প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনায় তেলাপোকার প্রতীকের ককরোচ জনতা পার্টি কাঁপিয়ে দিয়েছে ভারতের রাজনৈতিক অঙ্গন। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই আবার নতুন বিস্ফোরণ। এবার পেট্রোল ইস্যুতে কাঁকড়া প্রতীক নিয়ে আলোচনায় নতুন সংগঠন।
২৬ জুলাই ২০২৬ ভারতের ডিজিটাল জগতে দেখা দেয় নতুন নাম—‘ই-২০ জনতা পার্টি’, সংক্ষেপে ই–২০জেপি। প্রতীক কাঁকড়া। সংগঠনের পরিচয়—‘ইয়েস, উই আর ক্র্যাবস।’ তাদের বক্তব্য—অবিচারের বিরুদ্ধে কাঁকড়ার মতো চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে তাদের আন্দোলন।
সংগঠনের প্রতিষ্ঠাতা এখনো প্রকাশ্যে আসেননি। নেতৃত্বে কারা আছেন, সেটিও এখনো অজানা। তবুও মাত্র কয়েক দিনেই বিস্ফোরক গতিতে বাড়ে এর জনপ্রিয়তা। ইথানল-মিশ্রিত ই২০ পেট্রোলের বিরোধিতাকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই অনলাইন প্রচারের ইনস্টাগ্রামে অনুসারীর সংখ্যা পৌঁছে যায় প্রায় ২ লাখ ৮৫ হাজারে। আর এক্স (টুইটার) প্ল্যাটফর্মে অনুসারী প্রায় ৪৯ হাজার। এই সংখ্যা প্রতিদিনই বাড়ছে।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, ইথানল-মিশ্রিত ই-২০ পেট্রোল নীতির প্রভাব পড়ছে সাধারণ গাড়িচালক, পরিবহন খাত এবং মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের ওপর। আর সেই কারণেই সরাসরি প্রশ্নের মুখে কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহন ও মহাসড়কমন্ত্রী নিতিন জয়রাম গড়করি। সোশ্যাল মিডিয়ায় নতুন স্লোগান—‘প্রধান আউট, নেক্সট গাড়কারি?’
প্রশ্ন উঠছে, কেন ইথানল-মিশ্রিত পেট্রোল নিয়ে এত ক্ষোভ? কাঁকড়া কি এবার সত্যিই নতুন জনআন্দোলনের প্রতীক হয়ে উঠবে? নাকি এটাও হারিয়ে যাবে সোশ্যাল মিডিয়ার অ্যালগরিদমে? কিন্তু এটা যদি কেবল শুরু হয়? শিক্ষা ইস্যুর পর যদি জ্বালানি, তারপর অন্য কোনো জাতীয় ইস্যু একটার পর একটা ডিজিটাল আন্দোলনের কেন্দ্রে চলে আসে? আর যদি একটি মিম আবারও জাতীয় রাজনীতির সবচেয়ে বড় বিতর্কে পরিণত হয়? সেই গল্পই থাকছে পরের পর্বে।
এর আগে চলতি মাসেই ভারতের রাজনীতিতে একের পর এক অস্বাভাবিক ঘটনা ঘটে। যার শুরু নিট প্রশ্নপত্র ফাঁস বিতর্কে। দেশজুড়ে শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ, যা থেকে জন্ম নেয় এক অদ্ভুত নাম—ককরোচ জনতা পার্টি। কোনো প্রথাগত রাজনৈতিক দল নয়, তবুও এটি লাখো মানুষের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু। আন্দোলনকারীদের ভাষায়—যেভাবে তেলাপোকা সহজে নির্মূল হয় না, ঠিক তেমনি দুর্নীতির বিরুদ্ধে তাদের আন্দোলনও থামবে না। মিম, রিল ও ব্যঙ্গ—ডিজিটাল যুগের সব অস্ত্র ব্যবহারে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে দাবানলের মতো। দিন যত যায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জনসমর্থন তত বাড়ে। এই আন্দোলনের অন্যতম মুখ অভিজিৎ দীপকের নেতৃত্বেই ডিজিটাল প্রচার রূপ নেয় ব্যাপক জনআলোচনায়।
শিক্ষা ব্যবস্থার স্বচ্ছতা, নিট পরীক্ষার নিরাপত্তা এবং জবাবদিহি—এই তিনটি বিষয়কে সামনে রেখেই আন্দোলন এগোতে থাকে। আন্দোলনের চাপ বাড়তে থাকে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ওপর। দেশজুড়ে শুরু হয় তীব্র রাজনৈতিক বিতর্ক। শেষ পর্যন্ত পদত্যাগ করেন শিক্ষামন্ত্রী।
সময়ের আলো/জেডআই