সারাদেশে যাচ্ছে চন্দনাইশের বিখ্যাত কাঞ্চনপেয়ারা

চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি

সারাদেশ

চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির মতোই চন্দনাইশের কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন এই অঞ্চলের পরিচয়ের অংশ। একটি সাধারণ ফল কীভাবে হাজারও মানুষের

2026-08-02T14:12:54+00:00
2026-08-02T14:14:47+00:00
 
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
সারাদেশ
সারাদেশে যাচ্ছে চন্দনাইশের বিখ্যাত কাঞ্চনপেয়ারা
চন্দনাইশ (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ২:১২ পিএম  আপডেট: ০২.০৮.২০২৬ ২:১৪ পিএম
শত শত শ্রমিক বাগান থেকে কাঁধে বহন করে পেয়ারা নিয়ে আসেন লোকালয়ে। ছবি : সময়ের আলো
চট্টগ্রামের ঐতিহ্যবাহী খাবার ও সংস্কৃতির মতোই চন্দনাইশের কাঞ্চননগরের পেয়ারা এখন এই অঞ্চলের পরিচয়ের অংশ। একটি সাধারণ ফল কীভাবে হাজারও মানুষের জীবিকার উৎস হয়ে উঠতে পারে, তার উদাহরণ এই পেয়ারা, যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়েও সারা দেশে যাচ্ছে।

বাগানিরা রাতেই শ্রমিক নিয়ে চলে যান বাগানে। তারপর পেয়ারা সংগ্রহ করে ভোরের আলো ফুটতেই শত শত শ্রমিক কাঁধে বহন করে তা নিয়ে আসেন লোকালয়ে। পাইকারি ব্যবসায়ীরা সরাসরি পেয়ারা বাগানিদের কাছ থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে নিয়ে যান। কোনো ধরনের ক্ষতিকারক কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই পেয়ারা উৎপাদন হওয়ায়, অর্গানিক পেয়ারা হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে এখানকার পেয়ারা। দেশ ছাড়িয়ে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশেও সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে এই পেয়ারার।

শ্রমিকরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করছেন। ছবি : সময়ের আলো

শ্রমিকরা বাগান থেকে পেয়ারা সংগ্রহ করছেন। ছবি : সময়ের আলো


কাঞ্চননগরের পেয়ারা চাষ অনেক কৃষকের ভাগ্য পরিবর্তন করেছে। আগে যেসব পাহাড়ি জমি তেমন ব্যবহার করা হতো না, এখন সেসব জায়গায় গড়ে উঠেছে পেয়ারা বাগান। তরুণ প্রজন্মের অনেকেই চাকরির পাশাপাশি বা বিকল্প পেশা হিসেবে পেয়ারা চাষে যুক্ত হচ্ছেন। চন্দনাইশের পাহাড়ি এলাকার মাটি এই পেয়ারার জন্য বিশেষ উপযোগী। পাহাড়ের পাদদেশে জমে থাকা নতুন পলি ও উর্বর মাটির কারণে এখানে পেয়ারা গাছ ভালো ফলন দেয়।

কৃষকদের মতে, তুলনামূলক কম খরচে ভালো লাভ পাওয়া যায় এই চাষে।


প্রতি মৌসুমে চন্দনাইশের পাহাড়ি অঞ্চলে কমপক্ষে ২ হাজার বাগানে পেয়ারা চাষ হয়। এখানকার উৎপাদিত পেয়ারা সাইজে বড়, দেখতে সুন্দর, খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ হওয়ায় দেশব্যাপী প্রচুর চাহিদা রয়েছে। ফলে, এখানকার উৎপাদিত পেয়ারা ফাঁড়িয়ারা দূরদূরান্ত থেকে এসে ট্রাকসহ বিভিন্ন পরিবহনে করে দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সরবরাহ করেন।

চট্টগ্রামের সবচেয়ে পরিচিত পেয়ারা বাজারগুলোর মধ্যে রওশন হাট অন্যতম। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার মহাসড়কের পাশে হওয়ায় এই বাজারে প্রতিদিন অনেক ক্রেতার ভিড় দেখা যায়। ঢাকা, কক্সবাজারসহ বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভ্রমণের সময় এখান থেকে পেয়ারা কিনে নিয়ে যান। 

কাঞ্চননগরের পেয়ারা সাধারণত আকার ও মান অনুযায়ী বিভিন্ন দামে বিক্রি হয়। মৌসুমের শুরুতে ভালো মানের পেয়ারা তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি হলেও, উৎপাদন বাড়লে দাম কিছুটা কমে আসে। সাধারণত খুচরা বাজারে প্রতি কেজি পেয়ারা প্রায় ৫০ থেকে ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া যেতে পারে। তবে বাজার অনুযায়ীও দাম পরিবর্তন হয়।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ আজাদ হোসেন জানান, প্রতি বছরের মতো এ বছরও পাহাড়ি অঞ্চল এবং সমতল মিলিয়ে প্রায় ৭৫০ হেক্টর জমিতে পেয়ারার চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকূল থাকায় ফলনও আগের তুলনায় ভালো হয়েছে। আমাদের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও মাঠকর্মীরা সবসময় মাঠে রয়েছেন এবং তদারকি ও প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছেন।’

সময়ের আলো/মহু


  বিষয়:   চন্দনাইশ  চট্টগ্রাম  কাঞ্চনপেয়ারা  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: