কাপাসিয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ

কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি

সারাদেশ

গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরদুর্লভ খান আঃ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক

2026-07-29T23:54:55+00:00
2026-07-29T23:54:55+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬,
১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬
সারাদেশ
কাপাসিয়ায় ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ
কাপাসিয়া (গাজীপুর) প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ২৯ জুলাই, ২০২৬, ১১:৫৪ পিএম 
চরদুর্লভ খান আঃ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজ। ছবি : সময়ের আলো
গাজীপুরের কাপাসিয়া উপজেলার ঐতিহ্যবাহী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চরদুর্লভ খান আঃ হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলামের বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম, প্রশাসনিক স্বেচ্ছাচারিতা, শিক্ষক-কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধে অনিয়ম, আয়-ব্যয়ের হিসাব গোপন রাখা এবং প্রতিষ্ঠানের সম্পদ ব্যবস্থাপনায় নানা অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও প্রতিষ্ঠানের সভাপতি বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন প্রতিষ্ঠানের ১১ জন শিক্ষক-কর্মচারী।

গত ২২ জুলাই জমা দেওয়া ওই লিখিত আবেদনে অভিযোগ করা হয়, ২০২৪ সালের ১ সেপ্টেম্বর ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে মো. নুরুল ইসলাম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক লেনদেন ও প্রশাসনিক কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে ব্যর্থ হয়েছেন। প্রায় এক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানের আয়-ব্যয়ের কোনও পূর্ণাঙ্গ হিসাব শিক্ষক-কর্মচারীদের সামনে উপস্থাপন করা হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আবেদনকারীদের দাবি, একাধিকবার হিসাব চাওয়া হলেও ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ বারবার পরে হিসাব দেওয়া হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন। কিন্তু দীর্ঘ সময় পার হলেও কোনও আয়-ব্যয়ের বিবরণ প্রকাশ করা হয়নি। ফলে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ও অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে।

লিখিত অভিযোগে আরও বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক-কর্মচারীদের নিয়মিত বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হয়নি। অনেকের দুই বছরের বেতন-ভাতা বকেয়া রয়েছে, যার কারণে তারা মানবেতর জীবনযাপন করছেন। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে আদায়কৃত টিউশন ফি থেকে শিক্ষক-কর্মচারীদের মধ্যে বণ্টনযোগ্য অর্থও বিতরণ করা হয়নি বলে অভিযোগ করা হয়েছে।


অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন খাত থেকে আদায়কৃত অর্থ প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে জমা না দিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ নিজের কাছেই সংরক্ষণ করেছেন। এতে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা প্রশ্নবিদ্ধ হয়েছে বলে দাবি করেন আবেদনকারীরা।

এছাড়া পরিচালনা পর্ষদের সভাপতির অনুমোদন ছাড়াই বিদ্যালয়ের তিনটি বড় গাছ বিক্রি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। গাছ বিক্রির অর্থ কোথায় ব্যয় করা হয়েছে, সে বিষয়ে শিক্ষক-কর্মচারীদের কোনও তথ্য জানানো হয়নি বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে।

আবেদনকারীদের ভাষ্য, প্রায় দুই বছর অতিবাহিত হলেও বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনে কার্যকর কোনও উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ফলে শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং প্রতিষ্ঠানের সামগ্রিক ব্যবস্থাপনা ব্যাহত হচ্ছে।

দীর্ঘদিন ধরে অভ্যন্তরীণভাবে বিষয়গুলোর সমাধানের চেষ্টা করেও কোনও ফল না পাওয়ায় তারা উপজেলা প্রশাসনের শরণাপন্ন হয়েছেন বলে আবেদনে উল্লেখ করা হয়। তারা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষকে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দিয়ে একজন জ্যেষ্ঠ শিক্ষককে অস্থায়ীভাবে দায়িত্ব দেওয়ার দাবি জানান।

লিখিত আবেদনে স্বাক্ষর করেছেন সিনিয়র শিক্ষক মো. গোলাম ফারুক, মো. কবির উদ্দিন, শাহিনা বেগম, মো. বোরহান উদ্দিন হোসেন, মো. আলা উদ্দিন, সুফিয়া বেগম, মীরা রানী, মো. সিরাজুল ইসলাম, সহকারী শিক্ষক মো. কবির হোসেন, অফিস সহকারী মো. জাহাঙ্গীর হোসেন এবং চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী মো. তাজ উদ্দিন।


প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক কফিল উদ্দিন বলেন, ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোনও আয়-ব্যয়ের হিসাব দেননি। বিদ্যালয়ের অর্ধবার্ষিক পরীক্ষা ও টিউশন ফি বাবদ প্রায় ৪ থেকে ৫ লাখ টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে আমাদের সন্দেহ। প্রতিষ্ঠানের অর্থ ব্যাংকে জমা না দিয়ে নিজে নিজে খরচ করা হয়েছে। চার মাসের বিদ্যুৎ বিল বকেয়া রয়েছে এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের প্রায় দুই বছরের বেতন-ভাতা বাকি রয়েছে। আমরা এ অবস্থার সুষ্ঠু তদন্ত ও প্রতিকার চাই।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মো. নুরুল ইসলাম লিখিত অভিযোগ পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় ব্যাখ্যা দেওয়া হবে। তবে প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবে অর্থ জমা না দিয়ে নিজের কাছে রাখার বিষয়টি তিনি স্বীকার করেন। যদিও অভিযোগে উল্লিখিত অন্যান্য বিষয়ে তিনি বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি।

এ বিষয়ে কাপাসিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হাফিজুল হক বলেন, বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে অনাস্থা ও আর্থিক অনিয়ম সংক্রান্ত লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। অভিযোগটি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

এবিষয়ে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পর্যালোচনার মাধ্যমে নিরপেক্ষ তদন্ত পরিচালনা করা  তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হউক।

এদিকে, অভিযোগকে কেন্দ্র করে এলাকায় শিক্ষক, অভিভাবক ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আর্থিক স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করা জরুরি।

সময়ের আলো/আতা


  বিষয়:   গাজীপুর  কাপাসিয়া  ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ  আর্থিক অনিয়ম  অভিযোগ 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: