ওজন কমানোর জন্য অনেকেই কঠিন ডায়েট করে অনেক সময় না খেয়ে থাকেন। তবে ওজন নিয়ন্ত্রণ রাখতে প্রয়োজন এমন খাবার, যা পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত ক্যালরি গ্রহণ কমাতে সহায়ক হয়। এ ক্ষেত্রে দই ও চিয়া সিড হতে পারে সহজ একটি খাবারের সংযোজন। তবে শুধু এই দুটি খাবার খেলেই ওজন কমবে, এমন ধারণা ঠিক নয়। সুষম খাদ্যাভ্যাস ও নিয়মিত শরীরচর্চার পাশাপাশি এগুলো খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে।
দই কেন উপকারী
দইয়ে থাকে প্রোটিন, ক্যালসিয়ামসহ বিভিন্ন পুষ্টি উপাদান। বিশেষ করে প্রোটিনসমৃদ্ধ খাবার তুলনামূলক বেশি সময় পেট ভরা রাখতে সাহায্য করতে পারে। ফলে মাঝখানে বারবার ক্ষুধা লাগা বা অপ্রয়োজনীয় নাশতা করার প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে। দইয়ে থাকা উপকারী ব্যাকটেরিয়া অন্ত্রের স্বাস্থ্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। তবে দই বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে সতর্ক হওয়া দরকার। বাজারের অনেক ফ্লেভারড বা মিষ্টি দইয়ে বাড়তি চিনি থাকতে পারে। ওজন নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে চিনি ছাড়া বা কম চিনি দেওয়া টক দই তুলনামূলক ভালো বিকল্প।
চিয়া সিডের ভূমিকা
চিয়া সিডে রয়েছে খাদ্যআঁশ, উদ্ভিজ্জ প্রোটিন ও স্বাস্থ্যকর ফ্যাট। পানির সংস্পর্শে এলে চিয়া সিড ফুলে জেলির মতো হয়। এতে থাকা দ্রবণীয় আঁশ খাবারকে ধীরে হজম হতে সাহায্য করতে পারে এবং দীর্ঘ সময় পেট ভরা অনুভূতি দিতে পারে। ফলে অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমাতে এটি সহায়ক হতে পারে।
তবে চিয়া সিডকে ওজন কমানোর কোনো জাদুকরী উপাদান হিসেবে দেখা উচিত নয়। এতে ক্যালরিও রয়েছে। তাই বেশি পরিমাণে খেলে বরং মোট ক্যালরি গ্রহণ বেড়ে যেতে পারে। পর্যাপ্ত পানি পান করাও জরুরি, কারণ এতে প্রচুর আঁশ থাকে।
কীভাবে খাবেন
সহজভাবে এক বাটি টক দইয়ের সঙ্গে এক থেকে দুই চা-চামচ চিয়া সিড মিশিয়ে কিছুক্ষণ রেখে খাওয়া যায়। চাইলে এর সঙ্গে পেয়ারা, আপেল, পেঁপে বা মৌসুমি ফল যোগ করা যেতে পারে। তবে চিনি, মধু, সিরাপ বা অতিরিক্ত মিষ্টি উপাদান যোগ করলে খাবারটির ক্যালরি বেড়ে যাবে।
সকালের নাশতা কিংবা বিকালের নাশতা হিসেবে এটি খাওয়া যেতে পারে। তবে দিনের অন্য খাবারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া, মিষ্টি, কোমল পানীয় ও পরিশোধিত কার্বোহাইড্রেট থাকলে শুধু দই-চিয়া সিড খেয়ে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন।
ওজন কমাতে মূল বিষয়
ওজন কমানোর মূল ভিত্তি হলো শরীরের প্রয়োজনের তুলনায় মোট ক্যালরি গ্রহণ নিয়ন্ত্রণ করা। পাশাপাশি পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত হাঁটা বা ব্যায়াম এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ। দই ও চিয়া সিড সেই খাদ্যাভ্যাসের একটি অংশ হতে পারে, পুরো ডায়েটের বিকল্প নয়। যাদের দুধজাত খাবারে সমস্যা হয় বা বিশেষ কোনো রোগের কারণে নির্দিষ্ট খাদ্যনিয়ম মেনে চলতে হয়, তাদের খাদ্যতালিকায় নিয়মিত দই ও চিয়া সিড যোগ করার আগে চিকিৎসক বা পুষ্টিবিদের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
সময়ের আলো/জেডি