সন্ধ্যায় বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়েছিল ১৫ বছর বয়সী এসএসসি পরীক্ষার্থী মো. রাহাত। কথা ছিল, সন্ধ্যার মধ্যেই বাড়ি ফিরবে। কিন্তু সেই সন্ধ্যার পর আর বাড়ি ফেরেনি সে। পরদিন সকালে বাড়ি থেকে বেশ দূরে পদ্মা নদীর পাড়ে পাওয়া যায় তার ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও একজোড়া জুতা। এরপর কেটে গেছে ৪৫ দিন। এখনো সন্ধান মেলেনি রাহাতের।
রাহাতকে স্বাভাবিকভাবে নিখোঁজ নয়, পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করা হয়ে থাকতে পারে বলে সন্দেহ করছেন তার বাবা কৃষক মো. মুন্নুচ আলী। দ্রুত তদন্ত করে ছেলেকে জীবিত উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে পাবনা সাংবাদিক ইউনিয়ন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ ও দাবি জানান মুন্নুচ আলী।
রাহাত পাবনার সুজানগর উপজেলার ভায়না গ্রামের বাসিন্দা। সে সাতবাড়িয়া উচ্চবিদ্যালয় থেকে ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষায় অংশ নেয়। ফলাফলের অপেক্ষায় থাকা অবস্থায় গত ৯ আগস্ট নিখোঁজ হয় সে।
সংবাদ সম্মেলনে মুন্নুচ আলী বলেন, ৯ আগস্ট বিকেলে রাহাত বাইসাইকেল নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ঘুরতে বের হয়। সন্ধ্যা ৭টার দিকে তার বাড়ি ফেরার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় পার হলেও সে বাড়ি ফেরেনি। প্রথমে বন্ধু, স্বজন ও পরিচিতদের কাছে খোঁজ নেওয়া হয়। পরে বিভিন্ন জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার সন্ধান পাওয়া যায়নি।
পরদিন সকালে মানিকহাট ইউনিয়নের গুপিনপুর গোরস্তানসংলগ্ন মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের পাশে পদ্মা নদীর পাড়ে রাহাতের ব্যবহৃত বাইসাইকেল ও জুতা পাওয়া যায়। বাড়ি থেকে দূরের ওই স্থানে তার ব্যবহৃত জিনিসপত্র পড়ে থাকায় তখন থেকেই পরিবারের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়।
মুন্নুচ আলীর দাবি, রাহাত নিখোঁজ হওয়ার দিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টার মধ্যে মাজপাড়া ঈদগাহ মাঠের সামনে একটি সিএনজি ও কয়েকটি মোটরসাইকেল সন্দেহজনকভাবে দাঁড়িয়ে ছিল। এসব যানবাহনের সঙ্গে রাহাতের নিখোঁজ হওয়ার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মুন্নুচ আলী বলেন, আমরা কারও বিরুদ্ধে নিজেরা কোনো সিদ্ধান্ত দিতে চাই না। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করুক। আমার একটাই দাবি— আমার ছেলেকে জীবিত উদ্ধার করে আমাদের কাছে ফিরিয়ে দেওয়া হোক।
রাহাতের নিখোঁজের ঘটনায় ১০ আগস্ট সুজানগর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরে ১৬ আগস্ট তার বাবা অপহরণের অভিযোগে মামলা করেন। বর্তমানে মামলাটি পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি) তদন্ত করছে বলে জানিয়েছে পরিবার।
মামলা হওয়ার পরও ৪৫ দিন ধরে রাহাতের কোনো সন্ধান না মেলায় পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়েছে। ছেলে কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে— কোনো তথ্য না পাওয়ায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে তাদের।
রাহাতের বাবা বলেন, ৪৫ দিন ধরে আমরা জানি না আমার ছেলে বেঁচে আছে কি না, কোথায় আছে। প্রতিদিন অপেক্ষা করছি—হয়ত আজ ছেলের কোনো খবর পাব। আমরা আর অপেক্ষা করতে পারছি না। প্রশাসনের কাছে অনুরোধ, দ্রুত আমার ছেলেকে খুঁজে বের করুন।
সময়ের আলো/জোই