পাবনায় নিহত কলির পা খুঁজতে সাত দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ

পাবনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

‎পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ উদ্ধারের সাত দিন পর ঘটনাস্থল সদর উপজেলার দোগাছি

2026-09-25T10:55:09+00:00
2026-09-25T10:55:09+00:00
 
  শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১০ আশ্বিন ১৪৩৩
শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পাবনায় নিহত কলির পা খুঁজতে সাত দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: শুক্রবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১০:৫৫ এএম 
কলির পা খুঁজতে সাত দিন পর ঘটনাস্থলে পুলিশ। ছবি : সময়েরে আলো
‎পাবনায় তৃতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলিকে (১০) ধর্ষণ ও হত্যার পর লাশ উদ্ধারের সাত দিন পর ঘটনাস্থল সদর উপজেলার দোগাছি কলুনিয়ায় আবারও তল্লাশি চালিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে কলির লাশ যেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল, সেখানে তার দুই পা খুঁজতে যায় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (ডিবি)। 

মঙ্গলবার বিকেলে ঘটনাস্থলে পুলিশের এই তল্লাশি চালানোর বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। পরে রাত ১২টার দিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তার মাধ্যমে বিষয়টি জানতে পারেন এই প্রতিবেদক। এরপর পুলিশের কাছ থেকে তথ্য সংগ্রহ করে তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়।

তবে এর আগে বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ দাবি করেছিলেন, কলিকে হত্যার পর তার মরদেহ টুকরো টুকরো করা হয়নি। 

মঙ্গলবারের তল্লাশির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম। জানা গেছে, মঙ্গলবার বিকেলে ডিবির ওসি আব্দুস সালাম ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বেনু রায়ের নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল কলির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনাস্থলে যায়। এ সময় লাশ উদ্ধারের স্থান ও আশপাশের ডোবায় তল্লাশি চালানো হয়। পাশাপাশি স্থানীয় কয়েকজনকে দিয়ে ঘটনাস্থলের বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করানো হয়।

তবে পুলিশের তল্লাশিতে এখন পর্যন্ত কলির দুই পা পাওয়া যায়নি বলে জানা গেছে।

স্থানীয় ইউপি সদস্য আব্দুর রউফ সোহেল বলেন, দাফনের সময় শিশুটির দুটি পা ছিল না। সেই পা কোথায় গেছে, তা এখনো জানা সম্ভব হয়নি।


মামলার তদন্ত কর্মকর্তা এসআই বেনু রায় বলেন, স্থানীয়রা পা খুঁজে দেখতে চেয়েছিল, তাই আমরা সেখানে গিয়েছিলাম। রিপোর্ট আসলে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।

জেলা গোয়েন্দা শাখার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুস সালাম বলেন, শিশুটির স্বজনরা দাবি করতেছিল পায়ের নিচের অংশের মাংস নেই। তাদের দাবির প্রেক্ষিতে আমরা সেখানে গিয়ে তল্লাশি চালাই। 

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে পাবনা পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইলফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। ফলে তার বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।

গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে নিখোঁজ হয় পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কলুনিয়া গ্রামের শিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি। সাত দিন পর ১৬ সেপ্টেম্বর সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় প্রতিবেশী মোস্তফা প্রামাণিক ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিন আলীকে গ্রেফতার করে পুলিশ। পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানিয়েছিলেন, তদন্তে উঠে এসেছে— মোস্তফার দোকানের পেছনের ঘরে কলিকে ধর্ষণের পর শ্বাসরোধে হত্যা করে মরদেহ বস্তাবন্দি করে ডোবায় ফেলে দেওয়া হয়।

পুলিশের দাবি অনুযায়ী, ঘটনার পর সন্দেহ এড়াতে আসামিরা পরিবারের সঙ্গে কলিকে খোঁজার পাশাপাশি মানববন্ধন ও বিক্ষোভেও অংশ নেন। রিমান্ডে মোস্তফা ধর্ষণ ও হত্যার কথা স্বীকার করলেও ইয়াছিন আলী তা অস্বীকার করেছেন।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   পাবনা  নিহত কলি  পা খুঁজতে  পুলিশ  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: