চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলার ইসলামপুর ইসলামী মিশন হাসপাতালের সংস্কার এবং সীমানা প্রাচীর নির্মাণকাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, কাজের গুণগত মান নিশ্চিত না করেই নির্মাণকাজ চালানো হচ্ছে। এ নিয়ে ক্ষুব্ধ হয়ে শনিবার (১ আগস্ট) এলাকাবাসী নির্মাণাধীন সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ভেঙে দেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, নির্মাণকাজে নিম্নমানের ইট, বালু ও রড ব্যবহারের অভিযোগ তুলছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
স্থানীয় জসিম উদ্দিন পাটওয়ারী, সোহরাব বেপারী, মোশাররফ কাজী, বাদশা মজুমদার ও ওমর ফারুক জানান, কাজ শুরুর পর থেকেই ইট, বালু, সিমেন্ট ও রডের মান নিয়ে তারা আপত্তি জানিয়ে আসছেন। কিন্তু তাতে কোনো প্রতিকার হয়নি।
তাদের অভিযোগ, ঠিকাদার নিজস্ব ইচ্ছামতো নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে হাসপাতাল ও সীমানা প্রাচীরের নির্মাণকাজ চালিয়ে যাচ্ছেন। তারা কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার দাবি জানান।
অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান নাজমুশ কনস্ট্রাকশনের পরিচালক মো. ইমন জানান, প্রায় ২৫ লাখ টাকার এ কাজকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক পরিচয়ে কয়েকজন ব্যক্তি চাঁদা দাবি করছেন। তবে তিনি কারও নাম প্রকাশ করতে রাজি হননি।
কাজের মান নিয়ে অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্মাণকাজের গুণগত মান ঠিক আছে। চাঁদা না দেওয়ায় নির্মাণাধীন দেয়ালের একটি অংশ ভেঙে ফেলা হয়েছে।
শাহছুফি ইয়াছিনিয়া মজিদিয়া ট্রাস্টের সদস্য আবুল খায়ের জানান, কাজের গুণগত মান ঠিক রয়েছে। তবে এলাকার কিছু ব্যক্তি চাঁদা দাবি করায় কাজ বাস্তবায়নে সমস্যা হচ্ছে। তিনি বলেন, যেকোনো অবস্থায় কাজের মান বজায় রাখতে হবে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, স্থানীয় বিএনপি নেতা ও পল্লী চিকিৎসক ফজলুর রহমান নির্মাণসামগ্রী সরবরাহের বিষয়টি কেন্দ্র করে কয়েকজনকে সঙ্গে নিয়ে চাঁদা দাবি করছেন।
ইসলামী মিশন হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. কামাল হোসেন বলেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত তিনি কাজের মান সন্তোষজনক দেখেছেন। তবে শুক্র ও শনিবার অফিস বন্ধ থাকায় ওই দুই দিন কাজ বন্ধ রাখতে বলা হয়েছিল। কিন্তু তার নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাজ চালানো হয়েছে। তাই ওই সময়ের কাজ সম্পর্কে তিনি কিছু বলতে পারেন না।
এ বিষয়ে ইসলামী ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক মুহাম্মদ মুহিববুল্লাহিল বাকী বলেন, কাজের গুণগত মান রক্ষা না হওয়ার বা কোনো অনিয়মের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সময়ের আলো/আতা