সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমাতে অতিরিক্ত ফেরি ও সিট্রাক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে ৫০ আসনের একটি বিশেষ ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ও বিবেচনা করছে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশন (বিআইডব্লিউটিসি)। মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) সীতাকুণ্ডের বাঁশবাড়িয়া ঘাট পরিদর্শন শেষে এসব তথ্য জানিয়েছেন সংস্থাটির চেয়ারম্যান এটিএম আব্দুল বারী।
মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাঁশবাড়িয়া ঘাট পরিদর্শনে যান বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান। এ সময় তিনি নৌরুটের সার্বিক পরিস্থিতি ঘুরে দেখেন এবং যাত্রী, স্থানীয় রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, বিআইডব্লিউটিএ ও বিআইডব্লিউটিসির স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন।
পরিদর্শনকালে তার সঙ্গে ছিলেন বিআইডব্লিউটিসির পরিচালক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান, বিআইডব্লিউটিএর যুগ্ম পরিচালক (চট্টগ্রাম) মোহাম্মদ সেলিম, সন্দ্বীপ উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আবুল কাসেম ও আশরাফ উদ্দিন জনি, চট্টগ্রাম উত্তর জেলা যুবদলের সহসভাপতি ফোরকান উদ্দিন রিজভী, যুবদলের আহ্বায়ক নিঝুম খান, রহমতপুর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান মামুন এবং ‘আমরা সন্দ্বীপবাসী’র সমন্বয়ক খাদেমুল ইসলামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও নৌপরিবহন খাতের কর্মকর্তারা।
মতবিনিময়কালে এটিএম আব্দুল বারী জানান, সন্দ্বীপ নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ কমাতে দ্রুত আরও একটি ফেরি এবং ‘নিঝুম দ্বীপ’ নামের একটি সিট্রাক বরাদ্দ দেওয়ার বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার যোগাযোগ আরও গতিশীল করতে ৫০ আসনের একটি বিশেষ ওয়াটার বাস চালুর বিষয়ও গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হচ্ছে।
তবে নৌযান চলাচলের ক্ষেত্রে নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার কথা জানান বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান। তিনি বলেন, আবহাওয়া খারাপ থাকলে বা ৩ নম্বর বিপদসংকেত জারি হলে যাত্রীদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে কোনো ধরনের ঝুঁকি নেওয়া হবে না।
সফরের শুরুতে চেয়ারম্যান বাঁশবাড়িয়া ঘাটের নবনির্মিত হাই ওয়াটার পয়েন্ট ও মিড ওয়াটার পয়েন্ট পরিদর্শন করেন। এ সময় তিনি বিআইডব্লিউটিএর চেয়ারম্যানের সঙ্গে মুঠোফোনে কথা বলেন এবং বাঁশবাড়িয়া ঘাটের হাই ওয়াটার পয়েন্ট দ্রুত চালুর পাশাপাশি গুপ্তছড়া ঘাটের দুটি পয়েন্ট জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের অনুরোধ জানান।
এদিকে বাঁশবাড়িয়া ফেরিঘাটের সড়ক ও অবকাঠামোর বেহাল দশা নিয়েও ঘাটের চালক ও পরিচালনাকারীদের সঙ্গে কথা বলেন চেয়ারম্যান। তারা জানান, ঘাটের পন্টুন ও তীরে ফেরি ঠিকমতো ভিড়তে না পারায় প্রায়ই মালবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন দুর্ঘটনার ঝুঁকিতে পড়ে। এর মধ্যে জোয়ারের পানিতে ফেরিঘাটে যাওয়ার মূল সড়কের একটি অংশ বিলীন হয়ে যাওয়ায় দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এ বিষয়ে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান জানান, বাঁশবাড়িয়া থেকে কুমিরা ঘাট পর্যন্ত উপকূলীয় বেড়িবাঁধের ওপরের ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক সংস্কারের জন্য ইতোমধ্যে টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ হয়েছে। দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
পরিদর্শন শেষে বিআইডব্লিউটিসি চেয়ারম্যান নৌরুটটির প্রধান সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশ দেন। সংশ্লিষ্টদের আশা, ফেরি ও সিট্রাক বাড়ানোর পাশাপাশি ওয়াটার বাস চালু এবং ঘাটের অবকাঠামোগত সমস্যার সমাধান হলে সন্দ্বীপ-সীতাকুণ্ড নৌরুটে যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের দুর্ভোগ কমবে।
সময়ের আলো/জোই