মো. ইউসুফ আলী, তাহের উদ্দিন ঠাকুর, নাজিউর রহমানদের মতো নামকরা ব্যক্তিদের তালিকায় যুক্ত হলেন এমএ লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী। বাংলাদেশ ভলিবল ফেডারেশনের অ্যাডহক কমিটির নবনিযুক্ত এবং ভলিবলের ইতিহাসে ১৭তম সভাপতি।
১৯৭২ সালে সভাপতি ইউসুফ আলীর হাত ধরে ফেডারেশনের যাত্রা, ৫৫ বছরের দীর্ঘ পরিক্রমায় ব্যাটন এখন লতিফ শাহরিয়ারের হাতে। অনেক পরিচয়ে পরিচিত তিনি। সমাজসেবক, সুপ্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী এবং ক্রীড়া সংগঠক। তবে সব ছাপিয়ে এখন নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটির তিন মাসের সভাপতি। যদিও এর আগে প্রায় দেড় বছর সিনিয়র সহ-সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী।
২০২৪-এর রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ভলিবলকে যে কয়েকজন শক্ত হাতে সামাল দিয়েছেন, তাদের একজন লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী। তিনি শুধু সিনিয়র সহ-সভাপতির পদই অলঙ্কিত করেননি, অর্থ এবং শ্রম দিয়ে জনপ্রিয় এ খেলাকে এগিয়ে নিতে নিরলসভাবে পরিশ্রম করছেন। সিনিয়র সহ-সভাপতি থাকাকালে বেশ কিছু জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে সহযোগিতা করেছেন।
এবার সভাপতির চেয়ারে বসে নতুন কর্ম পরিকল্পনার কথা জানালেন। গতকাল প্রথমবারের মতো ভলিবলের নবনিযুক্ত অ্যাডহক কমিটি তাদের প্রথম সভা আহ্বান করে। সেই সভাতে যোগ দেওয়ার আগে সময়ের আলোকে একান্ত কিছু কথা বলেন লতিফ শাহরিয়ার। যেখানে ভলিবলের জন্য আগামী তিন বছরমেয়াদি মিডটার্ম পরিকল্পনার বিষয়টিও ছিল। যদিও এটা এখনও প্রাথমিক পর্যায়ের কথা। সামনে আরও কয়েকটি মিটিংয়ের পর এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে মন্তব্য লতিফ শাহরিয়ার জাহেদীর।
সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব যেমন আনন্দের, তেমনি চ্যালেঞ্জেরও। সেই চ্যালেঞ্জে জেতার জন্য সবার সহযোগিতা কামনা করেন।
এ ব্যাপারে লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ‘একটা ন্যাশনাল ফেডারেশনের সভাপতির দায়িত্ব এই অনুভূতি অবশ্যই ভালো। কিন্তু এটার দায়িত্বও অনেক বড়। এখন সবার সহযোগিতা কামনা করি। কারণ এটা সাকসেসফুল করতে গেলে যেমন আমাদের আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে, তেমনি সরকার এবং মিডিয়ারও সহযোগিতা লাগবে। আমরা সবার সহযোগিতা চাই। সবার সহযোগিতা পেলে অবশ্যই আমরা সফলকাম হব।’
লতিফ শাহরিয়ার জাহেদী দায়িত্বে বসার পরপরই তার দল (জাতীয় পুরুষ দল) আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বড় সাফল্য পেয়েছে। পাকিস্তানের মাটিতে কাভা কাপ ভলিবল চ্যাম্পিয়নশিপে রানার্সআপ হয়েছে। এমন সাফল্যে লতিফ শাহরিয়ার যেমন আনন্দিত, তেমনি এর ধারাবাহিকতা ধরে রাখার ব্যাপারেও প্রত্যয়ী।
এ ব্যাপারে ভলিবল সভাপতি জানান, ‘ইন্টারন্যাশনাল গ্রাউন্ডে বেসিক্যালি আমাদের এটাই সর্বোচ্চ অর্জন। কাভা কাপে দেশে আমরা একবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছি। ইন্টারন্যাশনালি আমরা থার্ড পজিশন এর আগে সিকিউর করেছিলাম। দলের এমন অর্জনে, ছেলেদের পারফরম্যান্সে আমরা অনেক খুশি। এই অর্জনের পরে আমাদের দায়িত্বটা আরও বেড়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরও সামনের দিকে কীভাবে এগোনো যায় সেটা আমাদের সবাইকে ফাইন্ড আউট করতে হবে, সেভাবে আমাদের কর্মপরিকল্পনা তৈরি করতে হবে।’
তিন মাসের স্বল্পমেয়াদের দায়িত্ব নিয়ে ভলিবলের চেয়ারে বসেছেন লতিফ শাহরিয়ার। আগামী ৯০ দিনের মধ্যে নির্বাচন করে নতুন কমিটির হাতে দায়িত্ব বুঝিয়ে দিতে হবে। যদিও এটা খুবই কম সময়। তারপরও লতিফ শাহরিয়ার আশাবাদী।
এ ব্যাপারে তিনি বলেন, সরকারের গাইডলাইন মেনেই আমরা এ বিষয়ে কাজ করব। নির্বাচন আয়োজনে আমাদের দিক থেকে কোনো অসুবিধা হবে না। আমরা সময় এবং নিয়ম মেনে সরকারের সহযোগিতায় সবাইকে জানিয়েই সব কাজ করব।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে