ময়মনসিংহ জেলার একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সীমান্তবর্তী জনপদ হালুয়াঘাট পৌরসভা। ২০১৪ সালের ২০ জানুয়ারি ৯ দশমিক ২৫ বর্গকিলোমিটার এলাকা নিয়ে ‘গ’ শ্রেণির পৌরসভা হিসেবে এর যাত্রা শুরু হয়েছিল। দীর্ঘ আট বছর ‘গ’ শ্রেণির মর্যাদা নিয়ে চলার পর ২০২২ সালের ২৮ নভেম্বর স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে পৌরসভাটি ‘খ’ শ্রেণিতে উন্নীত হয়। প্রশাসনিক এই উত্তরণের ফলে পৌরসভার বাজেট বরাদ্দ ও সেবার পরিধি বাড়ার কথা থাকলেও বাস্তবে দীর্ঘ ১৩ বছরেও মেলেনি কাঙ্ক্ষিত নাগরিক সেবা।
স্থানীয়রা বলছেন, হালুয়াঘাট পৌর শহরের বর্তমান প্রধান সমস্যাগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো তীব্র জলাবদ্ধতা। অপরিকল্পিতভাবে হাটবাজার ও বসতবাড়ি নির্মাণের কারণে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে। পৌর শহরের ঘরবাড়ি ও স্থাপনাগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট মাস্টারপ্ল্যান বা নিয়মের তোয়াক্কা না করে গড়ে ওঠায় পৌরসভার পক্ষ থেকে সঠিক উপায়ে নতুন রাস্তা নির্মাণ এবং ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা ব্যাহত হচ্ছে। ফলস্বরূপ সামান্য বৃষ্টিতেই শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে।
এ বিষয়ে পৌর প্রশাসক জাকিয়া সুলতানা রোজি বলেন, অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি ও দোকানপাট নির্মাণের ফলে আমাদের কাজ করতে দীর্ঘ জটিলতার সৃষ্টি হচ্ছে। পৌর নাগরিকরা রাস্তা ও ড্রেনের জায়গা না রেখে অপরিকল্পিতভাবে বসতবাড়ি নির্মাণ করার ফলে আমরা পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ করতে বেগ পাচ্ছি। তবে পৌর নাগরিকদের কাক্সিক্ষত সেবা দিতে আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সীমানা সংক্রান্ত জটিলতার কারণে পৌরসভা গঠনের দীর্ঘ চার বছর পর ২০১৮ সালের ২৯ মার্চ হালুয়াঘাট পৌরসভার প্রথম নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। ২০২৩ সালের ১৬ মার্চ অনুষ্ঠিত দ্বিতীয় নির্বাচনে মেয়র পদে পুনরায় খায়রুল আলম ভূঞা বিজয়ী হন। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর এবং বিগত আওয়ামী সরকার পতনের প্রেক্ষাপটে বর্তমানে হালুয়াঘাট পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্ব পালন করছেন সরকারি প্রশাসনের কর্মকর্তারা।
পৌরবাসীর অভিযোগ, প্রতিষ্ঠার প্রায় এক যুগ পেরিয়ে গেলেও হালুয়াঘাট পৌর শহরে আজও গড়ে ওঠেনি মানসম্মত রাস্তাঘাট ও কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা। এ ছাড়া পৌরসভার বর্জ্য ফেলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো ডাম্পিং স্টেশন বা স্থান নির্ধারিত নেই। যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা এবং স্থায়ী বর্জ্য ব্যবস্থাপনার অভাবে স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়ছে সাধারণ মানুষ। দীর্ঘ ১৩ বছর অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত পৌরসভার নিজস্ব কোনো ভবন নির্মিত হয়নি। পৌর প্রশাসকদের হাতে দায়িত্ব অর্পণের পর থেকে শুধু কিছু নাগরিক সেবার কাজ দৃশ্যমান হয়েছে। এর মধ্যে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন এবং পৌর শহরজুড়ে রাস্তাঘাট আলোকিত করতে ল্যাম্পপোস্ট স্থাপন অন্যতম।
স্থানীয় নাগরিক সমাজ মনে করছে, কেবল প্রশাসক পরিবর্তন নয়, বরং সামগ্রিক অপরিকল্পিত নগরায়ণ রোধ এবং দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা গ্রহণ না করলে এই জনপদের দুর্ভোগ কমবে না। হালুয়াঘাট পৌরসভার বর্তমান ও ভবিষ্যৎ উন্নয়নের স্বার্থে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত একটি আধুনিক মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন করে পরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা ও রাস্তাঘাট সংস্কারের কার্যকর উদ্যোগ নেবে- এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় সচেতন মহলের।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি