শেরপুরে অচল ১৪ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার

শেরপুর প্রতিনিধি

সারাদেশ

দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বগুড়ার শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ট্রমা সেন্টার।

2026-09-16T13:28:59+00:00
2026-09-16T13:32:22+00:00
 
  বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬,
১ আশ্বিন ১৪৩৩
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
সারাদেশ
শেরপুরে অচল ১৪ কোটি টাকার ট্রমা সেন্টার
শেরপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬, ১:২৮ পিএম  আপডেট: ১৬.০৯.২০২৬ ১:৩২ পিএম
শেরপুর ট্রমা সেন্টার। ছবি : সময়ের আলো
দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়ার জন্য বগুড়ার শেরপুরে প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মাণ করা হয়েছিল ট্রমা সেন্টার। ২০১৯ সালে চারতলা ভবনটির নির্মাণকাজ শেষ করে উপজেলা স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়। তবে সাত বছর পেরিয়ে গেলেও সেখানে শুরু হয়নি ট্রমা রোগীদের ভর্তি ও জরুরি চিকিৎসাসেবা। দুর্ঘটনা প্রবণ ঢাকা-বগুড়া মহাসড়কের পাশে নির্মিত ভবনটি এখন ব্যবহৃত হচ্ছে বহির্বিভাগের চিকিৎসা ও প্রশাসনিক কাজে।

শেরপুর হাইওয়ে পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বগুড়া রিজিয়নের মধ্যে শাজাহানপুরের বনানী বাইপাস থেকে চান্দাইকোনা পর্যন্ত ৩২ কিলোমিটার মহাসড়ক সবচেয়ে দুর্ঘটনাপ্রবণ। চলতি বছর এ পর্যন্ত এই সড়ক অংশে ৬৬টি গুরুতর দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। গুরুতর আহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ।

দুর্ঘটনায় আহতদের অনেককেই উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রায় ২৭ কিলোমিটার দূরের বগুড়ার শহিদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে (শজিমেক) পাঠানো হয়। বিশেষ করে দ্রুত অস্ত্রোপচার, রক্তের ব্যবস্থা ও নিবিড় পর্যবেক্ষণ প্রয়োজন এমন রোগীদের জন্য এই দূরত্ব চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শেরপুরে পূর্ণাঙ্গ ট্রমা চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় গুরুতর আহতদের শজিমেকের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।

এ প্রয়োজনীয়তা বিবেচনায় শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ভেতরে ট্রমা সেন্টার স্থাপনের প্রকল্প নেওয়া হয়। প্রকল্প অনুযায়ী, ২০ শয্যার ট্রমা সেন্টারে সাতজন কনসালট্যান্ট, তিনজন অর্থোপেডিক সার্জন, দুজন অ্যানেসথেসিওলজিস্ট ও দুজন রেসিডেন্ট মেডিকেল অফিসারসহ ১৪ জন চিকিৎসক থাকার কথা। এ ছাড়া ১০ জন নার্সসহ ফার্মাসিস্ট, রেডিওলজি ও ল্যাব টেকনিশিয়ান, চালক, অফিস সহকারী, ওয়ার্ডবয় ও আয়ার বিভিন্ন পদে আরও জনবল থাকার কথা ছিল। সব মিলিয়ে প্রায় ৬০ জন জনবল থাকার কথা থাকলেও প্রয়োজনীয় জনবল ও চিকিৎসা সরঞ্জাম না থাকায় সেন্টারটি চালু করা যায়নি।


সরেজমিনে দেখা যায়, দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের দ্রুত চিকিৎসার জন্য নির্মিত ভবনটিতে এখন শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের বহির্বিভাগের কার্যক্রম চলছে। পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও করা হচ্ছে।

শেরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম বলেন, ট্রমা ইউনিট চালু না হওয়ায় ভবনটি বিকল্পভাবে ব্যবহার করা হচ্ছে। সেখানে প্রতিদিন বহির্বিভাগে প্রায় ৮০০ থেকে ১ হাজার ২০০ রোগী চিকিৎসা নিতে আসেন। তবে ভবন নির্মাণের পর প্রয়োজনীয় পদে জনবল নিয়োগ না হওয়ায় ট্রমা সেন্টারটি কার্যকর করা যায়নি। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত অবকাঠামোটি এর মূল উদ্দেশ্যে ব্যবহার করা সম্ভব হচ্ছে না।

বগুড়া জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়নের আহ্বায়ক জানে আলম খোকা বলেন, ট্রমা সেন্টারটি চালু না থাকায় পরিবহণশ্রমিকদের পাশাপাশি দুর্ঘটনায় আহত মানুষও দ্রুত উন্নত চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। তার দাবি, এতে অনেকে চিকিৎসা পেতে দেরি হওয়ায় মারা যাচ্ছেন এবং কেউ কেউ পঙ্গুত্বের শিকার হচ্ছেন। এত টাকা ব্যয়ে নির্মিত গুরুত্বপূর্ণ একটি প্রকল্প এভাবে পড়ে থাকা উচিত নয়। বিষয়টি সংসদ সদস্যকে জানানো হয়েছে এবং তিনি দ্রুত ব্যবস্থা নেবেন বলে আশা প্রকাশ করেন।

বগুড়ার ভারপ্রাপ্ত সিভিল সার্জন ফারজানুল ইসলাম বলেন, শেরপুরের ওই এলাকা দুর্ঘটনাপ্রবণ। মহাসড়কে দুর্ঘটনায় আহত রোগীদের বগুড়ায় পাঠাতে সময় লাগায় তাদের মৃত্যুঝুঁকি বাড়ে। এ কারণে শেরপুরের ট্রমা সেন্টার চালুর জন্য তাদের দফতর থেকে স্বাস্থ্য অধিদফতরে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এর পরিপ্রেক্ষিতে গত বছর স্বাস্থ্য অধিদফতরের তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক আবু জাফর ট্রমা সেন্টারটি পরিদর্শন করেছিলেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে পরবর্তী কোনো নির্দেশনা পাওয়া যায়নি।

সময়ের আলো/জোই
  বিষয়:   দুর্ঘটনা  মৃত্যু  আহত  শেরপুর  ট্রমা সেন্টার  সময়ের আলো 


Advertisement
Loading...
Loading...
সারাদেশ- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
Advertisement
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: