নৈতিক স্খলন, অপপ্রচার এবং জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাবিরোধী নানা কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার অভিযোগে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) তিনজন অধ্যাপক ও এক প্রকৌশলীকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। একই সাথে আরও চারজন শিক্ষককে বিশ্ববিদ্যালয়ের সমস্ত প্রকার একাডেমিক ও প্রশাসনিক দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সভাপতিত্বে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত সিন্ডিকেট সভায় এসব সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের জনসংযোগ দপ্তর থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
সিন্ডিকেটের সিদ্ধান্ত মোতাবেক, শ্রেণিকক্ষে ও বাইরে অশিক্ষকসুলভ আচরণ ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাদেকা হালিমকে চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে।
এ ছাড়া শিক্ষার্থীদের অভিযোগ ও তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নিউক্লিয়ার ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আফরোজা শেলীকেও সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়।
অন্যদিকে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা পরিপন্থী কর্মকাণ্ড, নিষিদ্ধ সংগঠনের পক্ষে অবস্থান ও প্রশাসনবিরোধী প্রচারণার অভিযোগে ক্লিনিক্যাল ফার্মেসি ও ফার্মাকোলজি বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল মুহিতকে চেয়ারম্যানের পদসহ সব একাডেমিক-প্রশাসনিক কাজ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
একই অভিযোগে ওষুধ প্রযুক্তি বিভাগের অধ্যাপক ড. আবু সারা শামসুর রউফ ও শান্তি ও সংঘর্ষ অধ্যয়ন বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রফিকুল ইসলামকেও দায়িত্ব থেকে বিরত রাখা হয়েছে।
এ ছাড়া, অনিয়ম ও থিসিসে চৌর্যবৃত্তির অভিযোগে ফারসি ভাষা ও সাহিত্য বিভাগের অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বাহাউদ্দিনকে সব কার্যক্রম থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সভায় শৃঙ্খলাভঙ্গের দায়ে প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (সিভিল) এ কে এম মাহবুব মুস্তাফাকেও সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এসব শাস্তিমূলক ব্যবস্থার পাশাপাশি বিগত ২০০৯ সাল থেকে ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বিশ্ববিদ্যালয়ে হওয়া সকল নিয়োগের স্বচ্ছতা ও অনিয়ম পর্যালোচনায় উপ-উপাচার্য (শিক্ষা) অধ্যাপক ড. আবদুস সালামকে প্রধান করে ডিনদের সমন্বয়ে একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
সভায় 'হেকেপ' প্রকল্পের গবেষণার অর্থ খরচের হিসাব পর্যালোচনায় উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আলমোজাদ্দেদী আলফেছানীকে আহ্বায়ক করে পৃথক কমিটি করা হয়।
সভায় প্রশাসনিক ভবন সংলগ্ন মলচত্বরে জুলাই স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। উল্লেখ্য, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের শহিদদের স্মরণে এই ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’ নির্মাণ করা হবে। আগামী ৫ আগস্ট ‘জুলাই স্মৃতি স্তম্ভ’-এর ভিত্তিপ্রস্তর উদ্বোধন করা হবে।
সময়ের আলো/জেডি