খাগড়াছড়ির একমাত্র ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট আধুনিক সদর হাসপাতালের এক্স-রে মেশিন গত ১০ দিন ধরে অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এর ফলে চিকিৎসা নিতে আসা সাধারণ রোগীরা চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জরুরি পরীক্ষা করাতে না পেরে অনেক রোগীকে নিরাশ হয়ে হাসপাতাল থেকে ফিরে যেতে হচ্ছে। আবার যাদের অবস্থা গুরুতর, তাদের বাধ্য হয়ে বেশি খরচে বাইরের বেসরকারি ডায়াগনস্টিক সেন্টারে পাঠানো হচ্ছে।
স্বল্প খরচে সরকারি সেবা পাওয়ার আশায় হাসপাতালে এসে বিপাকে পড়েছেন রোগীরা। বাইরে থেকে পরীক্ষা করাতে হওয়ায় তাদের অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়ের পাশাপাশি সময় ও কষ্ট দুটোই বাড়ছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী মো. তুহিন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, দূর-দূরত্ব থেকে সরকারি খরচে চিকিৎসা নিতে এসেছিলাম। কিন্তু এক্স-রে করাতে না পেরে বাইরে যেতে হচ্ছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের পক্ষে এই বাড়তি খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
আরেক ভুক্তভোগী রোগীর স্বজন বিবেক চাকমা জানান, হাসপাতালে এসে জানতে পারেন এক্স-রে মেশিন নষ্ট। বাধ্য হয়ে বাইরে থেকে চড়া মূল্যে পরীক্ষা করাতে হয়েছে। হাসপাতালে এই সেবা সচল থাকলে এত দুর্ভোগ পোহাতে হতো না।
হাসপাতালের মেডিকেল অফিসার ডা. রিপল বাপ্পী চাকমা জানান, গত ১২ দিন ধরে এক্স-রে মেশিনটি নষ্ট রয়েছে। বিষয়টি ইতোমধ্যে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, হাসপাতালের বেশ কিছু চিকিৎসাসামগ্রী ও যন্ত্রপাতি অত্যন্ত পুরোনো হওয়ায় তা ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। দ্রুত এসব পুরোনো যন্ত্রপাতি মেরামত ও আধুনিকায়ন করা জরুরি।
জেলা সদরের এই একমাত্র বড় সরকারি হাসপাতালে জরুরি এক্স-রে সেবা দ্রুত চালুর পাশাপাশি পুরোনো যন্ত্রপাতি প্রতিস্থাপনের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী রোগী ও তাদের স্বজনেরা।
খাগড়াছড়ি সদর হাসপাতালের এই সংকট নিরসনে দ্রুত কোনো কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে আপনার কি আর কোনো তথ্য জানা প্রয়োজন?
সময়ের আলো/জোই