ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল প্রভোস্ট অফিসে ছাত্রদল-শিবিরর হাতাহাতির প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করে ইসলামী ছাত্রশিবির ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখা।
রোববার (২ আগস্ট) সন্ধ্যায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিন থেকে বিক্ষোভ মিছিলটি শুরু হয়ে রাজু ভাস্কর্যে শেষ হয় এবং সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
এ সময় তারা 'শিক্ষা সন্ত্রাস, এক সাথে চলে না', 'শিক্ষা চাঁদাবাজি, একসাথে চলে না', 'বিচার বিচার বিচার চাই, সন্ত্রাসীদের বিচার চাই', 'ছাত্রদলের চেহারায়, ছাত্রলীগ দেখা যায়' ইত্যাদি স্লোগান দেয়।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখা বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাংগঠনিক সম্পাদক হলেন মু. সাজ্জাদ হোসাইন খান বলেন, বাংলাদেশের এমন কোনো জায়গায় সন্ত্রাসী আর চাঁদাবাজি হবে, আর সেখানে ছাত্রদলের নাম পাওয়া যাবে না— এটা একটা বিস্ময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছাত্রদল প্রভোস্টের রুমে ঢুকে হামলা করে সন্ত্রাস করেছে। প্রভোস্টের উচিত ছিল বিচার নিশ্চিত করা। কিন্তু প্রভোস্টের দলের লোক কিছু বলতে পারবে না। তাই তিনি পদত্যাগ করেছেন।
তিনি আরও বলেন, আমরা বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে কিছু বলতে চাই না। কারণ প্রধানমন্ত্রীর আশকারা না পেলে ছাত্রদল সন্ত্রাস করে কীভাবে? এই ছাত্রদলের গুন্ডারা শহীদুল্লাহ হলের শান্তিপূর্ণ মিটিংয়ে হামলা করে কীভাবে? ছাত্রশিবির নেতৃবৃন্দ, ডাকসু নেতৃবৃন্দের ওপর এরা হামলা করে কীভাবে? প্রধানমন্ত্রী যদি ছাত্রদলকে আশকারা না দেন, তাহলে মানুষের চোখে ধুলো দেয় কীভাবে?
তিনি আরও বলেন, ছাত্রদল ছাত্রলীগের রূপ নিয়ে হাজির হয়েছে। ছাত্রলীগ বাংলাদেশে টিকতে পারেনি। সুতরাং তোমরা যদি আবার নতুন করে গণহত্যার রাজনীতি আনতে চাও, ছাত্রলীগের রেখে যাওয়া সন্ত্রাসী রাজনীতি আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চাও, চাঁদাবাজির রাজনীতি যদি আবার নতুন করে ফিরিয়ে আনতে চাও, বাংলাদেশ থেকে তোমাদেরকে আবার নতুন করে বাংলাদেশ ছাড়া করা হবে।
ঢাবি শিবিরের সেক্রেটারি কাজী আশিক বলেন, ছাত্রদলের আজকের যে রূপ আমরা দেখতে পাচ্ছি, এই রূপ কিন্তু ছাত্রদলের নতুন কিছু নয়। এই রূপ আমরা সারা দেশে বহু জায়গায় বারবার দেখেছি। আমরা দেখেছি, নতুন করে তারা গেস্ট রুম চালু করতে চায়। আমরা দেখেছি, ছাত্রদল নতুন করে প্রত্যেকটি ক্যাম্পাসে অস্থিতিশীল পরিবেশ তৈরি করতে চায়। ছাত্রলীগের সম্পূর্ণ রূপ তারা ছাত্রদল নতুন করে শুরু করার পাঁয়তারা করছে। কিন্তু তারা ভুলে যাচ্ছে যে, ছাত্রলীগের যে পরিণতি এই বাংলাদেশে হয়েছিল, অতি শীঘ্রই ছাত্রদলকেও সে ধরনের পরিণতি ভোগ করতে হবে।
প্রশাসনকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, আজকের হামলায় যারা জড়িত আছে, তাদের প্রত্যেককে তদন্ত করে বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে। তাদের শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। কিন্তু কেউ যদি অন্যায়ভাবে আমাদের ওপর হামলা করে, আমাদের ভাইদের ওপর আবার হামলা করে, আমরা কিন্তু তাদেরকে একচুল ছাড় দেব না। একই সঙ্গে এখন পর্যন্ত ক্যাম্পাসে ছাত্রদল যতগুলো ঘটনা ঘটিয়েছে, যাদের ওপর সন্ত্রাসী হামলা করেছে, প্রত্যেকটি ঘটনা তদন্ত করে বিচার নিশ্চিত করতে হবে।
এর আগে বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ড. মুহম্মদ শহীদুল্লাহ হলের প্রভোস্ট অফিসে সমকামিতার অভিযোগের তদন্ত ও বিচারকে কেন্দ্র করে ছাত্রদল ও ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের মধ্যে হাতাহাতি ও উত্তেজনার ঘটনা ঘটেছে।
সময়ের আলো/আআ