নারী হয়ে চ্যালেঞ্জিং পেশা অশ্বারোহণের স্বপ্ন সবাই দেখেন না। তবে, সবকিছু ছাপিয়ে এই পেশায় এসেছেন বেশ কয়েকজন নারী। বিশ্বমঞ্চে আলো ছড়িয়ে সুনামও কুড়িয়েছেন যথেষ্ট। একজন অশ্বারোহী নারী প্রতিবন্ধী হয়েও নিজের অসীম মনোবল ও কঠোর অনুশীলনে বিবিসির সেরা ১০০ নারীর তালিকায় নিজের নাম লিখিয়েছেন।
জেনিফার ক্যাথেরিন গেটস (যুক্তরাষ্ট্র)
বিশ্বের অন্যতম শীর্ষ ধনী বিল গেটসের বড় মেয়ে জেনিফার ক্যাথেরিন গেটস। ১৯৯৬ সালে যুক্তরাষ্ট্রের বেলভিউতে জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যার বাবা এত ধনী, তিনি চাইলেই সারা জীবন কোনো কাজ না করে আয়েশ করে জীবন কাটাতে পারতেন। কিন্তু বিল গেটস তার সন্তানদের সেই শিক্ষা দেননি। তিনি সন্তানদের স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, তার সব অর্থ-সম্পত্তির বেশিরভাগ অংশই ব্যয় হবে দাতব্য কাজে, সন্তানরা খুব অল্প পরিমাণ ভাগ পাবে। তাই সবাই যেন নিজেদের মতো করে স্বাবলম্বী হয়। এজন্য মাত্র ২৪ বছর বয়সেই জেনিফার ক্যারিয়ার গোছানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন এবং নিজেকে দক্ষ অশ্বারোহী হিসেবে গড়ে তোলেন। মেয়ের স্বপ্ন পূরণ করতে বিল গেটস প্রতিষ্ঠা করেন ‘শো জাম্পিং টিম প্যারিস প্যানথার্স’; যেখানে অশ্বারোহী ও ব্যবস্থাপকের দায়িত্ব পালন করেন জেনিফার ও নাসার। ২০১৯ সালে গ্লোবাল চ্যাম্পিয়নস লিগের নবম স্থানে ছিল এ টিম।
ইভ জবস (যুক্তরাষ্ট্র)
কয়েক বছর ধরেই সফল অশ্বারোহী হিসেবে খবরের শিরোনাম হয়েছেন যিনি, তিনি অ্যাপলের সহপ্রতিষ্ঠাতা প্রয়াত স্টিভ জবসের মেয়ে ইভ জবস। ১৯৯৮ সালে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। যার পারিবারিক ব্যবসা বিশ্বজুড়ে রমরমা, তিনি সেই নিশ্চিত ক্যারিয়ার ছেড়ে বেছে নিলেন ভিন্ন পথ এবং সফলতার সঙ্গে নিজের পরিচয়ও তৈরি করেন। ২০১৯ সালে একটি অশ্বারোহী খেলায় তিনি বিশ্বের সেরা ২৫ অশ্বারোহীর ভেতর শীর্ষ পাঁচে ছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার মা-বাবা আমাকে পড়াশোনার ব্যাপারেই বেশি উৎসাহিত করেছিলেন। তবে, গ্রীষ্ম ও বসন্তের ছুটিতে আমাকে বিভিন্ন অশ্বারোহী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করতে দিতেন।’
তিনি আরও বলেন, ‘অশ্বারোহী খেলায় আমি যা অর্জন করতে চেয়েছিলাম, তা আমি করতে পেরেছি। এটা আমাকে খুব স্বস্তি দেয়।’
জেসিকা রে স্প্রিংস্টিন (যুক্তরাষ্ট্র)
১৯৯১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে জন্মগ্রহণ করেন জেসিকা। তিনি একজন শো জাম্পিং চ্যাম্পিয়ন রাইডার। আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অশ্বারোহী দলের প্রতিনিধিত্ব করেছেন। অংশগ্রহণ করেছেন টোকিও অলিম্পিকে। টিম জাম্পিংয়ে তিনি রৌপ্যপদক জিতেছেন। তার বাবা ব্রুস স্প্রিংস্টিন একজন সংগীতশিল্পী। জন্ম লস অ্যাঞ্জেলেসে হলেও বাবা-মা তাকে লস অ্যাঞ্জেলস থেকে নিয়ে যান নিউ জার্সিতে। নিউ জার্সির রামসন কান্ট্রি ডে স্কুলে তিনি পড়াশোনা করেন। ডিউক ইউনিভার্সিটি থেকে ২০১৪-তে স্নাতক করেন। শো জাম্পিং রাইডার হিসেবে ক্যারিয়ার শুরু করার পর তিনি মডেলিংও শুরু করেছিলেন। সৌভাগ্যক্রমে গুচির অশ্বারোহী রাষ্ট্রদূত হিসেবে মনোনীত হন তিনি।
অ্যান্টিনিসকা সেনসি (ইতালি)
অ্যান্টিনিসকা সেনসির জন্ম ইতালির উত্তরাঞ্চলের লা ফেনিসে। তার জন্ম আর দশটা স্বাভাবিক শিশুর মতো ছিল না। তিনি জন্মেছিলেন শারীরিক জটিলতা নিয়ে। তাই তার জীবন কখনোই সহজ ছিল না।
তার স্বপ্ন ছিল অশ্বারোহী হওয়া। ইতালির স্থানীয় প্রতিবন্ধীদের সংগঠন আনফাস এবং লা ফেনিস ভল্টিং টিমের সঙ্গে তিনি তার অশ্বারোহী জীবন শুরু করেন। ৩০ বছর বয়সে তিনি পেশাদার অশ্বারোহীর কাজ শুরু করেন। ৪০ বছর বয়সে ঘোড়ার পিঠে জিমন্যাস্টিকস করা একটি দলের সদস্য হন সেনসি। এখন তিনি ভল্টার আনা কাভায়েরোর মতো বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন এবং নেলসন ভিদোনির মতো বিখ্যাত প্রশিক্ষকের সঙ্গে ভল্টিং প্রশিক্ষণে অংশ নেন। ২০২৩ সালের বিবিসির সেরা ১০০ নারীর তালিকায় উঠে এসেছে এই অশ্বারোহীর নাম, যিনি মনের জোরে ও কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে সব প্রতিবন্ধকতাকে জয় করতে সক্ষম হয়েছেন।
তথ্যসূত্র : বিবিসি, বিজনেস ইনসাইডার ও অন্যান্য
সময়ের আলো/মহু