ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর নেতৃত্ব ঘিরে সংকট আরও ঘনীভূত হচ্ছে। ফিফার প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে আংশিক বিক্রির বিতর্কিত পরিকল্পনা বাতিল হওয়ার পর এবার তার প্রতি সমর্থন প্রত্যাহারের পথে হাঁটছে ইংল্যান্ডের ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ)। একই সঙ্গে ইউরোপের ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফাও আইনি পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছে। অন্যদিকে ওয়েলসও জানিয়েছে, ইনফান্তিনো নতুন মেয়াদে নির্বাচন করলে তাকে সমর্থন দিবে না।
বিতর্কের সূত্রপাত ফিফার একটি নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা নিয়ে। বিশ্বকাপসহ সংস্থাটির প্রধান প্রতিযোগিতাগুলোর বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠনের প্রস্তাব দেন ইনফান্তিনো। সেই প্রতিষ্ঠানে অংশীদার হিসেবে বাইরের বিনিয়োগকারী যুক্ত করার পরিকল্পনা ছিল। কিন্তু এতে ফিফার ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ ও স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। সমালোচনার মুখে শেষ পর্যন্ত পরিকল্পনাটি বাতিল করা হয়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, উয়েফা ফিফার কাছে পাঠানো এক চিঠিতে জানিয়েছে, তারা সম্ভাব্য আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছে। এ কারণে পরিকল্পনা সংক্রান্ত সব নথি, বৈঠকের কার্যবিবরণী, লিখিত বার্তা সংরক্ষণেরও নির্দেশ দিয়েছে সংস্থাটি।
বিতর্কের আরেকটি কারণ, সদস্য দেশগুলোর জন্য দেওয়া আর্থিক প্রস্তাব। ইনফান্তিনো ফিফার সদস্য সংস্থাগুলোকে পাঠানো প্রস্তাবে সমর্থনের বিনিময়ে প্রতিটি সদস্যকে ৪০ মিলিয়ন ডলার দেওয়ার কথা বলে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্মতি জানালে আগাম ২০ মিলিয়ন ডলার পাওয়ার সুযোগও রাখা হয়।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক একটি বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠানের পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত থাকার কথা ছিল। যার প্রতিষ্ঠাতা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের ভাই জশুয়া কুশনার। এই সম্পর্ক বিতর্ক আরও বাড়ায়।
ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া শুধু উয়েফাতেই সীমাবদ্ধ নেই। উত্তর ও মধ্য আমেরিকা এবং ক্যারিবীয় অঞ্চলের ফুটবল সংস্থাও ইউরোপের অবস্থানের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এশিয়ার ফুটবল সংস্থাও উয়েফা ও ওই অঞ্চলের সংস্থাগুলোর সঙ্গে একমত প্রকাশ করেছে। তবে আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও ওশেনিয়ার ফুটবল সংস্থাগুলো এখনো প্রকাশ্যে তার বিরোধিতা করেনি।
অন্যদিকে কাতার, লেবানন, কুয়েত ও শ্রীলঙ্কা প্রকাশ্যে ইনফান্তিনোর পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। আগামী মার্চ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থাকলে ফিফা সভাপতির চতুর্থ ও শেষ মেয়াদের জন্য আবারও নির্বাচনে লড়তে পারবেন। সে ক্ষেত্রে জিততে হলে ২১১ সদস্যের মধ্যে অন্তত ১০৬টি ভোটের সমর্থন লাগবে।
এদিকে ফিফা কাউন্সিলের মাধ্যমে তার ওপর চাপ বাড়ানোর চেষ্টা চলছে। ৩৭ সদস্যের কাউন্সিলের অন্তত ১৯ জন জরুরি বৈঠকের দাবি তুললে দুই সপ্তাহের মধ্যে সেই বৈঠক ডাকতে হবে। সেখানে ইনফান্তিনোর পদত্যাগের দাবিও উঠতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ইউরোপের আশা, বাড়তে থাকা অসন্তোষের কারণে প্রয়োজনীয় সমর্থন জোগাড় করা সম্ভব হবে।
তবে বিশ্লেষকদের মতে, বর্তমান বিরোধ মূলত ইউরোপকেন্দ্রিক। আফ্রিকা, দক্ষিণ আমেরিকা ও এশিয়ার একটি বড় অংশে এখনো ইনফান্তিনোর সমর্থনে রয়েছে। ফলে শুধু ইউরোপ ও উত্তর-মধ্য আমেরিকার বিরোধিতায় তাকে সরানো সহজ হবে না। তাই প্রকাশ্য অবস্থানের পাশাপাশি বিভিন্ন অঞ্চলের সদস্যদের সমর্থন আদায়ে পর্দার আড়ালে কূটনৈতিক তৎপরতাও চলছে। সব মিলিয়ে বিশ্ব ফুটলের সর্বোচ্চ সংস্থায় নেতৃত্বের এই টানাপোড়ন আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও তীব্র হতে পারে।
সূত্র : বিবিসি স্পোর্টস
সময়ের আলো/কেএইচও