বিয়ের আগে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি

সময়ের আলো ডেস্ক

ফিচার

বিয়ে ঘিরে বর-কনের প্রস্তুতির কমতি থাকে না। পোশাক, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দুজনই। তবে এসব

2026-09-19T19:35:36+00:00
2026-09-19T19:35:36+00:00
 
  শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
৪ আশ্বিন ১৪৩৩
শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
বিয়ের আগে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি
সময়ের আলো ডেস্ক
প্রকাশ: শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৭:৩৫ পিএম 
বিয়ের আগে যেসব স্বাস্থ্য পরীক্ষা জরুরি। ছবি : সংগৃহীত
বিয়ে ঘিরে বর-কনের প্রস্তুতির কমতি থাকে না। পোশাক, সাজসজ্জা থেকে শুরু করে নানা আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত থাকেন দুজনই। তবে এসব প্রস্তুতির পাশাপাশি বিয়ের আগে নিজেদের স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়াটাও গুরুত্বপূর্ণ।

চিকিৎসকদের মতে, কিছু রোগ ও শারীরিক জটিলতা সম্পর্কে আগে থেকে জানা থাকলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া সহজ হয়। বিশেষ করে থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু বংশগত রোগের ক্ষেত্রে বিয়ের আগে পরীক্ষা গুরুত্বপূর্ণ। ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কেও এ ধরনের পরীক্ষা ধারণা দিতে পারে।

তবে অনেকেই বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার বিষয়টি গুরুত্ব দেন না। অথচ বিয়ের পর সম্ভাব্য জটিলতা এড়াতে এবং নিজের ও ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে কয়েকটি পরীক্ষা বিবেচনা করা যেতে পারে।

রক্ত পরীক্ষা

বিয়ের আগে বর-কনের রক্তের গ্রুপ জানা যেতে পারে। এর পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী কমপ্লিট ব্লাড কাউন্ট (সিবিসি), রক্তে শর্করা এবং থাইরয়েডের কার্যকারিতা পরীক্ষা করা যেতে পারে। রক্ত পরীক্ষায় কোনো অস্বাভাবিকতা ধরা পড়লে প্রয়োজন অনুযায়ী পরবর্তী পরীক্ষা বা চিকিৎসার ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

জিনগত রোগের পরীক্ষা

পরিবারে কোনো বংশগত রোগের ইতিহাস থাকলে বিয়ের আগে জেনেটিক কাউন্সেলিং ও প্রয়োজনীয় জিনগত পরীক্ষা করা যেতে পারে। থ্যালাসেমিয়া, সিকল সেল অ্যানিমিয়ার মতো কিছু রোগের ঝুঁকি সম্পর্কে এসব পরীক্ষার মাধ্যমে ধারণা পাওয়া সম্ভব। কিছু ক্ষেত্রে পরিবারে ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ, নির্দিষ্ট ধরনের ক্যানসার বা কিডনি রোগের ইতিহাস থাকলেও চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ।

যৌনবাহিত সংক্রমণের পরীক্ষা

বিয়ের আগে এইচআইভি, হেপাটাইটিস বি ও সি এবং সিফিলিসের মতো সংক্রমণের পরীক্ষা করা যেতে পারে। কোনো সংক্রমণ থাকলে তা আগে শনাক্ত করা গেলে চিকিৎসা ও সংক্রমণ প্রতিরোধের ব্যবস্থা নেওয়া সম্ভব।

এ ছাড়া গনোরিয়াসহ অন্যান্য যৌনবাহিত সংক্রমণ সম্পর্কেও প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। নারীদের ক্ষেত্রে ব্যাকটেরিয়াল ভ্যাজাইনোসিসের মতো সমস্যাও চিকিৎসকের পরামর্শে শনাক্ত ও চিকিৎসা করা যায়।

প্রজননস্বাস্থ্য ও ফার্টিলিটি পরীক্ষা

বিয়ের আগে প্রজননস্বাস্থ্য সম্পর্কে সচেতন হওয়াও গুরুত্বপূর্ণ। নারী ও পুরুষ—উভয়ের ক্ষেত্রেই সন্তান ধারণের সক্ষমতা নিয়ে কোনো সমস্যা বা ঝুঁকি আছে কি না, তা প্রয়োজন অনুযায়ী চিকিৎসকের পরামর্শে মূল্যায়ন করা যেতে পারে।


তবে সবার জন্য একই ধরনের ফার্টিলিটি পরীক্ষা প্রয়োজন হয় না। বয়স, শারীরিক অবস্থা, পূর্বের চিকিৎসা ইতিহাস ও অন্যান্য বিষয় বিবেচনা করে চিকিৎসক প্রয়োজনীয় পরীক্ষা নির্ধারণ করেন।

হাড়ের স্বাস্থ্য পরীক্ষা

ভিটামিন ডি-এর ঘাটতি বা হাড়ের কোনো সমস্যা থাকলে প্রয়োজন অনুযায়ী পরীক্ষা করা যেতে পারে। হাড়ের ঘনত্ব পরীক্ষাও নির্দিষ্ট ঝুঁকি বা চিকিৎসকের পরামর্শ থাকলে করা হয়। রিকেট, হাড়ের গঠনগত সমস্যা কিংবা অস্টিওপোরোসিসের মতো সমস্যা থাকলে তা আগে শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়া সহজ হয়।

বিয়ের আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা মানেই সবার সব ধরনের পরীক্ষা করানো নয়। ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক রোগের ইতিহাস, শারীরিক উপসর্গ ও ঝুঁকি বিবেচনা করে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষাগুলো করা সবচেয়ে উপযোগী। এতে সম্ভাব্য স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে আগে থেকেই সচেতন হওয়া এবং প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়।

সময়ের আলো/জেডি 
  বিষয়:   বিয়ে  স্বাস্থ্য পরীক্ষা  জরুরি 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: