নেত্রকোনার পূর্বধলায় কনের বাড়িতে বরযাত্রী আসার পর সেখানে হাজির হন ২ জন নারী। তাদের একজন নিজেকে বরের প্রেমিকা দাবি করেন। এ ঘটনায় পণ্ড হয়ে যায় বিয়ে ও অনুষ্ঠান। মানসিকভাবে ভেঙে পড়ে বরের বাবা মোহাম্মদ সুরুজ মিয়া (৪৫) আত্মহত্যা করেন।
পূর্বধলা থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। এ ঘটনায় ওই ২ নারীকে পুলিশের হেফাজতে রাখা হয়েছে।
এর আগে, বুধবার (২৯ জুলাই) রাত ১১টার দিকে উপজেলার ঘাগড়া ইউনিয়নের পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। নিহত সুরুজ মিয়া ওই গ্রামের বাসিন্দা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার পানিশানা পূর্বপাড়া গ্রামে বুধবার সুরুজ মিয়ার বড় ছেলে হেলাল মিয়ার (২২) সঙ্গে পার্শ্ববর্তী হিরণ্যপট্টি গ্রামের এক তরুণীর বিয়ের দিনক্ষণ নির্ধারিত ছিল।
ওইদিন বিকেল ৪টার দিকে কনের বাড়িতে বরযাত্রী আসে। এসময় সুরুজ মিয়ার বাড়িতে ২ নারী এসে উপস্থিত হন। তাদের একজন কুড়িগ্রাম জেলার পচাকাটা থানার কবিরাজপাড়া এলাকার মোছা. জান্নাতী খাতুন (২৮)। তিনি গার্মেন্টস ফ্যাক্টরিতে কাজ করেন। অন্যজন তার মামাতো বোন মোসা. শাহিনুর বেগম (২৮)।
এসময় জান্নাতী খাতুন দাবি করেন, বর হেলাল মিয়ার সঙ্গে তার ১০ থেকে ১১ মাসের প্রেমের সম্পর্ক রয়েছে। ২৮ জুলাই তাদের বিয়ের কথা ছিল। জান্নাতী আরও জানান, তিনি আগে বিবাহিত ছিলেন। পূর্বের সংসারে তার একটি সন্তান রয়েছে। পরবর্তীতে তার বিবাহবিচ্ছেদ হয়েছে।
এ ঘটনায় বরের বাবা সুরুজ মিয়া মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। তারপর রাত আনুমানিক ১১টার দিকে নিজ বসতঘরের পূর্ব পাশে একটি আমগাছের সঙ্গে গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তার মরদেহ উদ্ধার করে।
ওসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন,‘মরদেহ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বিয়েবাড়িতে আসা জান্নাতী খাতুন ও শাহিনুর বেগমকেও পুলিশ হেফাজতে আনা হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’
সময়ের আলো/মহু