শ্রাবণের আকাশে তখন থেমে থেমে বৃষ্টির আনাগোনা। এমনই এক বর্ষণসিক্ত সন্ধ্যায় সুরে-ছন্দে-সংলাপে প্রাণ ফিরে পেল গাইবান্ধা শহর। শনিবার (১ আগস্ট) গাইবান্ধা নাট্য ও সাংস্কৃতিক সংস্থার মিলনায়তনে বসেছিল এক জমজমাট সাংস্কৃতিক আসর- ‘আজ শ্রাবণের আমন্ত্রণে’। জেলার ঐতিহ্যবাহী নাট্য সংগঠন মেঘদূতের আয়োজনে বর্ষার এই বিশেষ অনুষ্ঠান উপভোগ করতে ভিড় জমান শহরের সংস্কৃতিকর্মী, সুধীজন থেকে শুরু করে সর্বস্তরের মানুষ।
দীর্ঘদিন পর এমন প্রাণবন্ত ও রুচিশীল সাংস্কৃতিক আয়োজনের সাক্ষী হয়ে আপ্লুত হন উপস্থিত দর্শক-শ্রোতারা। সন্ধ্যা গড়াতেই মিলনায়তন কানায় কানায় পূর্ণ হয়ে ওঠে, মঞ্চে একের পর এক পরিবেশিত হতে থাকে গান, কবিতা, নৃত্য আর নাটকের সংলাপ, যা মুগ্ধতা ছড়ায় দর্শকদের মাঝে।
অনুষ্ঠানের সঞ্চালনার দায়িত্বে ছিলেন গীতিকবি ও সাংবাদিক অমিতাভ দাশ হিমুন, যার মনোমুগ্ধকর উপস্থাপনা পুরো আয়োজনে যোগ করে বাড়তি মাত্রা। আলোচনা পর্বে অংশ নেন লেখক ও গবেষক অধ্যাপক জহুরুল কাইয়ুম। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন মেঘদূত প্রতিষ্ঠার অন্যতম উদ্যোক্তা, অবসরপ্রাপ্ত ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রকিবুর রহমান ডালেস।
সাংস্কৃতিক পর্বের মূল আকর্ষণ ছিল সংগীত পরিবেশনা। মঞ্চে গান শোনান ওস্তাদ শাহ মশিউর রহমান, কণ্ঠশিল্পী সিরাজুল ইসলাম সোনা, চুনি ইসলাম, মোহাম্মদ আলী, সোমা সেন, এটিএন তারকা রেজোয়ান এবং শিল্পী স্বজন খন্দকার, অনিন্দিতা মৌ, নভোনীল ও রংধনু সামস। শিল্পীদের গানে বাদ্যযন্ত্রে সহযোগিতা করেন তবলায় মাহমুদ সাগর মহব্বত, কীবোর্ডে এস.এম স্বাধীন, গিটারে তানভীর মাহতাব এবং প্যাডে মানিক বর্মন। তাদের সম্মিলিত পরিবেশনায় মিলনায়তনজুড়ে তৈরি হয় এক অন্যরকম শ্রাবণ-আবহ।
সংগীতের পাশাপাশি কবিতা আবৃত্তি করে দর্শকদের মন জয় করেন গৌতমাশিষ গুহ সরকার ও মেঘলীনা দ্যুতি। নৃত্য পরিবেশন করেন আবিদা আমিন ও রিদিতা, যাদের মুদ্রা ও ছন্দে ফুটে ওঠে বর্ষার নিজস্ব সৌন্দর্য। অনুষ্ঠানে নাটকের সংলাপ উপস্থাপন করেন শিরিন আক্তার ও সোহেল রানা, যা দর্শকদের মধ্যে সৃষ্টি করে বাড়তি আবেদন।
রাত যত গড়িয়েছে, মিলনায়তনের আবহও ততই হয়ে উঠেছে উৎসবমুখর। গান, কবিতা, নৃত্য আর নাটকের সংলাপের সম্মিলনে গড়ে ওঠা এই বর্ষা-আয়োজন গাইবান্ধার সাংস্কৃতিক অঙ্গনে যোগ করেছে নতুন মাত্রা। দীর্ঘদিন পর এমন সুন্দর ও সুরুচিপূর্ণ একটি অনুষ্ঠান উপভোগ করে আপ্লুত হন উপস্থিত সবাই, আর নতুন উদ্যমে সামনের দিনগুলোতে আরও এমন আয়োজনের প্রত্যাশা নিয়ে ফেরেন ঘরে।
সময়ের আলো/জোই