মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। গত ১২ দিনে তার বেশ কিছু বক্তব্য ও সিদ্ধান্ত নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, নেতৃত্বের সক্ষমতা ও স্থিরতা নিয়ে ভোটারদের যে সংশয় তৈরি হয়েছে, সাম্প্রতিক আচরণ তা আরও বাড়াতে পারে।
সম্প্রতি রিপাবলিকানরা কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক মার্কিন নাগরিককে ৫ হাজার ডলার দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছেন ট্রাম্প। রয়টার্স-ইপসোসের এক জরিপে নিবন্ধিত ভোটারদের ৬৬ শতাংশ এ প্রস্তাবকে ‘অনুপযুক্ত’ বলেছেন, বিপরীতে ১৮ শতাংশ একে উপযুক্ত মনে করেছেন।
নর্থ ক্যারোলাইনায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সিনেটর নির্বাচিত হলে রাজ্যটিতে দুর্যোগ সহায়তা বন্ধ করে দেওয়ার বিষয়ে ট্রাম্পের মন্তব্যও বিতর্ক সৃষ্টি করেছে। পরে তিনি দাবি করেন, কথাটি তিনি মজা করে বলেছেন। তবে ডেমোক্র্যাট-শাসিত অঙ্গরাজ্যগুলোর ক্ষেত্রে তার প্রশাসনের অনুদান দেওয়ার নীতি নিয়ে আগেও প্রশ্ন উঠেছে।
৯/১১ হামলার ২৫তম বার্ষিকীর আগে ট্রাম্প নিউইয়র্কের গ্রাউন্ড জিরোর কাছে নিজের অবস্থান নিয়ে একটি গল্প বলেন। সেখানে একটি ভবন ধসে পড়ার আশঙ্কায় দমকলকর্মীরা তাকে সরিয়ে নিয়েছিলেন বলে দাবি করেন তিনি। তবে এ দাবির পক্ষে নিশ্চিত প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং ঘটনাটিকে বিভ্রান্তিকর বলে উল্লেখ করেছেন সিএনএনের ফ্যাক্টচেকার ড্যানিয়েল ডেল।
এ ছাড়া ২০২৪ সালে পেনসিলভানিয়ার বাটলারে তার ওপর চালানো হত্যাচেষ্টাকে ‘ডেমোক্র্যাটদের ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। তবে এ দাবির পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি। হামলাকারী থমাস ক্রুকস নিবন্ধিত রিপাবলিকান ছিলেন। এফবিআই পরিচালক কাশ প্যাটেলও জানিয়েছেন, ক্রুকস অন্য কারও সঙ্গে যোগাযোগ করতেন— এমন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার না কমালে বাণিজ্য ঘাটতি রয়েছে— এমন সব দেশের সঙ্গে বড় অংশের বাণিজ্য বন্ধ করে দেওয়ার হুমকিও দিয়েছেন ট্রাম্প। তার দাবি, এভাবে বছরে অন্তত ১ দশমিক ৫ ট্রিলিয়ন ডলার আয় করা সম্ভব। তবে এ যুক্তিকে অর্থনৈতিকভাবে অসংগত বলে সমালোচনা করা হয়েছে।
এর মধ্যেই হোয়াইট হাউসে সিএনএন, এমএস নাও ও পলিটিকোর প্রবেশাধিকার ‘তাৎক্ষণিকভাবে’ বন্ধের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। এরপর শনিবার সিএনএনের এক সাংবাদিককে হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণে প্রবেশ করতে দেওয়া হয়নি এবং তার প্রেস পাস জব্দ করা হয়। পলিটিকো ও এমএস নাওয়ের সাংবাদিকদেরও প্রবেশে বাধা দেওয়া হয়।
সাম্প্রতিক সময়ে ট্রাম্পের আরও কিছু বক্তব্যও আলোচনায় এসেছে। তিনি তার মনোনীত সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতিদের নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করে বলেছেন, তারা তার সঙ্গে সাক্ষাতের সময় নিজেদের যে অবস্থান তুলে ধরেছিলেন, এখন আর তেমন নেই। আয়ারল্যান্ডের পুনরেকত্রীকরণের সম্ভাবনার পক্ষেও মন্তব্য করেছেন তিনি, যা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের পররাষ্ট্রনীতির প্রচলিত অবস্থান থেকে ভিন্ন। একই সঙ্গে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগকে ‘ভাঁওতা’ বলেও মন্তব্য করেছেন।
এ ছাড়া কেনেডি সেন্টারে নিজের নাম যুক্ত করার অনুমতি পেতে আদালতের ওপর চাপ তৈরি করছেন ট্রাম্প। আদালত অনুমতি না দিলে প্রতিষ্ঠানটিকে কার্যত অকার্যকর হয়ে যেতে দেওয়ার ইঙ্গিতও দিয়েছেন তিনি।