সাতক্ষীরার বেসরকারি ব্লিস হাসপাতালে দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে আবারও আগুনের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১০টার দিকে হাসপাতালের নিচতলায় অক্সিজেন সিলিন্ডার রাখার স্থানে আগুনের সূত্রপাত হয়। এতে পুরো বেজমেন্ট ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে পড়ে। আতঙ্কে হাসপাতালের বিভিন্ন তলায় থাকা রোগী ও স্বজনরা দ্রুত নিচে নেমে আসেন।
তবে এ ঘটনায় তাৎক্ষণিকভাবে বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। এর আগে গত ৪ আগস্ট একই স্থানে আগুনের ঘটনা ঘটেছিল।
ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।
ঘটনার সময় হাসপাতালে থাকা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। রিজভী আহমেদ নামে এক রোগীর স্বজন জানান, তার স্ত্রী সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে কন্যাসন্তান জন্ম দেওয়ার পর হাসপাতালের অষ্টম তলায় ছিলেন। আগুনের খবর পেয়ে নার্সসহ অন্যরা রোগীদের দ্রুত নিচে নেমে আসতে বলেন। পরে কয়েকজন মিলে তার স্ত্রীকে ধরে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নামিয়ে আনেন।
মতিয়ার নামে আরেক রোগীর স্বজন বলেন, তারা রোগীকে ওষুধ খাওয়াচ্ছিলেন। হঠাৎ দ্রুত বের হয়ে যেতে বলা হলে রোগীকে নিয়ে সিঁড়ি দিয়ে নিচে নেমে আসেন। বাইরে এসে শুধু ধোঁয়া দেখতে পান। তার রোগী গলা ও থাইরয়েডের সমস্যায় চিকিৎসাধীন ছিলেন। তবে আগুনে রোগীর কোনো ক্ষতি হয়নি।
স্থানীয় বাসিন্দা মোহাম্মদ ইদ্রিস আলী বলেন, হাসপাতালের বিপরীতে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলার সময় হঠাৎ বিকট শব্দ শুনতে পান। তাকিয়ে দেখেন, চারপাশ ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন হয়ে গেছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি।
সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ওয়্যারহাউজ ইন্সপেক্টর মোহাম্মদ নূরুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে বেজমেন্ট পুরোপুরি ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন দেখতে পান। তবে এর আগেই হাসপাতালের কর্মীরা ফায়ার এক্সটিংগুইশার ব্যবহার করে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনেন।
তিনি বলেন, আগুন না থাকায় এবং তাৎক্ষণিক কোনো ঝুঁকি না থাকায় রোগীদের একসঙ্গে সিঁড়ি দিয়ে নামতে নিষেধ করা হয়। একসঙ্গে অনেক রোগী নামতে গেলে হুড়োহুড়িতে দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
একই স্থানে বারবার আগুন লাগার কারণ সম্পর্কে নূরুল ইসলাম বলেন, হাসপাতালটি বহুতল ভবন হওয়ায় বিভিন্ন তলায় অক্সিজেনের লাইন রয়েছে। বেজমেন্টে থাকা অক্সিজেন সিলিন্ডারের চাপ সামলাতে না পারায় পাইপে ত্রুটি তৈরি হয়ে সেখান থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়ে থাকতে পারে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিষয়টি কারিগরি তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হতে হবে।
এর আগে গত ৪ আগস্ট দুপুরে সাতক্ষীরা-খুলনা মহাসড়কের চৌরঙ্গী মোড়ে অবস্থিত ব্লিস হাসপাতালে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় সাতক্ষীরা ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। পরে হাসপাতালের বিভিন্ন তলা থেকে রোগীদের উদ্ধার করে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়।
দেড় মাসের ব্যবধানে একই স্থানে পরপর দুটি অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।
সময়ের আলো/জোই