দীর্ঘ অপেক্ষার পর অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। শক্তিশালী অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে এই ঐতিহাসিক সিরিজ ঘিরে সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হওয়ার কথা ছিল গতির ঝড় তোলা নাহিদ রানার বোলিং। স্টিভ স্মিথ, মার্নাস লাবুশেনদের বিপক্ষে তার বাউন্সার দেখার অপেক্ষায় ছিলেন সমর্থকরা, ছিলেন বাংলাদেশের সাবেক সিনিয়র সহকারী কোচ মোহাম্মদ সালাহউদ্দিনও।
কিন্তু চোটে ছিটকে যাওয়ায় সেই রোমাঞ্চ আর থাকছে না। তবে নাহিদকে নিয়ে আক্ষেপে ডুবে থাকার পক্ষপাতী নন তিনি। একই সঙ্গে চোট কাটিয়ে দলে ফেরা লিটন দাসকে নিয়েও আশাবাদী এই অভিজ্ঞ কোচ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বাংলাদেশের পেস আক্রমণের অন্যতম ভরসার নাম নাহিদ রানা। ২০২৪ সালের মার্চে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট অভিষেকের পর এখন পর্যন্ত ১২ টেস্টে নিয়েছেন ৩৮ উইকেট। তবে শুধু উইকেট নয়, নিজের গতির জন্যও আলাদা পরিচিতি গড়ে তুলেছেন এই ডানহাতি পেসার। ২০২৪ সালের মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত তার গড় বোলিং গতি ঘণ্টায় ১৪১.৫৪ কিলোমিটার।
গড় গতির হিসাবে তিনি অস্ট্রেলিয়ার তারকা পেসার মিচেল স্টার্ককেও ছাড়িয়ে গেছেন। যদিও দ্রুততম ডেলিভারির তালিকায় শীর্ষে স্টার্ক, যার গতিবেগ ঘণ্টায় ১৫৭.৩৯ কিলোমিটার। দ্বিতীয় স্থানে থাকা নাহিদের দ্রুততম বলের গতি ঘণ্টায় ১৫১.৯৬ কিলোমিটার। তাই অস্ট্রেলিয়ার বাউন্সি উইকেটে নাহিদের বোলিং দেখার অপেক্ষায় ছিলেন অনেকেই। কিন্তু চোটের কারণে সেই স্বপ্ন ভেঙে গেছে।
সালাহউদ্দিনও আক্ষেপ লুকাননি। তবে তিনি বিশ্বাস করেন, নাহিদ না থাকলেও তাসকিন আহমেদ, হাসান মাহমুদ, ইবাদত হোসেন, খালেদ আহমেদ ও মুশফিক হাসান দায়িত্ব নিতে পারবেন। রোববার গণমাধ্যমকে তিনি বলেন, সত্যি কথা বলতে আমিও খুব রোমাঞ্চিত ছিলাম যে কবে দেখব নাহিদ অস্ট্রেলিয়ান ব্যাটারদের বাউন্সার মারছে। খেলার একটা রোমাঞ্চ, আমি নিজেও অনেক রোমাঞ্চিত ছিলাম যে নাহিদ রানা খেলবে। যেহেতু হয়নি, এখানে হা-হুতাশ করে লাভ নেই। কিন্তু অন্য বোলার যারা আছে তারাও যদি একটু বুদ্ধি করে বল করতে পারে আমি মনে করি তারাও অনেক ভালো করবে।
২০০৩ সালের পর এই প্রথম অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে টেস্ট সিরিজ খেলতে যাচ্ছে বাংলাদেশ। সাম্প্রতিক টেস্ট ক্রিকেটে উন্নতির ধারায় থাকা দলটি এবারও ভালো কিছু করার সামর্থ্য রাখে বলে বিশ্বাস সালাহউদ্দিনের।
তিনি বলেন, টেস্ট দল নিয়ে আমি সবসময় আশাবাদী। আমার কাছে মনে হয় টেস্ট দলে যারা খেলে তারা নিজেদের সম্পর্কে অনেক ভালো সচেতন এবং নিজেদের লক্ষ্যটা তারা ভালো জানে, অন্যদের চেয়ে গোছানো। আমার কাছে মনে হয় এখানে ভালো না হওয়ার আসলে যুক্তি দেখি না। তাদের ইচ্ছা বা লক্ষ্য বলেন... বাস্তবিক অর্থে তারা অনেক ভালো কিছু চিন্তা করে। আমাদের বাইরে যে চারটা টেস্ট আছে আমি আশা করব যে এখান থেকে যদি আমরা ভালো কিছু ম্যাচ বের করতে পারি। দেশে আমাদের চারটা ম্যাচ আছে, সেই চারটা যদি জিতে যাই তা হলে আমার মনে হয় শীর্ষ এক, দুই ও তিনের মধ্যে থাকতে পারব।
অন্যদিকে চোট কাটিয়ে শেষ মুহূর্তে প্রথম টেস্টের স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন লিটন দাস। গত ১৪ জুন অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তৃতীয় ওয়ানডেতে ব্যাটিংয়ের সময় বাঁ-পায়ের কাফ মাসলে চোট পান তিনি। এরপর দীর্ঘ পুনর্বাসন শেষে দ্রুত উন্নতি হওয়ায় প্রথম টেস্টের দলে যুক্ত করা হয়েছে তাকে। রোববার দলের দ্বিতীয় বহরের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়বেন এই অভিজ্ঞ ব্যাটার।
সালাহউদ্দিন মনে করেন, আগেভাগে অস্ট্রেলিয়ায় পৌঁছানো লিটনের জন্য বড় সুবিধা হবে। বিশেষ করে প্রস্তুতি ম্যাচে খেলতে পারলে কন্ডিশনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হবে। তিনি বলেন, সে আগে যাচ্ছে, এটা ভালো হচ্ছে। কারণ সেখানে গিয়ে মানিয়ে নিতে পারবে। আমার মনে হয় গত ৪৫ দিনে সে ম্যাচের মধ্যে নেই। সে যদি অনুশীলন ম্যাচটা খেলতে পারে আমি মনে করি সেটা তার জন্য অনেক ভালো হবে।
সময়ের আলো/এসএকে