সাজগোজে নতুনত্ব আনতে পোশাক, জুতা, ব্যাগ কিংবা গহনার পাশাপাশি এখন চোখের সাজেও দেখা যাচ্ছে নানা ধরনের অলংকার। আইশ্যাডো, আইলাইনার ও মাসকারার প্রচলিত সাজের বাইরে চোখকে ঘিরে গহনা পরার চলও তৈরি হয়েছে। আর এই নতুন ধারার মধ্যেই নজর কাড়ছে ‘ফেসলেট’। অনেকেই নতুন কিছু নিয়ে সাজতে পছন্দ করেন। তাদের কাছে তাই ফেসলেট এখন হয়ে উঠছে পছন্দের একটি ফ্যাশন অনুষঙ্গ।
ফেসলেট মূলত চোখের সৌন্দর্যকে আরও ফুটিয়ে তুলতে ব্যবহার করা হয়। নকশার ধরন অনুযায়ী এটি ভ্রুর ওপর, চোখের নিচে, চোখের দুই পাশ কিংবা কপালের সঙ্গে যুক্ত করে পরা যায়। কোথাও এটি সরু চেইনের মতো, কোথাও আবার ছোট পাথর, মুক্তা, পুঁতি বা ধাতব নকশায় তৈরি। এর কোনো ডিজাইন খুবই হালকা ও সাদামাটা, আবার কোনোটি বেশ ঝলমলে। ফলে নিজের সাজের ধরন ও অনুষ্ঠানের প্রয়োজন অনুযায়ী সহজেই ফেসলেট বেছে নেওয়া যায়।
ফেসলেটের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ এর বৈচিত্র্য। একই ধরনের গহনা না পরে প্রতিবার ভিন্ন নকশা বেছে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে। সোনালি ও রুপালি রঙের ফেসলেট বেশ পরিচিত হলেও বর্তমানে কালো, সাদা, মুক্তার, রঙিন পাথর কিংবা বিভিন্ন ধাতব রঙের নকশাও দেখা যাচ্ছে। ছোট ফুল, পাতা, চাঁদ, তারকা, হৃদয় কিংবা জ্যামিতিক নকশা দিয়ে তৈরি ফেসলেটও বেশ আকর্ষণীয়। কেউ চাইলে খুব সূক্ষ্ম একটি ডিজাইন বেছে নিতে পারেন। আবার বিশেষ অনুষ্ঠানের জন্য একটু বেশি চোখে পড়ার মতো নকশাও বেছে নেওয়া যায়।
বিশেষ করে উৎসবের সাজে ফেসলেট বেশ ভালো মানিয়ে যায়। শাড়ি, লেহেঙ্গা, গাউন কিংবা সালোয়ার-কামিজ বিভিন্ন ধরনের পোশাকের সঙ্গেই এটি ব্যবহার করা সম্ভব। শাড়ির সঙ্গে মুক্তা বা পাথরের কাজ করা ফেসলেট সাজে আনতে পারে কোমল ও আভিজাত্যপূর্ণ ভাব। অন্যদিকে আধুনিক পোশাকের সঙ্গে সরু চেইন বা মিনিমাল নকশার ফেসলেট বেশ মানানসই। যারা পোশাক ও গহনায় খুব বেশি ভারী সাজ পছন্দ করেন না, তাদের জন্যও রয়েছে ছোট ও সাধারণ ডিজাইনের ফেসলেট।
চোখের মেকআপের সঙ্গে ফেসলেটের সমন্বয়ও গুরুত্বপূর্ণ। চোখে অনেকেই গাঢ় আইশ্যাডো, মোটা আইলাইনার কিংবা ঝলমলে গ্লিটার ব্যবহার করেন। তখন খুব বেশি নকশার গহনা না পরাই ভালো। সে ক্ষেত্রে পাতলা চেইন বা ছোট পাথরের ফেসলেট চোখের সাজকে সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পারে। আবার চোখের মেকআপ যদি একেবারে হালকা হয়, তা হলে একটু আকর্ষণীয় নকশার ফেসলেট ব্যবহার করে সাজে আলাদা মাত্রা যোগ করা যায়। অর্থাৎ চোখের মেকআপ ও গহনার মধ্যে ভারসাম্য থাকলে পুরো সাজটিই দেখতে পরিপাটি লাগে।
ফেসলেটের আরেকটি ভালো দিক হলো, এটি খুব বেশি গহনা না পরেও সাজকে আলাদা করে তুলতে পারে। অনেকেই একসঙ্গে ভারী হার, কানের দুল, চুড়ি কিংবা আংটি পরতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। তাদের জন্য চোখের কাছে ছোট্ট একটি গহনা হতে পারে নতুন ধরনের সাজের উপায়। বিশেষ করে সাদামাটা পোশাকের সঙ্গে একটি সুন্দর ফেসলেট পরলে পুরো লুকের মধ্যে একটি আলাদা বৈশিষ্ট্য তৈরি হয়। সাজে তখন অতিরিক্ত কিছু যোগ করার প্রয়োজন হয় না।
বর্তমান সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমও নতুন ধরনের ফ্যাশন ছড়িয়ে পড়ার ক্ষেত্রে বড় ভূমিকা রাখছে। ফ্যাশন ফটোশুট, বিয়ের সাজ, পার্টি লুক কিংবা বিভিন্ন সৃজনশীল মেকআপের ছবিতে চোখের আশপাশে গহনার ব্যবহার দেখা যাচ্ছে। সেখান থেকেই অনেকের মধ্যে এমন গহনা নিয়ে আগ্রহ তৈরি হচ্ছে। প্রচলিত কানের দুল বা গলার হার থেকে একটু বাইরে গিয়ে অনেকে সাজতে চান। তাদের কাছে ফেসলেট তাই বেশ আকর্ষণীয় হয়ে উঠছে।
ফেসলেট শুধু জমকালো সাজের জন্যই নয়, ব্যক্তিগত স্টাইল প্রকাশেরও একটি মাধ্যম হতে পারে। কেউ হয়তো খুব সাধারণ পোশাক পরেন, কিন্তু সাজে একটু ভিন্নতা পছন্দ করেন। তিনি ছোট একটি সিলভার ফেসলেট বেছে নিতে পারেন। আবার কেউ যদি একটু নজরকাড়া সাজ পছন্দ করেন, তা হলে পাথর বা ক্রিস্টাল বসানো নকশা বেছে নিতে পারেন। অর্থাৎ ফেসলেটের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো সাজের নিয়ম নেই। নিজের ব্যক্তিত্ব, পোশাক এবং অনুষ্ঠানের সঙ্গে মিলিয়ে এটি ব্যবহার করাই মূল কথা।
রঙের ক্ষেত্রেও রয়েছে নানা ধরনের পছন্দ। সাদা বা স্বচ্ছ পাথরের ফেসলেট প্রায় সব ধরনের পোশাকের সঙ্গে মানিয়ে যায়। গোলাপি, নীল, সবুজ কিংবা লাল পাথর ব্যবহার করা ফেসলেট নির্দিষ্ট রঙের পোশাকের সঙ্গে সুন্দর সমন্বয় তৈরি করতে পারে। আবার ধাতব সোনালি বা রুপালি রঙের নকশা তুলনামূলকভাবে সহজে বিভিন্ন সাজের সঙ্গে মানিয়ে যায়। যারা প্রথমবার ফেসলেট ব্যবহার করতে চান, তারা ছোট ও নিরপেক্ষ রঙের নকশা দিয়ে শুরু করতে পারেন।
ফেসলেট পরার ক্ষেত্রে অবশ্য আরামের বিষয়টি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যেহেতু এটি চোখের খুব কাছাকাছি ব্যবহার করা হয়, তাই গহনার কোনো অংশ যেন চোখে না লাগে বা ত্বকে অস্বস্তি তৈরি না করে সেদিকে খেয়াল রাখা দরকার। খুব ভারী ফেসলেট দীর্ঘ সময় পরলে অস্বস্তি হতে পারে। তাই অনুষ্ঠানের সময় ও নিজের স্বাচ্ছন্দ্য অনুযায়ী হালকা নকশা বেছে নেওয়া ভালো। ত্বকে অ্যালার্জির প্রবণতা থাকলে গহনার উপাদান সম্পর্কেও আগে নিশ্চিত হওয়া প্রয়োজন।
চোখের কাছাকাছি ব্যবহারের কারণে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার বিষয়টিও এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। অন্য কারও ব্যবহৃত ফেসলেট সরাসরি ব্যবহার না করাই ভালো। নিজের গহনাটি ব্যবহারের আগে ও পরে পরিষ্কার করে শুকনো জায়গায় রাখা উচিত। বিশেষ করে পাথর, পুঁতি বা চেইনের ফাঁকে মেকআপের অংশ জমে থাকলে তা পরিষ্কার করে নেওয়া ভালো। এতে গহনাটিও দীর্ঘদিন সুন্দর থাকবে এবং ব্যবহারের সময় অস্বস্তির আশঙ্কাও কমবে।
ফ্যাশনের সৌন্দর্যই হলো পরিবর্তন। সময়ের সঙ্গে মানুষের সাজের পছন্দ বদলায়। নতুন কিছু যোগ হয়, আবার পুরোনো কোনো উপকরণ নতুনভাবে ফিরে আসে। ফেসলেটও তেমনই একটি নতুনত্বপূর্ণ সংযোজন। যা প্রচলিত গহনার ধারণাকে চোখের সাজের সঙ্গে যুক্ত করেছে। খুব ছোট একটি অলংকার হয়েও এটি পুরো লুকে তৈরি করতে পারে আলাদা একটি ফোকাস। তাই সাজে একটু ভিন্নতা আনতে চাইলে ফেসলেট হতে পারে সহজ কিন্তু নজরকাড়া একটি পছন্দ।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/টিকে/এমকে