ইসরায়েলের একটি উচ্চবিদ্যালয়ে আয়োজিত প্রতীকী নির্বাচনে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বন্দুকের আকৃতির চাবির রিং বিতরণ করেছেন দেশটির উগ্র ডানপন্থী জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন-গভিরের সমর্থকেরা। এসব চাবির রিংয়ে লেখা ছিল— ‘বন্দুক জীবন বাঁচায়’।
বৃহস্পতিবার রামাত গানের বিলিখ হাইস্কুলে আয়োজিত প্রতীকী নির্বাচনের অনুষ্ঠানে এ ঘটনা ঘটে। ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেৎজের বরাত দিয়ে মিডল ইস্ট আই জানিয়েছে, কিছু চাবির রিং ছিল সরাসরি বন্দুকের আকৃতির। আবার কিছুতে বন্দুক হাতে বেন-গভিরের ছবি ছিল। এগুলো বোতল খোলার কাজেও ব্যবহার করা যায়।
বেন-গভিরের দল উতজমা ইয়েহুদিতের সমর্থকেরা অনুষ্ঠানে ফাঁসির দড়ির আকৃতির চাবির রিংও বিতরণের চেষ্টা করেন। তবে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক তা ঠেকিয়ে দেন।
চাবির রিং বিতরণের পক্ষে সাফাই দিয়েছে উতজমা ইয়েহুদিত। দলটি বলেছে, বিদ্যালয়ে নতুন ও বিশেষ ধারণার মাধ্যমে তরুণ প্রজন্মের কাছে মন্ত্রী বেন-গভিরের অস্ত্রসংক্রান্ত সংস্কারের গুরুত্ব তুলে ধরতেই এসব সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
বেন-গভির ও তার দল সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরায়েলিদের অস্ত্র রাখার সুযোগ সম্প্রসারণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। জানুয়ারিতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের আরও ১৮টি বসতিতে বসবাসকারী ইসরায়েলিদের অস্ত্রের লাইসেন্স অনুমোদন করেন বেন-গভির। মার্চে ইসরায়েলি পার্লামেন্ট নেসেটে এমন একটি আইন পাস হয়, যাতে সামরিক আদালতে প্রাণঘাতী হামলার দায়ে দোষী সাব্যস্ত ফিলিস্তিনিদের ক্ষেত্রে মৃত্যুদণ্ডকে প্রধান শাস্তি হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে। আইনটির পক্ষে প্রচার চালিয়েছিলেন বেন-গভির।
প্রতীকী নির্বাচন ঘিরে উত্তেজনা
বিলিখ হাইস্কুলে প্রতি বছরই এমন প্রতীকী নির্বাচন আয়োজন করা হয়। একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোকে ভোট দেয়। জাতীয় নির্বাচনের আগে ইসরায়েলের রাজনৈতিক ব্যবস্থা সম্পর্কে শিক্ষার্থীদের ধারণা দেওয়ার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানটি দেশটিতে বেশ আলোচিত।
তবে এবার অনুষ্ঠানটি উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। হারেৎজের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিভিন্ন দলের শিক্ষার্থী ও রাজনৈতিক কর্মীদের মধ্যে চিৎকার, ধাক্কাধাক্কি এবং বক্তব্য চলাকালে বিশৃঙ্খলার ঘটনা ঘটে।
বামপন্থী ডেমোক্র্যাটস পার্টির কর্মীরা অভিযোগ করেন, উতজমা ইয়েহুদিতের সমর্থকেরা দলটির নেসেট সদস্য গিলাদ কারিভের বক্তব্যের সময় তাদের ধাক্কা দেন ও গালাগাল করেন। কারিভ পরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করেন, বেন-গভিরের সমর্থকেরা চিৎকার, গালাগালি এবং মঞ্চে বোতল ছোড়ার পরও প্রতীকী নির্বাচনে প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুর জোট হেরে গেছে।
কেন্দ্র-ডানপন্থী টুগেদার পার্টির নেসেট সদস্য মেরাভ বেন আরিও অভিযোগ করেন, অনুষ্ঠান চলাকালে তার দিকে একটি কাপ ছোড়া হয় এবং ‘শুধু বেন-গভির’ বলে স্লোগান দেওয়া হয়।
তবে প্রতীকী নির্বাচনের ফলাফলে বেন-গভিরের দল সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পায়নি।
নেতানিয়াহুর দল তৃতীয়, বেন-গভিরের দল চতুর্থ
প্রতীকী নির্বাচনে গাদি আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি ৩২ দশমিক ২ শতাংশ ভোট পেয়ে প্রথম হয়। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন টুগেদার পার্টি পায় ২২ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট। ১৫ দশমিক ৫ শতাংশ ভোট নিয়ে তৃতীয় হয় নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি।
বেন-গভিরের উতজমা ইয়েহুদিত ৯ দশমিক ৪ শতাংশ ভোট পেয়ে চতুর্থ এবং ডেমোক্র্যাটস পার্টি ৭ দশমিক ১ শতাংশ ভোট পেয়ে পঞ্চম হয়।
তবে আগের নির্বাচনের তুলনায় বেন-গভিরের দলের সমর্থন বেড়েছে। ২০২২ সালে উতজমা ইয়েহুদিত ও অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মোত্রিচের রিলিজিয়াস জায়োনিজম পার্টি জোটবদ্ধভাবে বিলিখ হাইস্কুলের প্রতীকী নির্বাচনে ৪ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট পেয়েছিল। এবার দুই দল মিলিয়ে ভোট পেয়েছে ১১ শতাংশ।
এদিকে ফিলিস্তিনিদের অধিকৃত গাজা থেকে বহিষ্কারের আহ্বান জানানো নতুন উগ্র ডানপন্থী দল আমখা ইসরায়েল পেয়েছে ৩ দশমিক ৬ শতাংশ ভোট।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেছেন, নাগরিক শিক্ষা মানে বহুত্ববাদ, সহনশীলতা এবং মতপার্থক্যকে সম্মান ও মনোযোগের সঙ্গে মোকাবিলা করাও শেখানো। তিনি প্রতীকী নির্বাচনে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের প্রশংসা করে দিনটিকে ফলপ্রসূ ও সমৃদ্ধ বলে উল্লেখ করেন।
গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ইসরায়েলের তরুণ ভোটারদের জন্য এটি হতে যাচ্ছে প্রথম জাতীয় নির্বাচন। তবে গাজা যুদ্ধের বিরোধিতা করে প্রকাশ্যে অবস্থান নেওয়া শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে দেশটিতে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে।
সময়ের আলো/কেএইচ