আবাসন ও ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা সমালোচনার মধ্যেই জাপানের আইচি-নাগোয়া অঞ্চলে শুরু হচ্ছে এশিয়ার সবচেয়ে বড় ক্রীড়া আসর এশিয়ান গেমস। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) বর্ণাঢ্য উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে ২০তম এশিয়ান গেমস।
তবে আনুষ্ঠানিক পর্দা ওঠার আগেই ক্রিকেট, ফুটবল, বাস্কেটবলসহ কয়েকটি ডিসিপ্লিনের প্রতিযোগিতা শুরু হয়ে গেছে। ১৯ সেপ্টেম্বর থেকে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে এবারের আসর। ৪৫টি দেশ ও অঞ্চলের ১১ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ এতে অংশ নিচ্ছেন। মোট ৪৩টি খেলায় হবে ৪৬৯টি পদক ইভেন্ট।
৩২ বছর পর জাপানে ফিরেছে এশিয়ান গেমস। এর আগে ১৯৫৮ সালে টোকিও ও ১৯৯৪ সালে হিরোশিমায় এই আসর আয়োজন করেছিল দেশটি। এবার মূল ভেন্যু আইচি-নাগোয়া অঞ্চলের পাশাপাশি টোকিও ও ওসাকাতেও কয়েকটি ইভেন্ট অনুষ্ঠিত হবে।
আবাসনেই সবচেয়ে বেশি প্রশ্ন
এবারের আয়োজনের সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে ক্রীড়াবিদদের থাকার ব্যবস্থা। প্রায় ১৭ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য আলাদা কোনো স্থায়ী অ্যাথলেটস ভিলেজ তৈরি করেনি আয়োজকরা। খরচ কমানো এবং গেমস শেষে অব্যবহৃত বড় স্থাপনা এড়ানোর যুক্তিতে হোটেল, অস্থায়ী কাঠামো ও ক্রুজশিপে থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের পর বিভিন্ন দলের পক্ষ থেকে কক্ষের আকার, বিছানার দৈর্ঘ্য ও থাকার ব্যবস্থা নিয়ে অভিযোগ এসেছে। দক্ষিণ কোরিয়ার কর্মকর্তারাও অস্থায়ী কক্ষের বিছানা নিয়ে অসন্তোষ জানিয়েছেন। আয়োজকরা অবশ্য বলছেন, নতুন ব্যবস্থা কার্যকর ও ব্যয়সাশ্রয়ী রাখার লক্ষ্যেই এই মডেল নেওয়া হয়েছে।
নাগোয়া বন্দরে ইতালীয় পতাকাবাহী কোস্টা সেরেনা ক্রুজশিপটি ১৫ সেপ্টেম্বর পৌঁছেছে। প্রায় ২৯০ মিটার দীর্ঘ জাহাজটিতে ১ হাজার ৫০০টি কেবিন রয়েছে এবং একসঙ্গে প্রায় ৪ হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে।
বৃষ্টির পর নতুন শঙ্কা
আবাসনের সমস্যার সঙ্গে যোগ হয়েছে আবহাওয়ার অনিশ্চয়তা। সম্প্রতি নাগোয়া ও আশপাশের এলাকায় ভারী বৃষ্টিতে ট্রেন চলাচল ব্যাহত হয় এবং কয়েক শ ক্রীড়াবিদকে তাঁদের আবাসন থেকে সরিয়ে নিতে হয়েছিল। গেমস শুরুর সময় টাইফুনের সম্ভাবনাও নিয়ে সতর্ক রয়েছে আয়োজক কমিটি।
তবে উদ্বোধনের আগে পরিস্থিতি অনেকটাই স্বাভাবিক হয়েছে। ট্রেন চলাচল সচল হয়েছে এবং নাগোয়ার বিভিন্ন এলাকায় এশিয়ান গেমসের প্রচারসামগ্রী ও ব্যানার দেখা যাচ্ছে।
যুক্ত হচ্ছে নতুন কয়েকটি খেলা
এবারের আসরে নতুন হিসেবে রয়েছে মিক্সড মার্শাল আর্টস, প্যাডেল, সার্ফিং, ভার্চুয়াল তায়কোয়ান্দো ও টেকবল। ই-স্পোর্টস ও ব্রেকড্যান্সও থাকছে। কয়েকটি ডিসিপ্লিন আবার ২০২৮ সালের লস অ্যাঞ্জেলেস অলিম্পিকের জন্য যোগ্যতা অর্জনের পথ হিসেবেও কাজ করবে।
নাগোয়ার বাইরে টোকিও ও ওসাকাতেও প্রতিযোগিতা ছড়িয়ে দেওয়ায় এবারের আয়োজনের পরিধি আরও বড় হয়েছে। অংশগ্রহণকারী ও ইভেন্টের সংখ্যার দিক থেকেও এটি এশিয়ান গেমসের অন্যতম বৃহৎ আসর।
দীর্ঘ প্রস্তুতির পর এখন আয়োজকদের সামনে মূল পরীক্ষা মাঠের প্রতিযোগিতা নির্বিঘ্ন রাখা। আবাসন, পরিবহন ও আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে ৪ অক্টোবর পর্যন্ত গেমস সফলভাবে পরিচালনাই এখন তাদের লক্ষ্য।
সময়ের আলো/জেডি