মানবদেহের সুস্থতা বজায় রাখতে বিভিন্ন ভিটামিন ও খনিজের প্রয়োজন হয়। এর মধ্যে পটাশিয়াম একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খনিজ উপাদান, যা শরীরের নানা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। হৃদযন্ত্রের কার্যক্রম থেকে শুরু করে পেশির সংকোচন, স্নায়ুর বার্তা আদান-প্রদান এবং শরীরের তরল ও ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে পটাশিয়ামের ভূমিকা অপরিসীম।
শরীরে পর্যাপ্ত পটাশিয়াম থাকলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। এ ছাড়া হৃদস্পন্দন স্বাভাবিক রাখা, পেশির কার্যক্রম সচল রাখা এবং স্নায়ুতন্ত্রকে সঠিকভাবে কাজ করতে সহায়তা করে।
নিয়মিত পর্যাপ্ত পটাশিয়াম গ্রহণ স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতেও সহায়ক হতে পারে। কিডনি ও হাড়ের স্বাস্থ্যের জন্যও এটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন চিকিৎসকরা।
পটাশিয়ামের ঘাটতির লক্ষণ
শরীরে পটাশিয়ামের মাত্রা কমে গেলে একে হাইপোক্যালেমিয়া বলা হয়। এর ফলে বিভিন্ন ধরনের উপসর্গ দেখা দিতে পারে, যেমন- দুর্বলতা ও ক্লান্তি, পেশিতে টান বা খিঁচুনি, হাত-পায়ে ঝিনঝিনি অনুভূতি, কোষ্ঠকাঠিন্য, হৃদস্পন্দনের অনিয়ম ও মাথা ঘোরা। অতিরিক্ত ডায়রিয়া, বমি, কিছু ওষুধের ব্যবহার বা দীর্ঘদিন অপুষ্টিতে ভুগলে পটাশিয়ামের ঘাটতি দেখা দিতে পারে।
অতিরিক্ত পটাশিয়ামও ক্ষতিকর
শুধু ঘাটতিই নয়, শরীরে অতিরিক্ত পটাশিয়ামও বিপজ্জনক হতে পারে। চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় একে হাইপারক্যালেমিয়া বলা হয়। বিশেষ করে কিডনি রোগীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা বেশি দেখা যায়। অতিরিক্ত পটাশিয়ামের কারণে বুকে ধড়ফড়, দুর্বলতা এবং গুরুতর ক্ষেত্রে প্রাণঘাতী হৃদরোগের জটিলতা দেখা দিতে পারে। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ করা উচিত নয়।
কোন খাবারে পটাশিয়াম বেশি?
পটাশিয়াম পাওয়ার সবচেয়ে ভালো উৎস হলো প্রাকৃতিক খাবার। যেমন- কলা, ডাবের পানি, কমলা ও মাল্টা, অ্যাভোকাডো, আলু ও মিষ্টি আলু, পালং শাক, টমেটো, শিম ও ডালজাতীয় খাবার, দই এবং মাছ।
অনেকেই মনে করেন শুধু কলাতেই পটাশিয়াম বেশি থাকে। বাস্তবে বিভিন্ন ফল, শাকসবজি ও ডালজাতীয় খাবারেও প্রচুর পটাশিয়াম রয়েছে।
একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক পটাশিয়ামের চাহিদা সাধারণত ২,৬০০ থেকে ৩,৪০০ মিলিগ্রামের মধ্যে হতে পারে, যা বয়স, লিঙ্গ ও শারীরিক অবস্থার ওপর নির্ভর করে পরিবর্তিত হয়। সুষম খাদ্য গ্রহণ করলে সাধারণত এই চাহিদা পূরণ করা সম্ভব।
সময়ের আলো/এসএকে