বৃষ্টির দিনে রাস্তায় জমে থাকা পানি অনেক সময় হয়ে উঠতে পারে নীরব বিপদের কারণ। পানির নিচে ছেঁড়া বৈদ্যুতিক তার পড়ে থাকলে চোখে না দেখেই বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন যে কেউ। মুহূর্তের মধ্যেই ঘটতে পারে বড় দুর্ঘটনা।
এমন পরিস্থিতিতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট কাউকে দেখলে দ্রুত সাহায্যে এগিয়ে যাওয়াটাই স্বাভাবিক। কিন্তু আক্রান্ত ব্যক্তি বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকা অবস্থায় ভুলভাবে তাকে ধরতে গেলে বিপদে পড়তে পারেন উদ্ধারকারীও। তাই এমন ঘটনায় প্রথম কয়েক মিনিটে কী করতে হবে, আর কোন ভুলগুলো এড়িয়ে চলতে হবে— তা জানা জরুরি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিদ্যুতের উৎস থেকে আক্রান্ত ব্যক্তিকে নিরাপদে আলাদা করার আগে সরাসরি শরীরে হাত দেওয়া, ভেজা কোনো জিনিস ব্যবহার করা কিংবা ধাতব বস্তু দিয়ে তাকে সরানোর চেষ্টা বিপজ্জনক। এমনকি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর আক্রান্ত ব্যক্তি স্বাভাবিকভাবে কথা বললেও বিষয়টি হালকাভাবে নেওয়া ঠিক নয়।
চিকিৎসক অন্বিত ভট্টাচার্যের মতে, বিদ্যুৎ শরীরের ভেতর দিয়ে প্রবাহিত হলে স্নায়ু ও পেশির পাশাপাশি হৃদ্যন্ত্রের কার্যক্রমেও প্রভাব পড়তে পারে। ফলে বাইরে থেকে স্বাভাবিক মনে হলেও হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা বা অ্যারিদমিয়া দেখা দিতে পারে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হলে প্রথমে যা করবেন
বিদ্যুতের সংযোগ বন্ধ করুন : প্রথমেই দ্রুত মেইন সুইচ বন্ধ করার ব্যবস্থা করতে হবে। বিদ্যুতের উৎস বন্ধ না হওয়া পর্যন্ত আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করা যাবে না।
বিদ্যুৎ বন্ধ হওয়ার আগে ধরবেন না : আক্রান্ত ব্যক্তি যদি তখনও বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকেন, তাকে সরাসরি ধরলে উদ্ধারকারীর শরীরেও বিদ্যুৎ প্রবাহিত হতে পারে। তাই বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন না হওয়া পর্যন্ত সরাসরি স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকতে হবে।
প্রয়োজনে নিরাপদ উপায়ে সরান : বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করার পর প্রয়োজন হলে শুকনো কাঠের লাঠি, শুকনো বাঁশ বা মোটা প্লাস্টিকের মতো অপরিবাহী বস্তু ব্যবহার করে আক্রান্ত ব্যক্তিকে সরানো যেতে পারে।
নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করুন : উদ্ধার করতে গিয়ে নিজে যেন বিপদে না পড়েন, সেটিও গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি ঝুঁকিপূর্ণ হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া উচিত।
যে ভুলগুলো প্রাণঘাতী হতে পারে
সরাসরি শরীরে হাত দেওয়া : আক্রান্ত ব্যক্তি যদি বিদ্যুতের সংস্পর্শে থাকেন, তাকে সরাসরি ধরলে বিদ্যুৎ উদ্ধারকারীর শরীরেও প্রবাহিত হতে পারে। হাত ভেজা থাকলে এই ঝুঁকি আরও বেড়ে যায়।
পানি বা ধাতব বস্তু ব্যবহার করা : বিদ্যুৎস্পৃষ্ট ব্যক্তিকে সরানোর জন্য পানি, ভেজা কাপড় বা ধাতব কোনো বস্তু ব্যবহার করা উচিত নয়। এগুলো বিদ্যুৎ পরিবাহিত করতে পারে। ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিকে উদ্ধারের বদলে উদ্ধারকারীও বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে পারেন।
স্বাভাবিক দেখালেই বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়া : বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার পর কেউ কথা বলতে বা হাঁটতে পারছেন— এমন দেখালেও নিশ্চিন্ত হওয়ার সুযোগ নেই। বিদ্যুতের প্রভাবে হৃদ্স্পন্দনে অস্বাভাবিকতা তৈরি হতে পারে, যা সবসময় শুরুতেই বোঝা যায় না। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। প্রয়োজনে ইসিজিসহ অন্যান্য পরীক্ষা করাতে হতে পারে।
শ্বাস না থাকলে কী করবেন?
বিদ্যুতের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পর আক্রান্ত ব্যক্তির সাড়া ও শ্বাস-প্রশ্বাস পরীক্ষা করতে হবে। শ্বাস না থাকলে বা স্বাভাবিক শ্বাস-প্রশ্বাস না হলে দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নিতে হবে। প্রশিক্ষণ থাকলে সিপিআর শুরু করা যেতে পারে।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হওয়ার ঘটনা কয়েক সেকেন্ডের হলেও এর প্রভাব হতে পারে মারাত্মক। তাই কাউকে উদ্ধারের সময় তাড়াহুড়ো করে তাকে ধরে টেনে তোলার বদলে প্রথমে বিদ্যুতের উৎস বন্ধ করতে হবে। এরপর নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত চিকিৎসা সহায়তার ব্যবস্থা করাই জরুরি।
সময়ের আলো/জেডি