বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে আসা পান্ডা কেন শুধু চীনেই?

ফিচার

কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি বন। চারদিকে নীরবতা। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে মৃদু বাতাস, আর সেই নীরবতার মাঝেই বাঁশ খেতে খেতে ধীরে

2026-09-17T03:45:03+00:00
2026-09-17T03:45:03+00:00
 
  বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
২ আশ্বিন ১৪৩৩
বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬
ফিচার
বিলুপ্তির কিনারা থেকে ফিরে আসা পান্ডা কেন শুধু চীনেই?
প্রকাশ: বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ৩:৪৫ এএম 
সংগৃহীত ছবি
কুয়াশায় ঢাকা পাহাড়ি বন। চারদিকে নীরবতা। গাছের পাতার ফাঁক দিয়ে মৃদু বাতাস, আর সেই নীরবতার মাঝেই বাঁশ খেতে খেতে ধীরে ধীরে এগিয়ে চলছে কালো-সাদা এক প্রাণী— জায়ান্ট পান্ডা। পৃথিবীর অন্যতম বিরল এই স্তন্যপায়ী প্রাণীকে স্বাভাবিক পরিবেশে দেখা যায় শুধু চীনেই। দেশটির পাহাড়ি বন, বাঁশঝাড় আর শীতল আবহাওয়ার সঙ্গে পান্ডার জীবন এমনভাবে মিশে গেছে যে প্রাণীটি এখন চীনের প্রকৃতি, সংস্কৃতি ও জাতীয় পরিচয়েরও একটি প্রতীকে পরিণত হয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন হলো— পৃথিবীর অন্য অনেক দেশেই পাহাড়, বন ও বাঁশ রয়েছে। তা হলে জায়ান্ট পান্ডার প্রাকৃতিক আবাসস্থল শুধু চীনেই কেন? এর উত্তর খুঁজতে গেলে ফিরে যেতে হয় পান্ডার বিবর্তন, খাদ্যাভ্যাস, আবাসস্থল এবং মানুষের সঙ্গে তাদের দীর্ঘ সম্পর্কের ইতিহাসে।

পান্ডা আসলে কেমন প্রাণী? : জায়ান্ট পান্ডা ভালুক পরিবারের সদস্য। পূর্ণবয়স্ক একটি পান্ডার দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় মিটার এবং কাঁধ পর্যন্ত উচ্চতা প্রায় ৯০ সেন্টিমিটার হতে পারে। ওজন ১৫০ কেজি পর্যন্ত পৌঁছায়। সাধারণত পুরুষ পান্ডা স্ত্রী পান্ডার তুলনায় কিছুটা বড় ও ভারী। চোখের চারপাশ, কান, নাকের অংশ, কাঁধ ও পায়ে কালো লোম এবং শরীরের বাকি অংশে ঘন সাদা লোম— এই বৈশিষ্ট্যই তাকে অন্য প্রাণী থেকে আলাদা করে। ঘন ও উলের মতো লোম তাদের পাহাড়ি শীতল পরিবেশে শরীরের তাপ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

অন্যদিকে নবজাতক পান্ডা শাবক আশ্চর্যজনকভাবে ছোট। মায়ের বিশাল শরীরের তুলনায় জন্মের সময় শাবকের আকার এতটাই ক্ষুদ্র যে এটি স্তন্যপায়ী প্রাণীদের মধ্যে অন্যতম ব্যতিক্রমী বৈশিষ্ট্য।

মাংসাশীর শরীর অথচ প্রধান খাবার বাঁশ : পান্ডার পরিপাকতন্ত্র অনেকটা মাংসাশী প্রাণীর মতো হলেও বিবর্তনের ধারায় তারা প্রায় পুরোপুরি তৃণভোজী হয়ে উঠেছে। আর তাদের খাদ্যের সবচেয়ে বড় অংশজুড়ে রয়েছে বাঁশ। একটি পান্ডাকে প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ৩৮ কেজি পর্যন্ত বাঁশ খেতে হতে পারে। দিনের প্রায় অর্ধেক সময়ই তারা খাবার খেতে ব্যয় করে।

বাঁশে পুষ্টির পরিমাণ কম এবং এর বড় অংশ পান্ডার শরীরে হজম হয় না। তাই প্রচুর পরিমাণে বাঁশ খাওয়ার পাশাপাশি তাদের দিনে বহুবার মলত্যাগও করতে হয়। তবে পান্ডা শুধু বাঁশনির্ভর প্রাণী নয়। তাদের খাদ্যের সামান্য অংশে অন্যান্য উদ্ভিদ এবং কখনো কখনো ছোট প্রাণীও থাকে। বাঁশ আঁকড়ে ধরে খাওয়ার জন্য তাদের শরীরে রয়েছে বিশেষ এক ধরনের কবজির হাড়, যা অনেকটা অতিরিক্ত আঙুলের মতো কাজ করে। শক্ত দাঁত ও এই বিশেষ অঙ্গের সাহায্যে তারা বাঁশের কাণ্ড ও পাতা দক্ষতার সঙ্গে ধরে খেতে পারে। কিন্তু এই বাঁশনির্ভরতাই আবার তাদের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা।

কারণ বাঁশবন হারিয়ে গেলে পান্ডার খাবারও হারিয়ে যায়। আর খাবার হারানোর অর্থ হলো তাদের অস্তিত্বই হুমকির মুখে পড়া।

কেন শুধু চীনের পাহাড়েই? : জায়ান্ট পান্ডা শুধু চীনে পাওয়া যায়— এটি কোনো আকস্মিক ঘটনা নয়। হাজার হাজার বছরের পরিবেশগত পরিবর্তন ও বিবর্তনের ফলেই তাদের বর্তমান আবাসস্থল তৈরি হয়েছে। একসময় পান্ডার বিচরণক্ষেত্র বর্তমান চীনের অনেক বিস্তৃত অঞ্চলজুড়ে ছিল। এমনকি চীনের সীমানা পেরিয়ে মিয়ানমার ও উত্তর ভিয়েতনাম পর্যন্ত তাদের উপস্থিতির প্রমাণ পাওয়া যায়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে মানুষের সংখ্যা বাড়তে থাকে। কৃষিজমি, বসতি, রাস্তা এবং অন্যান্য অবকাঠামোর বিস্তারের কারণে পান্ডার বিশাল বনাঞ্চল ধীরে ধীরে ছোট হতে থাকে। একসময় বিস্তীর্ণ এলাকায় ছড়িয়ে থাকা পান্ডারা ক্রমে সরে যেতে বাধ্য হয় চীনের দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে। বর্তমানে বন্য জায়ান্ট পান্ডার আবাসস্থল মূলত চীনের সিচুয়ান, শানশি ও গানসু প্রদেশের কয়েকটি পাহাড়ি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ। এসব এলাকায় প্রায় ২০টি বিচ্ছিন্ন বাঁশবনে তাদের বসবাস রয়েছে। মিনশান ও চিনলিং পর্বতমালা এখন বন্য পান্ডার অন্যতম প্রধান আশ্রয়স্থল।

চীন কেন পান্ডার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ? : এর একটি বড় কারণ বাঁশ। বাঁশের প্রজাতি ও বৈচিত্র্যের দিক থেকে চীন পৃথিবীর অন্যতম সমৃদ্ধ দেশ। পান্ডার প্রয়োজনীয় বিভিন্ন প্রজাতির বাঁশ সেখানে পাহাড়ি বনাঞ্চলে ঘনভাবে জন্মায়। তবে শুধু খাবার থাকলেই পান্ডার জন্য পরিবেশ উপযুক্ত হয় না। তাদের প্রয়োজন নির্দিষ্ট ধরনের নাতিশীতোষ্ণ পাহাড়ি বন, পর্যাপ্ত পানির উৎস এবং তুলনামূলক শীতল আবহাওয়া। পান্ডা অতিরিক্ত গরম সহ্য করতে পারে না। চীনের উঁচু পাহাড়, কুয়াশাচ্ছন্ন উপত্যকা এবং দীর্ঘ সময় ধরে বিরাজ করা শীতল পরিবেশ তাদের জন্য আদর্শ। অর্থাৎ চীনের পাহাড়ি অঞ্চল পান্ডার জন্য একই সঙ্গে খাবার, আশ্রয় ও উপযুক্ত জলবায়ু সরবরাহ করে।

কতগুলো পান্ডা এখন বনে আছে? : বনে থাকা পান্ডার সংখ্যা নির্ধারণ করা সহজ নয়। দুর্গম পাহাড়ি বনাঞ্চলে গবেষকদের দীর্ঘ সময় ধরে অনুসন্ধান চালাতে হয়। পান্ডাকে সরাসরি দেখা না গেলেও তাদের উপস্থিতির বিভিন্ন চিহ্ন থেকে সংখ্যা ও বিস্তৃতি সম্পর্কে ধারণা পাওয়া যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ একটি সূত্র হলো পান্ডার মল।

গবেষকরা মল সংগ্রহ করে তাতে থাকা হজম না হওয়া বাঁশের অংশ বিশ্লেষণ করেন। কামড়ের দাগ পরীক্ষা করেও আলাদা পান্ডাকে শনাক্ত করা সম্ভব হয়। কারণ প্রতিটি পান্ডার কামড়ের ছাপ অনেকটা মানুষের আঙুলের ছাপের মতো স্বতন্ত্র।

২০১৪ সালের একটি বড় জরিপে চীনের বনে প্রায় ১ হাজার ৮৬৪টি জায়ান্ট পান্ডা থাকার তথ্য পাওয়া যায়। সংখ্যাটি খুব বেশি নয়। কিন্তু কয়েক দশক আগের পরিস্থিতির তুলনায় এটি বড় পরিবর্তন। সত্তরের দশকের শেষ দিকে বন্য পান্ডার সংখ্যা এক হাজারেরও নিচে নেমে গিয়েছিল।

বনের বাইরে চিড়িয়াখানা ও সংরক্ষণকেন্দ্রগুলোতেও কয়েকশ পান্ডা রয়েছে। তবে এসব পান্ডার বড় অংশই চীনে এবং বিদেশে থাকা পান্ডাগুলোরও মালিকানা চীনের হাতে।

কীভাবে বিলুপ্তির মুখ থেকে ফিরে এলো পান্ডা? : পান্ডাকে ঘিরে মানুষের আগ্রহ বহু পুরোনো। তবে আধুনিক বিশ্বে প্রাণীটি ব্যাপক পরিচিতি পায় উনিশ শতকের শেষভাগে। ১৮৬৯ সালে ফরাসি ধর্মযাজক ও প্রকৃতিবিদ আর্মান্ড ডেভিডের হাতে একটি পান্ডার চামড়া পৌঁছানোর পর ইউরোপের বৈজ্ঞানিক মহলে প্রাণীটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। বিশ শতকের শুরুতে শিকারি ও সংগ্রাহকদের মাধ্যমে পান্ডা পশ্চিমা বিশ্বের আরও পরিচিত হয়ে ওঠে।

১৯৩৬ সালে আমেরিকান অভিযাত্রী রুথ হারকেস একটি জীবিত শিশু পান্ডাকে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে গেলে প্রাণীটি আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম ও সাধারণ মানুষের ব্যাপক আকর্ষণের কেন্দ্র হয়ে ওঠে। বড় চোখ, গোল মুখ, কালো-সাদা শরীর এবং শান্ত স্বভাবের কারণে পান্ডা খুব দ্রুত মানুষের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। কিন্তু এই জনপ্রিয়তার সময়েই তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল দ্রুত সংকুচিত হচ্ছিল।

সংরক্ষণে বড় পরিবর্তন : ১৯৪৬ সালে চীন বিদেশিদের জন্য পান্ডা নিয়ে যাওয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। এরপর ষাটের দশকের শুরুতে পান্ডার জন্য সংরক্ষিত এলাকা গড়ে তোলা এবং শিকার নিষিদ্ধ করার মতো পদক্ষেপ নেওয়া হয়। সত্তরের দশকের জরিপে পান্ডার সংখ্যা আশঙ্কাজনকভাবে কমে যাওয়ার চিত্র সামনে আসে। বিশেষ করে সিচুয়ান অঞ্চলে তাদের উপযুক্ত বনাঞ্চলের বড় অংশ ইতিমধ্যে হারিয়ে গিয়েছিল। এরপর সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়।

নব্বইয়ের দশকে পান্ডার আবাসস্থলের বড় অংশ সংরক্ষিত এলাকার আওতায় আনা হয়। পাশাপাশি বিচ্ছিন্ন বনাঞ্চলগুলোকে সংযুক্ত করতে তৈরি করা হয় বাঁশ করিডোর। এর উদ্দেশ্য ছিল পান্ডাদের এক বন থেকে অন্য বনে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করা, নতুন খাবারের উৎস পাওয়া এবং সঙ্গী খুঁজে প্রজননের সুযোগ বাড়ানো। চীনে বর্তমানে কয়েক ডজন পান্ডা সংরক্ষিত এলাকা রয়েছে। এসব এলাকায় বন্য পান্ডার বড় একটি অংশ নিরাপদে বসবাস করছে। এই দীর্ঘমেয়াদি সংরক্ষণ প্রচেষ্টার ফলেই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে পান্ডার সংখ্যা।

পান্ডা যখন কূটনীতির হাতিয়ার : পান্ডার গল্প শুধু প্রকৃতি সংরক্ষণে সীমাবদ্ধ নয়। আন্তর্জাতিক রাজনীতিতেও প্রাণীটি একসময় বিশেষ ভূমিকা পালন করেছে। ১৯৪৯ সালের পর চীন বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বন্ধুত্ব ও কূটনৈতিক সম্পর্ক জোরদারের প্রতীক হিসেবে জায়ান্ট পান্ডা উপহার দিতে শুরু করে। ১৯৫৭ থেকে ১৯৮৩ সালের মধ্যে বিভিন্ন দেশকে কয়েক ডজন পান্ডা উপহার দেওয়া হয়। এই প্রক্রিয়াই পরে পরিচিতি পায় ‘পান্ডা ডিপ্লোম্যাসি’ নামে।

শীতল যুদ্ধের উত্তেজনাপূর্ণ সময়েও পান্ডা কূটনীতির প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র, সোভিয়েত ইউনিয়ন ও যুক্তরাজ্যের মতো দেশও বিভিন্ন সময়ে চীনের কাছ থেকে পান্ডা পেয়েছে। তবে আশির দশকে এই নীতিতে বড় পরিবর্তন আসে।

চীন পান্ডাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করে উপহার দেওয়ার বদলে বিদেশি দেশগুলোকে নির্দিষ্ট শর্তে পান্ডা ধার দেওয়ার ব্যবস্থা চালু করে। এর ফলে বিদেশে থাকা পান্ডার আইনগত মালিকানা চীনের কাছেই থেকে যায়। এমনকি বিদেশে জন্ম নেওয়া পান্ডা শাবকের ক্ষেত্রেও মালিকানা চীনের।

বিদেশে থাকা পান্ডার জন্য খরচও কম নয় : চীনের কাছ থেকে পান্ডা ধার নেওয়া সহজ কোনো বিষয় নয়। বিদেশি চিড়িয়াখানাগুলোকে পান্ডার জন্য বিশেষ পরিবেশ তৈরি করতে হয়। তাদের খাবার, চিকিৎসা, পরিচর্যা ও প্রজনন গবেষণার জন্যও বড় ধরনের অর্থ ব্যয় করতে হয়। এ ছাড়া পান্ডা ধার নেওয়ার জন্য চীনের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি চুক্তি করতে হয়। সাধারণত একটি চুক্তির মেয়াদ প্রায় ১০ বছর। চুক্তি শেষ হলে প্রয়োজন ও পারস্পরিক সম্মতির ভিত্তিতে তা বাড়ানো যেতে পারে। কিছু ক্ষেত্রে বড় বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক সম্পর্কের সঙ্গেও পান্ডা পাঠানোর ঘটনা যুক্ত হয়েছে।

স্কটল্যান্ডের এডিনবরায় পান্ডা পাঠানোর সময় চীনের সঙ্গে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদারের বিষয়টি আলোচনায় এসেছিল। একইভাবে বেলজিয়ামে পান্ডা পাঠানোর ক্ষেত্রেও বাণিজ্যিক সহযোগিতার প্রসঙ্গ সামনে এসেছিল।

তা হলে পান্ডা শুধু চীনেরই কেন? : এর উত্তর আসলে দুই ভাগে ভাগ করা যায়। প্রথমত প্রকৃতি ও বিবর্তন। পান্ডা এমন একটি প্রাণী, যার জীবন বাঁশ, পাহাড়ি বন ও শীতল পরিবেশের সঙ্গে গভীরভাবে যুক্ত। ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে তাদের বিস্তৃত আবাসস্থল সংকুচিত হতে হতে শেষ পর্যন্ত চীনের নির্দিষ্ট পাহাড়ি অঞ্চলে সীমাবদ্ধ হয়েছে।

দ্বিতীয়ত মানুষ ও রাষ্ট্রের ভূমিকা। পান্ডা সংরক্ষণে চীন দীর্ঘদিন ধরে বিপুল পরিমাণ বনাঞ্চল সংরক্ষিত করেছে, শিকার নিষিদ্ধ করেছে এবং বিচ্ছিন্ন আবাসস্থলগুলোকে করিডোরের মাধ্যমে যুক্ত করার চেষ্টা করেছে। একই সঙ্গে পান্ডাকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ হিসেবে বিবেচনা করার ফলে বিশ্বের অন্য কোথাও বন্য পরিবেশে পান্ডার স্থায়ী প্রাকৃতিক জনসংখ্যা তৈরি হয়নি। আজ তাই চীনের বাইরে চিড়িয়াখানায় পান্ডা দেখা গেলেও পৃথিবীর কোথাও চীনের মতো স্বাভাবিক বন্য পরিবেশে তাদের স্থায়ী আবাসস্থল নেই।

পান্ডা কি সত্যিই বিলুপ্তির ঝুঁকি কাটিয়ে উঠেছে? : পান্ডার সংখ্যা বেড়েছে— এটি নিঃসন্দেহে সংরক্ষণ প্রচেষ্টার একটি গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। কিন্তু তার অর্থ এই নয় যে প্রাণীটি এখন পুরোপুরি নিরাপদ। তাদের আবাসস্থল এখনও বিচ্ছিন্ন। বাঁশবনের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা তাদের খুবই সংবেদনশীল করে রেখেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ভবিষ্যতে বাঁশের বিস্তৃতি ও প্রাপ্যতাতেও পরিবর্তন আসতে পারে। তাই পান্ডাকে রক্ষা করার লড়াই এখনও শেষ হয়নি।

কুয়াশায় ঢাকা চীনের পাহাড়ি বনে যখন একটি জায়ান্ট পান্ডা নিশ্চিন্তে বাঁশ খায়, তখন সেটি শুধু একটি বিরল প্রাণীর দৃশ্য নয়। এর পেছনে রয়েছে হাজার বছরের বিবর্তন, মানুষের হাতে হারিয়ে যাওয়া বন, সংরক্ষণের দীর্ঘ সংগ্রাম এবং একটি প্রাণীকে বাঁচিয়ে রাখার জন্য রাষ্ট্র ও মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টা। আর সে কারণেই পৃথিবীর অন্য কোথাও নয়— আজও বন্য জায়ান্ট পান্ডার সবচেয়ে বড় ঠিকানা চীনের পাহাড়ি বন।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/আতা
  বিষয়:   বিলুপ্ত  পান্ডা  চীন  সময়ের আলো  প্রকৃতি  সংস্কৃতি  স্তন্যপায়ী 


Advertisement
Loading...
Loading...
ফিচার- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: