প্রথম প্রেম ভেঙে গেলে কষ্টটা যেন অন্য সব বিচ্ছেদের চেয়ে বেশি গভীর মনে হয়। সময়ের সঙ্গে মানুষ অনেক সম্পর্কের স্মৃতি পেছনে ফেলে এলেও প্রথম প্রেমের অনুভূতি দীর্ঘদিন মনে থেকে যায়। এর পেছনে আবেগের পাশাপাশি মস্তিষ্কের রাসায়নিক পরিবর্তনও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
জীবতাত্ত্বিক-নৃতত্ত্ববিদ হেলেন ফিশারের ২০০৫ সালের গবেষণায় দেখা যায়, রোমান্টিক প্রেম মানুষের মস্তিষ্কে বিশেষ ধরনের সক্রিয়তা তৈরি করে। পরে হার্ভার্ড মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণাতেও প্রেমের সঙ্গে মস্তিষ্কের বিভিন্ন রাসায়নিক পরিবর্তনের সম্পর্ক উঠে আসে।
প্রেমের সময় অক্সিটোসিন, ডোপামিন ও নোরাপেনাফ্রিনের মতো রাসায়নিকের ভূমিকা দেখা যায়। অক্সিটোসিন ঘনিষ্ঠতা ও অনুরাগের অনুভূতির সঙ্গে যুক্ত, আর ডোপামিন মস্তিষ্কে পুরস্কার ও প্রেরণার অনুভূতি বাড়ায়। নোরাপেনাফ্রিন আবার প্রিয় মানুষকে ঘিরে উত্তেজনা ও অস্থিরতার অনুভূতি তৈরি করতে পারে। অন্যদিকে স্ট্রেসের সঙ্গে সম্পর্কিত কর্টিসলের মাত্রায় পরিবর্তন দেখা যায়।
২০১৭ সালের একটি গবেষণায় দেখা যায়, সম্পর্ক ভেঙে যাওয়ার প্রায় তিন মাস পর ৭১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বিচ্ছেদের ধাক্কা অনেকটা সামলে উঠেছিলেন। তবে প্রথম প্রেমের স্মৃতি তুলনামূলকভাবে দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার পেছনে রয়েছে জীবনের প্রথম বড় আবেগীয় অভিজ্ঞতার বিশেষ প্রভাব।
মনস্তত্ত্ববিদ জেফারসন সিঙ্গারের মতে, ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সে মানুষের জীবনে ‘মেমরি বাম্প’ দেখা দিতে পারে। এ সময় প্রথম প্রেম, প্রথম চুম্বন বা গাড়ি চালানোর মতো গুরুত্বপূর্ণ অভিজ্ঞতা স্মৃতিতে গভীরভাবে গেঁথে যায়।
ফলে প্রথম প্রেম শুধু একটি পুরোনো সম্পর্কের স্মৃতি নয়। জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে পাওয়া সেই তীব্র আবেগ পরবর্তী সম্পর্ক, স্মৃতি ও ভালোবাসা সম্পর্কে আমাদের ধারণাকেও প্রভাবিত করতে পারে।
সূত্র : বিগথিঙ্ক ডটকম
সময়ের আলো/এমকে