ইথিওপিয়ার আমহারা অঞ্চলে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট ভূমিধসে একটি ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়া অন্তত ১৪ জন নিহত এবং সাতজন আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের উদ্ধারে তল্লাশি ও উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) সকালে সাদকানে ডেব্রে মিতমাক সেন্ট মেরি মঠে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিনের অসুস্থতা থেকে আধ্যাত্মিক আরোগ্যের আশায় শত শত মানুষ সেখানে পবিত্র পানিতে স্নানের ধর্মীয় আচার পালনে জড়ো হয়েছিলেন।
মঠ পরিচালনাকারী ডায়োসিসের মহাব্যবস্থাপক মেগাবে হাদিস নেকা তিবেব আবাবু জানান, সকাল প্রায় ৭টার দিকে ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। নিহতদের বেশিরভাগই তখন পবিত্র পানি গ্রহণের জন্য সেখানে অবস্থান করছিলেন। তিনি বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো অজ্ঞাতসংখ্যক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন।
নিহতদের মধ্যে ১১ জনকে মঠ প্রাঙ্গণেই দাফন করা হয়েছে। বাকি নিহতদের মরদেহ তাদের নিজ নিজ এলাকায় পাঠানো হয়েছে। তবে কয়েকজনের পরিচয় শনাক্ত করতে এখনো বেগ পেতে হচ্ছে।
গুরুতর আহতদের উত্তর শেওয়া প্রশাসনিক অঞ্চলের রাজধানী ডেব্রে বিরহান শহরের হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, পাহাড়ের ঢাল থেকে বড় বড় পাথর গড়িয়ে পড়ে উপাসনায় অংশ নেওয়া মানুষের ওপর আছড়ে পড়ায় হতাহতের সংখ্যা বেড়ে যায়।
উদ্ধারকাজে সহায়তার জন্য স্থানীয় দুর্যোগ প্রতিরোধ দপ্তরের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে কাজ করছে।
ইথিওপিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বর্ষা মৌসুমে ভারী বৃষ্টির কারণে ভূমিধস ও বন্যার ঘটনা প্রায়ই ঘটে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দক্ষিণ ইথিওপিয়ায় ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত ২৫৭ জন নিহত হয়েছিলেন। চলতি বছরও দক্ষিণাঞ্চলের গামো এলাকায় একই ধরনের আরেকটি ভূমিধসে ১০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলে চরম আবহাওয়ার ঘটনা বাড়ছে। দুর্বল অবকাঠামো এবং দুর্যোগ মোকাবিলার সীমিত সক্ষমতার কারণে ইথিওপিয়ার গ্রামীণ এলাকাগুলো ভূমিধস, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ