ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীরা ইরাকের ভূখণ্ড ব্যবহার করে সৌদি আরবে হামলা চালাচ্ছে এবং এতে ইরাকের ইরানপন্থি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোও সমন্বিতভাবে অংশ নিচ্ছে বলে দাবি করেছেন মধ্যপ্রাচ্যের দুই আঞ্চলিক কর্মকর্তা। তাদের ভাষ্য, এসব অভিযান ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হচ্ছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, সৌদি আরব ও তাদের আঞ্চলিক অংশীদারদের মূল্যায়ন অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে সৌদির পূর্বাঞ্চলের তেল স্থাপনাগুলোতে হওয়া হামলার কিছু অংশ ইরাকের ভূখণ্ড থেকে পরিচালিত হয়েছে। তবে আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি আরব এসব হামলার জন্য ইরাকভিত্তিক ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করেছে। অন্যদিকে হুথিরা হামলার দায় নিজেরাই স্বীকার করেছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছে ইরাক।
বুধবার এসব হামলার জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যৌথভাবে ইরাকের কয়েকটি স্থাপনায় বিমান হামলা চালায় সৌদি আরব। সৌদির দাবি, হামলাগুলোর সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ঘাঁটিগুলোকে লক্ষ্য করেই এ অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে।
আঞ্চলিক দুই কর্মকর্তা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক হামলাগুলো হুথি ও ইরাকের ইরানঘনিষ্ঠ গোষ্ঠীগুলোর ক্রমবর্ধমান সমন্বয়ের প্রমাণ। তাদের মতে, ইরানের তথাকথিত ‘অ্যাক্সিস অব রেজিস্ট্যান্স’-এর সদস্যরা এখন শুধু তেহরানের সঙ্গে নয়, নিজেদের মধ্যেও সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় জোরদার করেছে।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান চ্যাথাম হাউসের মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকা কর্মসূচির গবেষক ফারেয়া আল-মুসলিমি বলেন, প্রতিরোধ অক্ষের সদস্যদের মধ্যে এখন সরাসরি প্রশিক্ষণ ও সমন্বয় হচ্ছে। এটি তাদের সক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সিরিয়ায় বাশার আল-আসাদের পতন এবং লেবাননে হিজবুল্লাহর শক্তি দুর্বল হয়ে পড়ার পর ইরাক এখন ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীগুলোর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটিতে পরিণত হয়েছে।
এদিকে সৌদি আরব, ইরান ও ইরাকের সরকার রয়টার্সের মন্তব্যের অনুরোধে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। হুথিরাও এ বিষয়ে মন্তব্য করেনি। তবে তারা আগেই জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি হামলার জবাব এবং সৌদি আরবের আরোপিত ‘অবরোধ’ ভাঙতেই তারা এসব হামলা চালাচ্ছে। যদিও সৌদি আরব অবরোধের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছে, চলতি বছর হুথি নিয়ন্ত্রিত বন্দরে বহু জাহাজ প্রবেশ করেছে।
হুথি ও ইরাকের ইরানপন্থি গোষ্ঠীগুলোর মধ্যে দীর্ঘদিন ধরেই সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে কাতাইব হিজবুল্লাহর সঙ্গে তাদের ঘনিষ্ঠ সমন্বয়ের কথা বিভিন্ন সময় সামনে এসেছে। ২০২৪ সালে হুথি নেতা আবদুল মালিক আল-হুথি উভয় পক্ষের যৌথ অপারেশন কক্ষ গঠনের ঘোষণা দেন। একই বছর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলকে লক্ষ্য করে যৌথ হামলার কথাও জানায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সৌদি আরবের সঙ্গে ইরাকের দীর্ঘ সীমান্ত এবং বিস্তীর্ণ উন্মুক্ত এলাকা গোপনে হামলার প্রস্তুতি ও পরিচালনার জন্য কৌশলগত সুবিধা দেয়। অতীতে কুয়েত, সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া শত শত হামলার জন্যও ইরাকভিত্তিক গোষ্ঠীগুলোকে দায়ী করা হয়েছে।
সাম্প্রতিক হামলার পর ইরাকে সৌদি বিমান হামলার জেরে দেশটির প্রধানমন্ত্রী আলি আল-জায়েদি বৃহস্পতিবার সৌদি আরব সফর স্থগিত করেছেন। সেপ্টেম্বরের মধ্যে সব অস্ত্র রাষ্ট্রীয় নিয়ন্ত্রণে আনার পরিকল্পনার কথাও পুনর্ব্যক্ত করেছে ইরাক সরকার।
সময়ের আলো/কেএইচ