যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের আরোপ করা নতুন আমদানি শুল্ক নিয়ে ডেমোক্র্যাট-নিয়ন্ত্রিত ২৫টি অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে। তাদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন আইনগত ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করে এই শুল্ক আরোপ করেছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) যুক্তরাষ্ট্রের কোর্ট অব ইন্টারন্যাশনাল ট্রেডে দায়ের করা মামলায় গত মাসে ৬০টি বাণিজ্যিক অংশীদার দেশের ওপর আরোপিত নতুন দ্বি-অঙ্কের শুল্ককে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমের মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি ঠেকাতে যথেষ্ট ব্যবস্থা নেয়নি।
নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সুপ্রিম কোর্টে পরাজয়ের পর ট্রাম্প প্রশাসন নতুন শুল্কের মাধ্যমে আবারও অবৈধভাবে পরিবার ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ওপর করের বোঝা চাপানোর চেষ্টা করছে।
মামলায় অংশ নেওয়া অঙ্গরাজ্যগুলোর মধ্যে নিউইয়র্ক ও ওরেগন রয়েছে। এসব অঙ্গরাজ্যের গভর্নর বা অ্যাটর্নি জেনারেল সবাই ডেমোক্র্যাট দলের।
তবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, অন্য দেশের অন্যায্য বাণিজ্যিক আচরণের বিরুদ্ধে এই শুল্ক বৈধ ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ।
এর আগে, ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ইন্টারন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ইকোনমিক পাওয়ারস অ্যাক্ট (আইইইপিএ) ব্যবহার করে প্রায় সব দেশের আমদানির ওপর শুল্ক আরোপ করেছিলেন। কিন্তু গত ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট রায় দেয়, ওই আইনের আওতায় প্রেসিডেন্টের এমন শুল্ক আরোপের ক্ষমতা নেই। পরে আমদানিকারকদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থাও করতে হয়।
এরপর ট্রাম্প প্রশাসন অস্থায়ীভাবে ১০ শতাংশ বৈশ্বিক শুল্ক চালু করলেও সেটির মেয়াদ ২৪ জুলাই শেষ হয়ে যায়।
সর্বশেষ শুল্কগুলো ১৯৭৪ সালের ট্রেড অ্যাক্টের সেকশন ৩০১-এর আওতায় আরোপ করা হয়েছে। এই আইন অন্য দেশের অন্যায্য বা বৈষম্যমূলক বাণিজ্যিক কর্মকাণ্ড মোকাবেলার জন্য ব্যবহার করা হয়। জুলাইয়ে ঘোষিত নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া ৯৯ শতাংশের বেশি পণ্যের ওপর প্রভাব ফেলবে।
মামলাকারী অঙ্গরাজ্যগুলোর দাবি, জোরপূর্বক শ্রম ইস্যুকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে ট্রাম্প প্রশাসন এমন শুল্ক পুনর্বহাল করতে চাইছে, যা আদালত আগেই অবৈধ ঘোষণা করেছে। তাদের মতে, আমদানির ওপর ব্যাপক শুল্ক আরোপ বিশ্বজুড়ে জোরপূর্বক শ্রমের প্রকৃত সমস্যার সমাধান করবে না।
সময়ের আলো/ইউএমএইচ