খাবার খাওয়ার পরই শরীর দুর্বল লাগা, যে রোগের ইঙ্গিত

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বিভিন্ন সময় শরীর আমাদের অনেক জটিল রোগের ইঙ্গিত দেন। তবে সতর্কতার অভাবে এসব রোগ আরও জটিল আকার ধারণ করে। সাধ

2026-08-02T18:39:55+00:00
2026-08-02T19:12:27+00:00
 
  রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬,
১৮ শ্রাবণ ১৪৩৩
রবিবার, ২ আগস্ট ২০২৬
ফিচার
খাবার খাওয়ার পরই শরীর দুর্বল লাগা, যে রোগের ইঙ্গিত
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: রোববার, ২ আগস্ট, ২০২৬, ৬:৩৯ পিএম  আপডেট: ০২.০৮.২০২৬ ৭:১২ পিএম
ছবি : সংগৃহীত
বিভিন্ন সময় শরীর আমাদের অনেক জটিল রোগের ইঙ্গিত দেন। তবে সতর্কতার অভাবে এসব রোগ আরও জটিল আকার ধারণ করে। সাধ খাওয়ার পরও কিছুক্ষণ পরই দুর্বল লাগা, বারবার মিষ্টি খেতে ইচ্ছা করা, অস্বাভাবিক ক্লান্তি বা মাথা ঝিমঝিম করার মতো সমস্যা অনেকেরই হয়। বেশির ভাগ মানুষ এগুলোকে সাধারণ বিষয় বলে এড়িয়ে যান। কিন্তু কখনো কখনো এসব লক্ষণ গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ইঙ্গিত হতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, গ্লুকোজ ইনটলারেন্স এমন একটি অবস্থা, যেখানে শরীর স্বাভাবিকভাবে গ্লুকোজ বা রক্তের শর্করা নিয়ন্ত্রণ করতে পারে না। এটি ডায়াবেটিস নয়, তবে চিকিৎসা না করলে ভবিষ্যতে টাইপ ২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়তে পারে।

গ্লুকোজ ইনটলারেন্স কী?
আমরা খাবার খেলে কার্বোহাইড্রেট ভেঙে গ্লুকোজ তৈরি হয়। ইনসুলিন নামের একটি হরমোন সেই গ্লুকোজকে শরীরের কোষে পৌঁছে দিয়ে শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে সাহায্য করে।

গ্লুকোজ ইনটলারেন্স হলে শরীর এই প্রক্রিয়াটি ঠিকভাবে সম্পন্ন করতে পারে না। ফলে রক্তে শর্করার মাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি থাকে, বিশেষ করে খাবার খাওয়ার পরে। এই অবস্থাকে অনেক সময় প্রি ডায়াবেটিসের একটি ধাপ হিসেবেও বিবেচনা করা হয়।

যেসব লক্ষণ দেখা দিতে পারে
গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ক্ষেত্রে সব সময় স্পষ্ট লক্ষণ থাকে না। তবে অনেকের মধ্যে নিচের সমস্যাগুলো দেখা দিতে পারে।

খাওয়ার কিছুক্ষণ পর আবার ক্ষুধা লাগা
বারবার মিষ্টি বা চিনি জাতীয় খাবার খেতে ইচ্ছা করা
হঠাৎ দুর্বল বা ক্লান্ত লাগা
মাথা ঘোরা বা ঝিমঝিম করা
মনোযোগ ধরে রাখতে সমস্যা হওয়া
বিরক্তি বা মেজাজের পরিবর্তন
খাবারের পর ঘুম ঘুম ভাব

এসব লক্ষণ অন্য অনেক কারণেও হতে পারে। তাই শুধু উপসর্গ দেখে গ্লুকোজ ইনটলারেন্স নিশ্চিত করা যায় না।

কেন এই সমস্যা হয়?
বিভিন্ন কারণে গ্লুকোজ ইনটলারেন্স হতে পারে। যেমন - শরীরে ইনসুলিনের কার্যকারিতা কমে যাওয়া, অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা, শারীরিক পরিশ্রমের অভাব, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, পারিবারিকভাবে ডায়াবেটিসের ইতিহাস ও বয়স বৃদ্ধি।

কারা বেশি ঝুঁকিতে?
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিচের ব্যক্তিদের ঝুঁকি তুলনামূলক বেশি।

যাদের ওজন স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি
যাদের পরিবারের সদস্যদের ডায়াবেটিস আছে
যাদের উচ্চ রক্তচাপ বা কোলেস্টেরল রয়েছে
যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন না
যাদের আগে গর্ভকালীন ডায়াবেটিস হয়েছিল

কীভাবে শনাক্ত করা হয়?
গ্লুকোজ ইনটলারেন্স শনাক্ত করতে চিকিৎসক কয়েকটি রক্ত পরীক্ষা করতে পারেন। যেমন -

খালি পেটে রক্তে শর্করা পরীক্ষা
ওরাল গ্লুকোজ টলারেন্স টেস্ট
এইচবিএ১সি পরীক্ষা
পরীক্ষার ফলের ভিত্তিতে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেন।

কীভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়?
গ্লুকোজ ইনটলারেন্সের ক্ষেত্রে জীবনযাপনের পরিবর্তনই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

পরিমিত ও সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন।
অতিরিক্ত চিনি ও প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খান।
প্রতিদিন অন্তত ৩০ মিনিট হাঁটা বা ব্যায়াম করুন।
ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখুন।
পর্যাপ্ত ঘুম নিশ্চিত করুন।
নিয়মিত রক্তে শর্করা পরীক্ষা করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলুন।

কখন চিকিৎসকের পরামর্শ নেবেন?
যদি বারবার দুর্বল লাগে, অস্বাভাবিক ক্ষুধা লাগে, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা ওজন কমে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দেয়, তাহলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা করলে শুরুতেই সমস্যা ধরা পড়ে এবং ভবিষ্যতে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমানো সম্ভব।

গ্লুকোজ ইনটলারেন্স কোনো উপেক্ষা করার মতো বিষয় নয়। এটি ডায়াবেটিসের আগের একটি সতর্ক সংকেত হতে পারে। তবে সময়মতো শনাক্ত করা গেলে এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন শুরু করলে অনেক ক্ষেত্রেই রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব। তাই শরীরের ছোট ছোট পরিবর্তনকে অবহেলা না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।

সূত্র : গালফ নিউজ

সময়ের আলো/আআ


  বিষয়:   খাবার  শরীর  দুর্বল  রোগ  সময়ের আলো 


Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: