বয়ঃসন্ধিতে বন্ধুদের প্রভাব সন্তানের আচরণ, সিদ্ধান্ত ও আত্মপরিচয় গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তাই এই সময়ে শুধু কার সঙ্গে মিশছে তা নিয়ন্ত্রণ না করে, কোন বন্ধুত্ব উপকারী আর কোনটি ক্ষতিকর, সেটি বুঝতে শেখানো জরুরি।
ভালো বন্ধু সব সময় একই মতের হবে এমন নয়। তবে সে সম্মান করবে, নিজের মতো থাকার সুযোগ দেবে, ব্যক্তিগত সীমারেখা মানবে এবং ভুল হলে অপমান না করে বুঝিয়ে বলবে। মতের অমিল হলেও সম্পর্কের মধ্যে নিরাপত্তা ও পারস্পরিক শ্রদ্ধা থাকবে।
অন্যদিকে বন্ধুত্বের নামে চাপ সৃষ্টি করা বড় সতর্ক সংকেত। ‘এটা না করলে তুমি আমার বন্ধু নও’, ‘সবাই করছে, তুমিও করো’ বা ‘বাড়িতে বলবে না’ ধরনের কথা শুনলে সন্তানকে বিষয়টি নিয়ে ভাবতে শেখান। তাকে ‘আমি এটা করতে চাই না’ বা ‘তুমি করলেও আমি করব না’ বলার আত্মবিশ্বাস তৈরি করতে হবে।
অপমান, ভয় দেখানো, নিয়ন্ত্রণ করা কিংবা ব্যক্তিগত ছবি ও তথ্য গোপন রাখার নামে চাপ দেওয়াও অস্বাস্থ্যকর আচরণ। অনলাইন বন্ধুত্বের ক্ষেত্রেও একই সতর্কতা প্রয়োজন।
সন্তানের কোনো বন্ধুকে সরাসরি ‘খারাপ’ বলার বদলে প্রশ্ন করুন, ‘ওর সঙ্গে থাকলে তোমার কেমন লাগে?’ কিংবা ‘তুমি কি নিজের মতো কথা বলতে পারো?’ এতে সন্তান নিজের অভিজ্ঞতা বিশ্লেষণ করতে শিখবে।
বাবা-মায়ের উচিত সন্তানের বন্ধুদের সম্পর্কে ধারণা রাখা, প্রয়োজনে তাদের সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে পরিচিত হওয়া এবং বিচার না করে সন্তানের কথা শোনা। অতিরিক্ত নজরদারির বদলে এমন সম্পর্ক গড়ে তুলুন, যাতে বিপদে পড়লে সন্তান প্রথমেই বাবা-মায়ের কাছে আসে।
ছেলে বা মেয়ে যেই হোক, বন্ধুত্বের মূল মানদণ্ড একই- সম্মান, নিরাপত্তা, স্বাধীনতা ও পারস্পরিক সহযোগিতা।
সময়ের আলো/এমকে