পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার

পাবনা প্রতিনিধি

সারাদেশ

পাবনার সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার

2026-09-16T13:43:29+00:00
2026-09-16T13:43:29+00:00
 
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
পাবনায় নিখোঁজের ৭ দিন পর শিশুর টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার
পাবনা প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:৪৩ পিএম 
নিখোঁজের ৭ দিন পর কলির টুকরো টুকরো মরদেহ উদ্ধার। ছবি : সময়ের আলো
পাবনার সদর উপজেলায় নিখোঁজের সাত দিন পর মোছা. কামরুন্নাহার কলি (১০) নামে এক শিশুর বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবা থেকে টুকরো টুকরো মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। 

নিহত কামরুন্নাহার কলি পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী কুলোনিয়া গ্রামের কামাল প্রামাণিকের মেয়ে। মরদেহ উদ্ধারের খবর ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাস্থলে স্থানীয় বাসিন্দাসহ আশপাশের এলাকার অনেক মানুষ ভিড় করেন। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

পাবনা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তরিকুল ইসলাম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা তদন্ত করছে পুলিশ।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় বাবার সঙ্গে স্থানীয় শ্রীপুর বাজারে যায় কলি। বাজার শেষে বাবার সঙ্গে বাড়িতে ফিরে বাজারের ব্যাগ মায়ের হাতে দিয়ে বাড়ির পাশে যায় সে। এরপর সন্ধ্যা গড়িয়ে গেলেও বাড়িতে না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা আশপাশের বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন।


একপর্যায়ে বাড়ি থেকে প্রায় ২০০ গজ দূরে কলির পরা স্যান্ডেল পড়ে থাকতে দেখেন পরিবারের সদস্যরা। পরে আত্মীয়-স্বজনের বাড়িসহ সম্ভাব্য বিভিন্ন স্থানে খোঁজ করেও তার সন্ধান না পেয়ে পাবনা সদর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন শিশুটির বাবা।

নিখোঁজের পর বিভিন্ন মাধ্যমে কলির সন্ধান চেয়ে প্রচার চালায় তার পরিবার। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) পাবনা শহরে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন শিশুটির স্বজন ও সহপাঠীরা।

এর পরদিন বুধবার সকালে বাড়ির পাশের একটি ডোবায় বস্তাবন্দি অবস্থায় মরদেহ পড়ে থাকতে দেখেন স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে স্বজনরা মরদেহটি কলির বলে শনাক্ত করেন।

পরিবারের অভিযোগ, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর তারা পুলিশকে বেশ কিছু তথ্য ও সম্ভাব্য ক্লু দিয়েছিলেন। তবে সেগুলো নিয়ে যথাযথভাবে তদন্ত করা হয়নি। পরিবারের সদস্যদের ধারণা, স্থানীয় কেউ এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকতে পারে। তবে কামাল প্রামাণিকের সঙ্গে এলাকার কারও কোনো পূর্ববিরোধ ছিল না বলেও তারা জানান।

শিশুটির বাবা কামাল প্রামাণিক বলেন, আমার মেয়ে নিখোঁজ হওয়ার পর থেকেই আমরা বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেছি। কিন্তু আমার মেয়েকে কারা হত্যা করেছে, কারা আমাদের এত বড় সর্বনাশ করল—তা জানতে চাই। হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, এমনকি ফাঁসি দিতে হবে।

পাবনা সদর থানার ওসি তরিকুল ইসলাম বলেন, বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। কীভাবে শিশুটির মৃত্যু হয়েছে এবং কারা এর সঙ্গে জড়িত, এসব বিষয় তদন্ত করছে পুলিশ। শিগগির হত্যার রহস্য এবং জড়িতদের শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাবনা জেনারেল হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   নিখোঁজ  শিশু  টুকরো  মরদেহ উদ্ধার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: