ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের

2026-08-04T01:40:53+00:00
2026-08-04T01:40:53+00:00
 
  মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬,
২০ শ্রাবণ ১৪৩৩
মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট ২০২৬
আন্তর্জাতিক
ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে ইরানের, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নয়
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
প্রকাশ: মঙ্গলবার, ৪ আগস্ট, ২০২৬, ১:৪০ এএম 
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই। ছবি : সংগৃহীত
হরমুজ প্রণালি নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনা চলছে, তবে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা হচ্ছে না বলে জানিয়েছে তেহরান। ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই সোমবার জানিয়েছেন, হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু করার জন্য অস্থায়ী নতুন পথ তৈরির বিষয়ে তারা ওমানের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা এখন শুরু করা হয়নি। দ্য গার্ডিয়ান। 

ডোনাল্ড ট্রাম্পের দাবির জবাবে তিনি এই কথা বলেন। ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, সব বড় বিবাদ নিয়ে দুই পক্ষের আলোচনা সোমবার থেকেই শুরু হতে পারে। ট্রাম্প আরও বলেন, গত সপ্তাহে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমান তাকে কূটনীতির পথ বেছে নেওয়ার অনুরোধ করলে তিনি ‘দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোনো দেশের ওপর সবচেয়ে বড় হামলা’ চালানো থেকে বিরত থাকেন। তবে এই সিদ্ধান্ত শর্তসাপেক্ষ। ইরানকে দ্রুত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে হবে। যুদ্ধ চলাকালীন ট্রাম্প এবারই অন্তত ১২ বার হামলার ঘোষণা দিয়েও তা স্থগিত করেছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

হরমুজ প্রণালির ওপর পুরো সার্বভৌমত্ব দাবি করছে ইরান। এই নৌপথ ও এর পরিচালনা নিয়ে তাদের বিভিন্ন দাবি রয়েছে। যেমন জাহাজকে নানা সেবা দেওয়ার বিনিময়ে শুল্ক নেওয়ার কথাও বলা হচ্ছে। একটি প্রস্তাব এসেছে ওমান ও ইরান মিলে যৌথ প্রতিষ্ঠান তৈরি করবে; তারা বীমা সংস্থাগুলোর মতো সেবা দেবে তবে অনেক কম খরচে, আবার কিছু দেশের জন্য থাকবে বিশেষ ছাড়ও।

প্রণালি দিয়ে সবার জন্য গ্রহণযোগ্য পথ চালু করা ছাড়া ১৮ জুন সই হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্য কোনো শর্ত আপাতত কার্যকর করা সম্ভব নয়। এই চুক্তি নিয়ে মতপার্থক্যের কারণেই আবার লড়াই শুরু হয়েছে, যা রেড সি ও ইরাক পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছে। 

গত সপ্তাহে ইরানের উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী কাজেম গারিবাবাদি বলেন, জাহাজগুলোকে ইরানের কাছাকাছি উত্তরদিকের পথ দিয়ে যেতে হবে। তবে কিছু জাহাজ দক্ষিণ দিকের পথও ব্যবহার করতে পারবে। দুই পথে সমানভাবে জাহাজ চলাচল বা কোনো তৃতীয় দেশকে নৌপথটি থেকে মাইন সরানোর সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাবও প্রত্যাখ্যান করেছে তারা।

সংবাদ সম্মেলনে বাঘাই বলেন, আমরা এমন একটি করিডোর নিয়ে কথা বলছি, যেখানে নৌযান যাতায়াতের একটাই পথ থাকবে। দুই বা তিনটি আলাদা পথ নয়। স্থায়ী পথ নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত এই মাঝের পথটি অস্থায়ীভাবে ব্যবহার করা হবে। তিনি আরও বলেন, এটি আগের প্রচলিত পদ্ধতির বিকল্প। যেখানে জাতিসংঘ পৃথক পথে জাহাজ চলাচল তদারকি করত। দুপক্ষ ইতিমধ্যে মানচিত্রও বিনিময় করেছে।

তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ওমানের সঙ্গে এই আলোচনা দ্বিপক্ষীয়। যুক্তরাষ্ট্র এর কোথাও নেই। আলোচনা চলছে গত সাত-আট দিন ধরে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো কথা বলবেন না বলে জানান। তার ভাষায়, আমাদের একমাত্র লক্ষ্য হলো হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদ জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করা। ওমানের সঙ্গে আলোচনা করে দ্রুত একটি পথ নির্ধারণের চেষ্টা করছি। তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, শুধু পথ নির্ধারণে সব সমস্যা মিটবে না। যতক্ষণ যুক্তরাষ্ট্রের নৌ-অবরোধ বন্ধ হবে না, ততক্ষণ পরিস্থিতির বড় কোনো উন্নতি হবে না।

পথের বাইরে প্রণালির ভবিষ্যৎ পরিচালনা নিয়েও আলোচনা হবে বলে ইঙ্গিত দেন বাঘাই। তার ভাষায়, কোনো নদী বা জলপথের বিষয়ে দুই তীরের দেশের সার্বভৌমত্ব, নিরাপত্তা, স্বার্থ ও সামুদ্রিক সেবা সব বিষয়ই বিবেচনা করতে হবে।

এর আগে ওমানের পক্ষ থেকে চুক্তি হওয়া নিয়ে আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল। এমনকি ইউরোপীয় মিত্ররা দক্ষিণাংশের পথ থেকে মাইন সরানোর প্রস্তুতি নিতে শুরু করেছিল। যার ফলে ইরান ও ইউরোপের মধ্যে সরাসরি সংঘাত বাধার আশঙ্কা ছিল। বাঘাই এর জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেই দায়ী করেন। 

তার দাবি, চুক্তির পঞ্চম ধারা অনুযায়ী যুদ্ধের আগের মতো জাহাজ চলাচল ফিরিয়ে আনার দায়িত্ব শুধু ইরানের। যুক্তরাষ্ট্র তা উপেক্ষা করে ওমানের জলসীমা দিয়ে দক্ষিণ দিকের পথ খুলে দিতে চাইছে। তিনি বলেন, এই পথ দিয়ে যারা যাচ্ছে তাদের বাধ্য করছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড। অনেক জাহাজের পেছনে যুদ্ধজাহাজও ছিল। ২১-২২ জুন যুক্তরাষ্ট্র ব্যাপক হামলা চালিয়ে পরে হঠাৎ বলল, প্রণালিতে কয়েকটি জাহাজ দেখা যাওয়ার ঘটনায় সবকিছু নাকি শেষ হয়ে গেছে।


এদিকে ইরানের সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী ‘বিশেষজ্ঞ পরিষদ’ সতর্ক করে বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কোনো ভরসা করা যাবে না। তাদের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অত্যাচারী রাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো চুক্তির আশা করা বৃথা। তবে প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেন, এই চুক্তিই ভবিষ্যতে তাদের পররাষ্ট্রনীতির মূল ভিত্তি হবে।

গার্ডিয়ার আরও জানায়, অন্যদিকে সৌদি আরব যখন মধ্যস্থতায় এগিয়ে এলো ঠিক তখনই তারা ইরানি সমর্থক বাহিনীর ওপর ইরাকে হামলা চালায় এবং ইয়েমেনের হুথিদের সঙ্গে বিবাদ বাড়ায়। এর পেছনে এক বড় কারণ হলো যুক্তরাষ্ট্রের সর্বাত্মক যুদ্ধ যেন মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ছড়িয়ে না পড়ে, সেই ভয়ে আছে সৌদি আরব।

সময়ের আলো/প্রিন্ট/জেডি 


  বিষয়:   ওমান  আলোচনা  ইরান  যুক্তরাষ্ট্র 


Loading...
Loading...
আন্তর্জাতিক- এর আরো খবর
Loading...
Loading...
© 2026 Daily Shomoyer Alo
ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক : সৈয়দ শাহনেওয়াজ করিম, আমিন মোহাম্মদ মিডিয়া কমিউনিকেশন লিমিটেড এর পক্ষে প্রকাশক মো. ফয়সাল রহমতউল্লাহ ফেরদৌস। নাসির ট্রেড সেন্টার, ৮৯, বীর উত্তম সি আর দত্ত সড়ক (সোনারগাঁও রোড), বাংলামোটর, ঢাকা।
ফোন : ৪১০৬২৩৬৮-৭৪, ফ্যাক্স : ৪১০৬২৩৭৫
সময়ের আলোর খবর পেতে ফলো করুন: