক ভবনের নিচ তলার বারান্দায় গাছপালা জন্মেছে, ছাদ ও দেয়ালে শেওলা ও পরজীবী উদ্ভিদ দেখা গেছে। ভবনের কাঠের জানালার পাল্লা নষ্ট হয়ে পড়েছে এবং চারটি ফ্ল্যাটের মধ্যে মাত্র একটি ফ্ল্যাটে বসবাস করছেন একটি পরিবার। এদিকে উপজেলা পরিষদের দক্ষিণ ও পূর্ব পাশের সীমানা প্রাচীর পুনর্নির্মাণের কাজ চলমান থাকলেও সংশ্লিষ্ট দুই প্রজ্ঞাপনের কোনো প্রকল্পেই সীমানা প্রাচীর নির্মাণের উল্লেখ নেই। 

অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে আদমদীঘি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মাসুমা বেগম বলেন, দ্বিতীয়বার নতুন প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানো হলেও মন্ত্রণালয় ভুলক্রমে প্রথম প্রকল্পগুলোর নামেই পুনরায় বরাদ্দ দিয়েছে। পরে উপজেলা মাসিক সমন্বয় সভায় দুই বরাদ্দ সমন্বয় করে বাস্তবায়নের জন্য রেজুলেশন ও নতুন কাজের তালিকা প্রস্তুত করা হয়েছে। বর্তমানে সে অনুযায়ী কাজ চলমান রয়েছে।

তবে উপজেলা প্রকৌশলী রিপন কুমার সাহা বলেন,কাজে কোন দুর্নীতি হয়নি। তবে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অনুমতি গ্রহণ না করে কাজ করা সঠিক হয়নি।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   বগুড়া  আদমদীঘি  প্রকল্প  অনিয়ম  তদন্ত  রাজশাহী  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: