এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম ও মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারির গাড়িবহরে হামলার ঘটনায় হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগনকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) রাতে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে হবিগঞ্জের পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদের কাছে এজাহার জমা দেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। মামলার বাদী হয়েছেন হবিগঞ্জ জেলা যুবশক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তাহের। এজাহারে হবিগঞ্জ বৃন্দাবন সরকারি কলেজ ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান রিয়াদসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এ ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০০ জনকে আসামি করা হয়েছে।
এর আগে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে হবিগঞ্জে সমাবেশ করতে যাওয়ার পথে মৌলভীবাজার-হবিগঞ্জ সীমান্তে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন এনসিপির নেতাকর্মীরা। পরে সন্ধ্যায় তারা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রম করে হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করলে ঘটনাস্থলের পাশের কামাইছড়া পুলিশ ফাঁড়িতে তাদের সঙ্গে বৈঠকে বসেন পুলিশ সুপার তারেক মাহমুদ।
এজাহার জমা দেওয়ার পর রাতে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি বললেন, ‘রাতের মধ্যে যদি আসামিদের গ্রেফতার করা হয়, তা হলে আমরা ধরে নেব দেশে অন্তত কিছুটা হলেও আইনের শাসন রয়েছে। আর যদি গ্রেফতার না করা হয়, তা হলে আমরা ধরে নেব এটি একটি মাফিয়া সরকার।’
এর আগে মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পথসভা শেষে সার্কিট হাউসে ফেরার পথে সারজিস আলম, নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারিসহ কেন্দ্রীয় নেতাদের গাড়িবহরে হামলার ঘটনা ঘটে। এ সময় তারা সোনালী ব্যাংকের হবিগঞ্জ প্রধান শাখায় আশ্রয় নেন। পরে পুলিশ তাদের উদ্ধার করে সার্কিট হাউসে পৌঁছে দেয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ একটি সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে।
হামলার জন্য স্থানীয় সংসদ সদস্য ও হুইপ জি কে গউছের অনুসারী এবং ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের দায়ী বলে অভিযোগ করেন সারজিস আলম। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সমালোচনা করায় এ হামলা হয়েছে। এতে একজন কর্মীর একটি চোখ নষ্ট হয়েছে, জেলা এনসিপির নেতা মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিনের হাত ভেঙেছে এবং তিনি নিজেও আঙুলে আঘাত পেয়েছেন। হামলার পর বুধবার মৌলভীবাজারের নির্ধারিত দুটি পদযাত্রা স্থগিত করে হবিগঞ্জে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে এনসিপি। এতে কেন্দ্রীয় নেতাদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
অন্যদিকে তারেক রহমানকে নিয়ে ‘মিথ্যাচারের’ অভিযোগ তুলে বিক্ষোভ কর্মসূচি ঘোষণা করে জেলা ছাত্রদল, যুবদল ও পৌর বিএনপি। জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজিব আহমেদ রিংগন, জেলা যুবদলের আহ্বায়ক জালাল আহমেদ এবং সদস্য সচিব শফিকুর রহমান সিতু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কর্মসূচির ঘোষণা দেন। একই ধরনের কর্মসূচি দেয় পৌর বিএনপিও।
দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ায় জেলা প্রশাসক ও জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ড. জি এম সরফরাজ পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন।
বুধবার সকাল থেকেই টাউন হল, জেলা প্রশাসকের কার্যালয়, সদর মডেল থানা, আদালত এলাকা, টাউন হল রোড, চৌধুরীবাজার, কালীবাড়ি রোড, রাজনগর ও শায়েস্তানগরসহ গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় শতাধিক পুলিশ সদস্যকে দায়িত্ব পালন করতে দেখা যায়।
এ পরিস্থিতিতে বিকালে এনসিপির আহ্বায়ক ও সংসদ সদস্য নাহিদ ইসলাম, দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক ও সংসদ সদস্য হাসনাত আব্দুল্লাহ, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারিসহ অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী মৌলভীবাজার থেকে হবিগঞ্জের উদ্দেশে রওনা দেন। পথে দুই জেলার মধ্যবর্তী সাতগাঁও এলাকায় পুলিশ তাদের গাড়িবহর আটকে দেয়। এক পর্যায়ে ভারী বৃষ্টির মধ্যেই সড়কে বসে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন তারা। হাসনাত আব্দুল্লাহ অভিযোগ করেন পুলিশ বিএনপির হয়ে কাজ করছে।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/আরবিএন