ইংল্যান্ডের বিস্তীর্ণ অঞ্চলজুড়ে ভয়াবহ খরা এবং দাবদাহ অব্যাহত থাকায় যুক্তরাজ্যে খাদ্য সংকট দেখা দিতে পারে বলে সতর্কবার্তা দিয়েছে সেই দেশের ন্যাশনাল ফারমার্স ইউনিয়ন (এনএফইউ)। দেশটির স্বাস্থ্য সুরক্ষা সংস্থা (ইউকেএইচএসএ) একাধিক অঞ্চলে ইতিমধ্যে স্বাস্থ্য সতর্কতা জারি করেছে, যেখানে তাপমাত্রা ৩০ ডিগ্রি সেলসিয়াস অতিক্রম করার পূর্বাভাস রয়েছে।
চলতি বছর শীত মৌসুমে দেশজুড়ে বন্যা পরিস্থিতির কারণে ফসলের চারা রোপণ ব্যাহত হয়েছিল। আর এখন খরা ও সেচের পানি ব্যবহারের ওপর বিধিনিষেধের কারণে মারাত্মক সংকটে পড়েছেন কৃষকরা।
দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন বলছে, গত পাঁচ বছরে এটি যুক্তরাজ্যের তৃতীয় খরা, যাকে সেই দেশের কৃষি খাতের নতুন বাস্তবতা বলে মনে করছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে গম গাছের উচ্চতা স্বাভাবিকের চেয়ে অর্ধেকে নেমে এসেছে। নিজেদের ফসল বাঁচাতে তাড়াহুড়া করায় যুক্তরাজ্যে এবার ইতিহাসের সবচেয়ে আগাম ফসল তোলার কাজ শুরু হয়েছে। দেশের অনেক জায়গায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি এবং একাধিক তাপপ্রবাহে মাটি পুরোপুরি শুকিয়ে গেছে।
এনএফইউ সভাপতি টম ব্র্যাডশ সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিবিসি রেডিওকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ভবিষ্যতে পরিস্থিতি সামাল দিতে কৃষকদের নিজেদের জমিতে জলাধার তৈরির জন্য কর ছাড় দেওয়া প্রয়োজন। অন্য যেসব দেশ থেকে খাদ্য ও শাকসবজি আমদানি করা হয়, সেখানেও জলবায়ু পরিবর্তন আঘাত হানছে। ফলে অদূর ভবিষ্যতে যুক্তরাজ্যে কিছু খাদ্যপণ্য ঘাটতি দেখা দেওয়াটা প্রায় নিশ্চিত।
আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ইংল্যান্ডে গড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হওয়ার কথা, তার মাত্র ৮ শতাংশ রেকর্ড করা হয়েছে, যা ইতিহাসের শুষ্কতম জুলাইয়ের সংকেত দেয়। ইতিমধ্যে ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের প্রায় ২ কোটি ৩০ লাখ মানুষের ওপর পানি ব্যবহারে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে এবং শুষ্ক আবহাওয়ার কারণে একাধিক স্থানে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে।
কৃষি ও উদ্যান পালন উন্নয়ন বোর্ডের (এএইচডিবি) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চরম দাবদাহের কারণে ২০০৬ সালের পর এবারই সবচেয়ে আগাম ফসল তোলার কাজ চলছে। অনেক কৃষক প্রখর রোদ ও গরম এড়াতে গভীর রাতেও কাজ করছেন। সংস্থাটির প্রধান কর্মকর্তা অ্যান্থনি হপকিন্স জানান, সাম্প্রতিক বছরগুলোর বিরূপ আবহাওয়া ও ক্রমবর্ধমান উৎপাদন খরচের কারণে গম ও বার্লি উৎপাদন স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কমে গেছে, যা খামারগুলোকে আর্থিক ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিয়েছে।
জলবায়ু সংকট এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নের ভর্তুকি বন্ধ হওয়ার পর যুক্তরাজ্যের এক-তৃতীয়াংশ কৃষক লোকসানে বা কোনোমতে টিকে আছেন। কান্ট্রি, ল্যান্ড অ্যান্ড বিজনেস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি গ্যাভিন লেন সতর্ক করে বলেছেন, বহু কৃষকের জন্য এটিই হতে পারে শেষ ফসল কাটার মৌসুম। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সরকার যদি জলাধার নির্মাণ ও দাবানল প্রতিরোধের মতো টেকসই পদক্ষেপে বিনিয়োগ না করে, তবে আগামীতে দেশকে খাদ্য জোগানো আর সম্ভব হবে না।
এদিকে ইউকেএইচএসএ সতর্ক করে জানিয়েছে, প্রবীণ ও অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য এই দাবদাহ মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। সংস্থাটির স্বাস্থ্য পরামর্শক পলি আশমোর সবাইকে পর্যাপ্ত পানি পান করা, দুপুরে রোদে বের না হওয়া এবং অসুস্থ বা বয়স্ক স্বজনদের খোঁজ রাখার পরামর্শ দিয়েছেন।
সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি