ট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া উপজেলায় অপরিকল্পিত ড্রেনেজব্যবস্থা ও সঠিক পানি নিষ্কাশনের অভাবে দেখা দিয়েছে তীব্র জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে যেমন প্রায় ২০ থেকে ৩০ কানি কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ে রয়েছে, অন্যদিকে দীর্ঘ এক দশক ধরে চরম জনদুর্ভোগ পোহাচ্ছে স্থানীয় শত শত পরিবার। সামান্য বৃষ্টিতেই রাস্তাঘাট ও বসতবাড়ি জলমগ্ন হয়ে পড়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে পুরো এলাকার স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার বেতাগী ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বেতাগী মাইজপাড়া এলাকার কমর আলী বাড়ি সড়ক-সংলগ্ন অর্ধ কিলোমিটারজুড়ে দীর্ঘদিন ধরে এই স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক প্রবাহ অবরুদ্ধ হয়ে পড়ায় বৃষ্টির পানি দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে স্থানীয় কৃষি অর্থনীতিতে।
জলাবদ্ধতার কারণে বিস্তীর্ণ কৃষিজমিতে ফসল ফলানো সম্ভব হচ্ছে না বলে জানান স্থানীয় কৃষকরা। এভাবেই গত ১০ বছর ধরে জলমগ্ন জায়গাগুলো অনাবাদি পড়ে রয়েছে।
ভুক্তভোগী বাসিন্দারা জানান, বর্ষা মৌসুম ছাড়াও বছরের অধিকাংশ সময় এই কৃত্রিম জলাবদ্ধতা বজায় থাকে। এর ফলে যাতায়াতে পোহাতে হয় ভোগান্তি, বৃদ্ধি পায় স্বাস্থ্যঝুঁকিও। দীর্ঘ ১০ বছর ধরে একাধিকবার বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হলেও কার্যকর কোনো স্থায়ী সমাধান মেলেনি।
সম্প্রতি দুর্ভোগ নিরসনে ও কৃষিজমি রক্ষার দাবিতে স্থানীয় প্রশাসন ও জেলা প্রশাসকের সুদৃঢ় হস্তক্ষেপ কামনা করে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। স্থানীয়দের পক্ষে বক্তব্য প্রদান করেন মো. ইসকান্দর মিঞা, মো. হাসান মুরাদ, শাহ আলম, আশরাফ, গোলাম হোসেন, মুফিজুল হক ও হোসেন সওদাগরসহ অন্যরা।
এ বিষয়ে ভুক্তভোগীদের দাবি, চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসক ও রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরেজমিন ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে দ্রুত একটি সুপরিকল্পিত টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও নালা নির্মাণ নিশ্চিত করবেন। স্থায়ী নিষ্কাশনব্যবস্থা গড়ে উঠলেই মুক্ত হবে বন্দিদশা, সচল হবে কৃষি উৎপাদন।
এ বিষয়ে জানতে রাঙ্গুনিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। বিস্তারিত জানার জন্য ঘটনাস্থল পরিদর্শনের পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস প্রদান করেন ইউএনও।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/এমকে